kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ মে ২০১৯। ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৫ রমজান ১৪৪০

শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌ রুট

ফেরি সংকটে দুই পারে আটকা শত শত গাড়ি

চার দিন আগে ঘাটে আসা গাড়িও পার হওয়ার অপেক্ষায়

মো. মাসুদ খান, মুন্সীগঞ্জ    

২৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ফেরি সংকটে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌরুটে যানবাহন পারাপার বিঘ্নিত হচ্ছে চরমভাবে। এর প্রভাবে পদ্মার দুই পারে ঘাটে প্রতিনিয়ত যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের। পণ্যবাহী ট্রাক দিনের পর দিন ঘাটে আটকা পড়ে থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

কয়েক দিন ধরে ঘাটে আটকা পড়েছে কয়েক শতাধিক যানবাহন। আটকে থাকা পণ্যবাহী ট্রাকের চালক ও শ্রমিকদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। যেকোনো সময় তারা ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক বন্ধ করে দিয়ে আন্দোলন শুরু করতে পারে। গতকাল মঙ্গলবার ক্ষুব্ধ চালক-শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে এমন আভাস পাওয়া গেছে।

সরেজমিনে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের শিমুলিয়া ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, পারাপারের অপেক্ষায় কয়েক শ যানবাহন অপেক্ষা করছে ঘাটের পার্কিং ইয়ার্ডে। বিশাল এই পার্কিং ইয়ার্ডের কোথাও জায়গা খালি নেই। প্রতিদিন যে পরিমাণ পণ্যবাহী ট্রাক এই রুটে ফেরি পারাপারের জন্য আসছে তার সামান্যই ফেরি পার হতে পারছে। ফলে যানজট দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। আর এই যানজটের মূল কারণ এই নৌ রুটে ফেরিস্বল্পতা।

নদী পার হওয়ার অপেক্ষায় থাকা ট্রাকচালক সুজন সরদার বললেন, ‘তিন দিন আগে নারায়ণগঞ্জ থেকে শিমুলিয়া ঘাটে এসেছি। খুলনায় যাব। ট্রাকে ১৬ টন চিনি রয়েছে। প্রচণ্ড রোদে চিনি গলে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। অথচ আটকে আছি ঘাটে। কখন ফেরিতে উঠতে পারব জানি না। ওদিকে মহাজনের গালি খেতে হচ্ছে।’ আরেক ট্রাকচালক রবিউল ইসলাম বললেন, ‘২১ তারিখ দুপুরে শিমুলিয়া ঘাটে আইছি। এখনো সিরিয়াল পাই নাই। কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বললে তারা বলে, এখনো সিরিয়াল আসেনি। সিরিয়াল পাওয়া নিয়ে আমার সাথে এক ট্রাক ড্রাইভারের কথা-কাটাকাটি থেকে হাতাহাতিও হয়ে গেছে।’

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থার (বিআইডাব্লিউটিসি) ম্যানেজার মেরিন এ কে এম শাহজাহান জানান, দুই মাস ধরেই ঘাটে ফেরি সংকট চলছে।  এই নৌ রুটে চলাচলরত মোট ১৭টি ফেরির মধ্যে বর্তমানে চলাচল করছে ১১টি। বাকি ছয়টি মেরামত ও সার্ভিসিংয়ের জন্য ডকইয়ার্ডে নেওয়া হয়েছে।

এ কে এম শাহজাহান আরো জানান, রো রো ফেরিতে প্রতি ট্রিপে ৩০/৪০টি যানবাহন পারাপার করা যায়। কিন্তু এই রুটে থাকা তিনটি রো রো ফেরির মধ্যে দুটিই মেরামতের জন্য ডকে নেওয়া হয়েছে। ফলে প্রতিদিন চার শতাধিক গাড়ি কম পারাপার হচ্ছে। মেরামতের জন্য কে-টাইপ এবং ডাম্প ফেরির সংখ্যাও কম থাকায় ঘাটে ফেরি সংকট প্রকট হয়েছে। তাই যানজট বেড়েছে।

কবে নাগাদ ফেরিগুলো বহরে ফিরে আসবে তা নিশ্চিত করতে না পারলেও এই কর্মকর্তা বলেন, ঈদের আগে অবশ্যই ফেরিগুলো বহরে ফিরবে। আসন্ন ঈদে ফেরি পারাপারে যাত্রীদের যাতে দুর্ভোগ পোহাতে না হয় সে জন্য আগে থেকেই ফেরিগুলো সার্ভিসিং ও মেরামতের জন্য ডকে পাঠানো হয়েছে।

মন্তব্য