kalerkantho

বুধবার । ২২ মে ২০১৯। ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৬ রমজান ১৪৪০

দণ্ডিত বাংলাদেশিদের ব্রিটেনে অবস্থান

স্পর্শকাতর ইস্যু বলল যুক্তরাজ্য

প্রত্যাশিত সব বিষয়ে আলোচনা করেছি : ব্রিটিশ পররাষ্ট্রসচিব

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২৫ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাংলাদেশে দণ্ডিত অপরাধীদের ব্রিটেনে অবস্থান এবং তাদের ফেরত পাঠানোকে ‘স্পর্শকাতর ইস্যু’ বলে মন্তব্য করেছেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রসচিব স্যার সায়মন ম্যাকডোনাল্ড। গতকাল বুধবার ঢাকায় বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের স্ট্র্যাটেজিক সংলাপের পর এক অনুষ্ঠানে প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রসচিবকে করা প্রশ্নে যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বা দণ্ডিত অন্য কোনো বাংলাদেশির নাম উল্লেখ করা হয়নি। তাঁর কাছে একজন সাংবাদিকের প্রশ্ন ছিল, ‘যুক্তরাজ্যে বসবাসরত এ দেশে দণ্ডিত অপরাধীদের ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে রাজনৈতিক মহলে প্রত্যাশা আছে। আপনারা কি এ জন্য বহিঃসমর্পণ চুক্তি বা এ জাতীয় বিষয়ে আলোচনা করেছেন?’ জবাবে সায়মন ম্যাকডোনাল্ড বলেন, ‘আমি রাজনীতিবিদ নই। আমি একজন কর্মকর্তা। তবে আমি রাজনীতিবিদদের কাছ থেকে দু-একটি বিষয় শিখেছি। এর উদাহরণ হিসেবে বলব, যেসব ইস্যুতে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল সেসব বিষয়েই আমরা আলোচনা করেছি।’

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রসচিব গতকাল বিকেলে ঢাকায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়ায় প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সম্পর্ক’ শীর্ষক বক্তব্য দেন। বক্তব্য শেষে প্রশ্নোত্তর পর্বে একাধিকবার আসে দণ্ডিত বাংলাদেশিদের যুক্তরাজ্যে অবস্থান করার প্রসঙ্গ। সাবেক একজন রাষ্ট্রদূত বলেন, যুক্তরাজ্য বাংলাদেশ থেকে শিক্ষার্থীসহ অন্যদের যাওয়াকে উৎসাহিত করছে। এই সুযোগে কিছু অপরাধীও যাচ্ছে। যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের বেশ কজন দণ্ডিত অপরাধী আছে। বাংলাদেশেও অনেক সময় এ ধরনের ব্রিটিশরা থাকে। এ ক্ষেত্রে দুই দেশ কি সহযোগিতা করতে পারে? বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্য কি এ বিষয়ে আলোচনা করেছে?

জবাবে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রসচিব বলেন, ‘এটি একটি স্পর্শকাতর ইস্যু। এখনো ঢাকা ও লন্ডনের মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত নির্ঝঞ্ঝাটভাবে চলছে। আমাদের অনেক বিষয় আছে। সেগুলোর ৯০ ভাগেরও বেশি সন্তোষজনকভাবে নিষ্পত্তি হয়।’

বেক্সিট নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছা বা না পৌঁছা কিংবা প্রত্যাশিত সমঝোতা করতে না পারা—এ তিনটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক কেমন হবে জানতে চাইলে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রসচিব বলেন, ওই তিনটি ভিন্ন বিষয়। তাই তিনটি ক্ষেত্রে সম্পর্কের প্রভাবও ভিন্ন হবে। তবে যুক্তরাজ্যের লক্ষ্য, যাই হোক না কেন বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, চুক্তির মাধ্যমে ইইউ ছাড়াই সবচেয়ে ভালো। কারণ চুক্তি হলে তা আমাদের সম্পর্কের কাঠামো হিসেবে কাজ করবে।’

এদিকে গতকাল দুপুরে ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় বাংলাদেশের সঙ্গে তৃতীয় স্ট্র্যাটেজিক সংলাপে ২১ সদস্যের ব্রিটিশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ দপ্তরের ডিপ্লোম্যাটিক সার্ভিসের প্রধান ও পার্মানেন্ট আন্ডারসেক্রেটারি (পররাষ্ট্রসচিব) সায়মন ম্যাকডোনাল্ড। সংলাপে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হক।

বাংলাদেশ ও ব্রিটেনের পররাষ্ট্রসচিবরা স্ট্র্যাটেজিক সংলাপে নিজ নিজ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি নিজেরা একান্তে বৈঠক করেছেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে যুক্তরাজ্য থেকে ফিরিয়ে এনে আদালতের দেওয়া সাজা কার্যকরের জন্য বাংলাদেশ কয়েক বছর আগেই ব্রিটিশ সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে। গত বছর লন্ডনে দ্বিতীয় স্ট্র্যাটেজিক সংলাপের সময় তারেকের মতো দণ্ডিত ব্যক্তিদের ফেরাতে ‘এক্সট্রাডিশন’ (বহিঃসমর্পণ) চুক্তি সই করতে বাংলাদেশ আগ্রহ দেখিয়েছিল। তবে এ ধরনের অনুরোধের বিষয়ে ব্রিটিশ আদালতই যে সিদ্ধান্ত নেবেন এ মাসের শুরুতে স্পষ্ট জানিয়েছেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী মার্ক ফিল্ড।

সম্প্রতি ঢাকার একটি আদালত লন্ডনের ব্যাংকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তাঁর স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানের তিনটি অ্যাকাউন্ট জব্দের উদ্যোগ নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন। সায়মন ম্যাকডোনাল্ড তাঁর দুই দিনের বাংলাদেশ সফরের প্রথম দিন গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠ’র এক প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, ব্রিটিশ ব্যাংকগুলোর ওপর বাইরের কারো এখতিয়ার নেই।

মন্তব্য