kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ মে ২০১৯। ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৫ রমজান ১৪৪০

‘বন্দুকযুদ্ধে’ তিন ইয়াবা কারবারি ও এক ছিনতাইকারী নিহত

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৩ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানা এবং কক্সবাজারের টেকনাফে র‌্যাব, বিজিবি ও পুলিশের সঙ্গে পৃথক ‘বন্দুকযুদ্ধে’র ঘটনায় তিন ইয়াবা কারবারি ও এক ছিনতাইকারী নিহত হয়েছে। ইয়াবা কারবারিদের মধ্যে দুজন রোহিঙ্গা রয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

বিস্তারিত আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে :

টেকনাফ (কক্সবাজার) : টেকনাফের বাহারছড়া মেরিন ড্রাইভের পাশে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ গত রবিবার মহিউদ্দীন নামে এক ইয়াবা কারবারি নিহত হয়েছে। সে বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ির কম্বানিয়া গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে।

কক্সবাজারে নবগঠিত র‌্যাব ১৫-এর উপ-অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম জানান, রবিবার ভোরে বাহারছড়া এলাকায় র‌্যাবের টহল দলের সঙ্গে একদল ইয়াবা কারবারির গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ এক যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার করে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ১০ হাজার পিস ইয়াবা, একটি সিএনজি, দেশে তৈরি এলজি ও কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।

এদিকে টেকনাফের হোয়াইক্যং কেরুণতলী সীমান্তে গতকাল সোমবার বিজিবির সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই রোহিঙ্গা ইয়াবা কারবারি নিহত হয়েছে। নিহতরা হলো উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের থাইংখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সাইফুল ইসলাম ও ১৯  নম্বর ক্যাম্পের ফারুক হোসেন।

জানা যায়, টেকনাফের হোয়াইক্যং কেরুণতলী সীমান্তে গতকাল ৩৪ বিজিবির একটি টহল দল পাহারা দিচ্ছিল। এ সময় সন্দেহ হওয়ায় তারা দুই রোহিঙ্গা ইয়াবা কারবারিকে থামার নির্দেশ দেয়। কিন্তু তারা বিজিবির নির্দেশ অমান্য করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় বিজিবি তাদের ধাওয়া করলে তারা বিজিবিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। বিজিবিও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালালে ওই দুই রোহিঙ্গা গুলিবিদ্ধ হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দুই রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করে টেকনাফ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

কক্সবাজার ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল আলী হায়দার আজাদ আহমেদ জানান, বিজিবির সঙ্গে রোহিঙ্গা ইয়াবা কারবারিদের গোলাগুলির ঘটনায় দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছে। তারা দুজনই উখিয়া উপজেলায় অবস্থিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাসরত রোহিঙ্গা নাগরিক।

টেকনাফ হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ দীপংকর কর্মকার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে ২০ হাজার পিস ইয়াবা, কিরিচ, রামদা ও লোহার রড উদ্ধার করা হয়েছে। লাশ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।’

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালি থানার কলাবাগিচা এলাকায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মো. ওয়াসিম (৩৭) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আসামিদের ছোড়া ইটপাটকেলের আঘাতে কোতোয়ালি থানার সহকারী উপপরিদর্শকসহ সাতজন আহত হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকেলে এসব ঘটনা ঘটে।

নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (দক্ষিণ) শাহ মো. আবদুর রউফ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘১৪ মামলার আসামি মোহাম্মদ ওয়াসিম ও তার সহযোগিদের ধরতে কোতোয়ালি থানা-পুলিশ গতকাল অভিযান চালায়। এই সময় সন্ত্রাসীরা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ গুলি চালালে ওয়াসিম নিহত হয়।’

কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মহসিন বলেন, ‘ঘটনার পর ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আরেক সহযোগী সাজ্জাদ প্রকাশ রাজুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিহত ওয়াসিম অনেক ছিনতাই মামলার আসামি। তার ভাইদের বিরুদ্ধেও ছিনতাই ও চাঁদাবাজির একাধিক মামলা আছে।’

মন্তব্য