kalerkantho

বুধবার । ২২ মে ২০১৯। ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৬ রমজান ১৪৪০

রানা প্লাজার সামনে ভাঙা হৃদয়ে অনশনে হৃদয়

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার (ঢাকা)   

২৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আজ রানা প্লাজা ধসের ষষ্ঠ বছর পূর্তি। দিনটিকে সামনে রেখে সেই দিনের বিভীষিকা থেকে প্রাণে বেঁচে গেলেও ক্রাচে ভর দিয়ে জীবনযুদ্ধ চালিয়ে নেওয়া এক শ্রমিক অনশনে বসেছেন। রানা প্লাজা ধসে ক্ষতিগ্রস্ত সবার ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন, নিহতদের স্মৃতি রক্ষার্থে স্মৃতিসৌধ নির্মাণ, দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করাসহ ১১ দফা দাবিতে তাঁর এ অনশন। ধসে পড়া রানা প্লাজার সামনে ব্যানার টানিয়ে সোমবার বিকেল থেকে অনশনে আছেন মাহমুদুল হাসান হৃদয়। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত হৃদয় অনশন চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন।

অনশনরত হৃদয় কালের কণ্ঠকে জানান, ঘটনার ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও রানা প্লাজায় ক্ষতিগ্রস্ত ও তাঁর স্বজন অনেক শ্রমিক সঠিক ক্ষতিপূরণ থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন। এ ছাড়া যাদের কারণে এত বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে সেই ভবন মালিকসহ জড়িত অন্যদেরও বিচারকাজ বিলম্বিত করা হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়েই এবার রানা প্লাজা ধসের ছয় বছর পূর্তি উপলক্ষে তিনি নিজ উদ্যোগেই অনশনে বসেছেন। যত দিন পর্যন্ত তাঁর ১১ দফা দাবি পূরণ না হবে তত দিন তিনি এই অনশন চালিয়ে যাবেন। আর যদি কেউ তাঁর সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে অনশনে অংশগ্রহণ করতে চায় তাহলে তিনি তাকে বা তাদের স্বাগত জানাবেন।

হৃদয় বলেন, ‘একা ভালোভাবে বাঁচার স্বপ্ন দেখি না। সেদিন রানা প্লাজা ধসে যারা আহত হয়েছিল, তারা যেন একটু ভালোভাবে বেঁচে থাকতে পারে এ জন্য আমার এ অনশন। আমি ব্যক্তিগতভাবে আহতদের পরিবারের খোঁজ নেই। বিপদে যতটুকু পারি সাহায্য করি। কোনো পরিবারে চাল কেনার টাকা না থাকলে চাল কিনে দেই। বাচ্চার জন্য দুধ কেনার টাকা না থাকলে দুধ কিনে দেই। একা সবাইকে সাহায্য করা কঠিন। সে জন্য প্রয়োজন সরকারের অনুগ্রহ।’

অনশনরত মাহমুদুল হাসান হৃদয় (৩২) রানা প্লাজার অষ্টম তলায় নিউ ওয়েভ স্টাইলে অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন। তিনি রানা প্লাজা ধসে পড়ার মাত্র তিন দিন আগে ২১ এপ্রিল বিয়ে করেছিলেন ইয়াসমিন আক্তার ইতিকে। কিন্তু তিন দিন পরই মুছে যায় তাঁর জীবনের সব রং। ঘটনার তিন-চার মাস পর তাঁর স্ত্রী তাঁকে ছেড়ে চলে যান। রানা প্লাজার ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে পা হারিয়ে তিনি এখন ক্রাচে ভর করে চলাফেরা করেন এবং অনেকটাই নিঃসঙ্গ জীবন কাটাচ্ছেন।

 

মন্তব্য