kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ মে ২০১৯। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৭ রমজান ১৪৪০

চাঁদপুরে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস শোনালেন মিত্রবাহিনীর এক ছত্রিসেনা

চাঁদপুর প্রতিনিধি   

২৩ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সদস্য ছিলেন সুকৃতি কর্মকার বাচ্চু। যুদ্ধের শেষ সময়ের কিছু আগে ছত্রিসেনা বা প্যারাট্রুপার হিসেবে ৬ ডিসেম্বর সহযোদ্ধাদের সঙ্গে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন তিনি। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় শত্রু বাহিনীকে মোকাবেলা করে রাজধানী ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে পৌঁছেন ১৬ ডিসেম্ব্বর ভোরে। ওই দিন পাকিস্তানি সেনা সদস্যরা আত্মসমর্পণ করেন।

মেঘনাপারের জনপদ চাঁদপুরে ছিল সুকৃতি কর্মকারের পৈতৃক বাড়ি। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের সময় সুকৃতি কর্মকার তাঁর পরিবারের সঙ্গে চলে যান ভারতের আসানসোলে। তাঁর বাবা ছিলেন মনোরঞ্জন কর্মকার এবং মা হরপ্রিয়া কর্মকার। ১০ ভাইবোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট।

সম্প্রতি প্রাণের টানে ও নিজ জন্মস্থান চাঁদপুর শহর ঘুরে দেখতে স্ত্রীকে নিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন সুকৃতি কর্মকার। রবিবার বিকেলে শহরের বড়স্টেশন এলাকার তিন নদীর মোহনা ঘুরে দেখেন তিনি। এ সময় তিনি ফিরে যান, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিতে। উপস্থিত জনতার সামনে তুলে ধরেন, কিভাবে ভারতীয় মিত্রবাহিনী বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছিল। জানালেন, পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে তাঁদের যুদ্ধের কথা। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের এত উন্নতি দেখে সুকৃতি কর্মকার ও তাঁর স্ত্রী কনিকা কর্মকার অভিভূত হন।

চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, ‘সুকৃতি কর্মকার আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন কিংবদন্তি। তাঁর কাছ থেকে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জানতে পারা আসলেই খুব আনন্দের ব্যাপার।’ চাঁদপুরের বিশিষ্ট সংগঠক মাহামুদ হাসান খান বলেন, ‘বিদেশি বন্ধু রাষ্ট্রের এমন এক যোদ্ধার কাছ থেকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও দেশের সুনাম শুনে বাংলাদেশের প্রতি আমাদের দরদ এবং দায়িত্ব আরো বেড়ে গেল।’

এ সময় অন্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহিদ পারভেজ চৌধুরী, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা বাবু, সাংবাদিক ফারুক আহম্মদ, চাঁদপুর পৌরসভার নারী কাউন্সিলার ফরিদা ইলিয়াস প্রমুখ।

মন্তব্য