kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ মে ২০১৯। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৭ রমজান ১৪৪০

ইয়াবা রোধে ব্যাপক তৎপর বিজিবি, মিলছে সাফল্য

সীমান্তে ক্যামেরায় ধরা পড়ছে মাদক কারবারি
নজরদারির আওতায় সৈনিকরাও, ছয় মাস অন্তর বদলি

ওমর ফারুক   

২৩ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ইয়াবা পাচার রোধে মিয়ানমারের সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় ব্যাপক নজরদারি শুরু করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে কক্সবাজারের টেকনাফ এলাকাকে। টহল বাড়ানোর পাশাপাশি বসানো হয়েছে ক্যামেরা। উন্নত প্রযুক্তির এই ক্যামেরায় ধরা পড়ছে রাতের ছবিও। কোনো সৈনিক লোভে পড়ে ইয়াবা কারবারিদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলছে কি না তা-ও নজরদারি করা হচ্ছে। এমনকি ছয় মাস পর পর বাহিনীর সদস্যদের কর্মস্থলও বদল করা হচ্ছে।

বিজিবির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। এক কর্মকর্তা জানান, অত্যাধুনিক ক্যামেরা স্থাপন করায় সীমান্তে নজরদারি অনেকটাই নিশ্ছিদ্র হয়ে এসেছে। কারণ এতে রাতের চিত্রও পরিষ্কারভাবে ধরা পড়ে। থার্মাল ইমেজার ক্যামেরা দিয়ে রাতেও দিনের মতো চিত্র পাওয়া যায়। এমনকি অধিক তাপমাত্রা বা ধোঁয়ার মাঝেও ছবি তুলতে সক্ষম এই থার্মাল ইমেজার ক্যামেরা। ক্যামেরা বসানোর পর অনেক ইয়াবা কারবারিকে আটক করা গেছে। তাদের কাছ থেকে জব্দ করা সম্ভব হয়েছে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা। ২০১৮ সালে বিজিবি সীমান্ত এলাকা থেকে এক কোটি ২৬ লাখ ৫৮ হাজার ৫১৮ পিস ইয়াবা জব্দ করতে সক্ষম হয়েছে। তার পরও ধারণা করা হয়, জব্দ ইয়াবা মোট পাচারের অর্ধেকেরও কম।

সূত্র জানায়, ভয়ংকর মাদক ইয়াবা পাচার বন্ধে বিজিবির শক্তিশালী গোয়েন্দা বাহিনীও ব্যাপক তৎপর। গোয়েন্দাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে চালানো হচ্ছে সাঁড়াশি অভিযান। ধরা পড়ছে ইয়াবা কারবারি। জব্দ হচ্ছে ইয়াবার চালান। বিজিবির ইয়াবা উদ্ধারের পরিসংখ্যানেই ইয়াবা পাচারের ভয়াবহতা ফুটে উঠেছে।

জানতে চাইলে বিজিবির অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন ও প্রশিক্ষণ) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খন্দকার ফরিদ হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ইয়াবার বিষয়ে জিরো টলারেন্স নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। ডিজি মহোদয়ের নির্দেশে পুরো সীমান্ত এলাকায় বিশেষ নজরদারি করা হচ্ছে। যেখানেই সন্দেহজনক কিছু মনে হচ্ছে সেখানেই চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি করছে বিজিবি।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বাহিনীর সদস্যরা যাতে ইয়াবা কারবারে জড়াতে না পারে সে জন্য ভেতরেও নজরদারি রয়েছে।’

বিজিবি সূত্র জানায়, ইয়াবা রোধে বিশেষ উদ্যোগের অংশ হিসেবে গোয়েন্দা ইউনিটকে শক্তিশালী করা হয়েছে। নিজ বাহিনীর সদস্যদের ওপর নজর রাখা হচ্ছে, যাতে কেউ ইয়াবা কারবারে জড়াতে না পারে। কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলেই নেওয়া হচ্ছে ব্যবস্থা। কোনো সৈনিককে ছয় মাসের বেশি এক স্থানে রাখা হচ্ছে না। প্রয়োজন হলেই অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন করা হচ্ছে সীমান্তে। কোনো এলাকাকে সন্দেহ হলেই বসানো হচ্ছে চেকপোস্ট। হঠাৎ বিজিবির ডিজি থেকে শুরু করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ভিজিটে গিয়ে পরিস্থিতি দেখছেন। এ ছাড়া ভিডিও কনফারেন্স হচ্ছে ঢাকার সঙ্গে সীমান্ত কর্মকর্তাদের।

বিজিবির এক কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমারের ২৭১ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। এর মধ্যে নাফ নদ এলাকায় রয়েছে ৬৩ কিলোমিটার। পুরো এলাকা থার্মাল ক্যামেরার আওতায় আনা হলে যেকোনো ধরনের পাচার রোধে আরো কার্যকরী ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

সূত্র জানায়, ২০০৯ সালে বিজিবির অভিযানে ৭৫ হাজার ৪২৭ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। এর পরের বছর সাত লাখ ৭০ হাজার ৬৪১ পিস, ২০১১ সালে চার লাখ ৩৭ হাজার ৯৯১ পিস, ২০১২ সালে আট লাখ ৪০৩ পিস, ২০১৩ সালে ১০ লাখ ৮২ হাজার ৫৪৮ পিস, ২০১৪ সালে ২৫ লাখ ৩৫ হাজার ৭১৮ পিস, ২০১৫ সালে ৫২ লাখ ১২ হাজার ৮৫৭ পিস, ২০১৬ সালে ৮১ লাখ ৬৯ হাজার ২৬৭ পিস, ২০১৭ সালে এক কোটি ৪৯ লাখ ৯৭ হাজার ৫৭০ পিস, ২০১৮ সালে এক কোটি ২৬ লাখ ৫৮ হাজার ৫১৮ পিস ইয়াবা জব্দ করে। আর চলতি বছরে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত ১৩ লাখ ৭২ হাজার ৪২৫ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে।

মন্তব্য