kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ মে ২০১৯। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৭ রমজান ১৪৪০

কৃত্রিম পা লাগাতে বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতি সেই নিপার

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি   

২৩ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



যশোরের শার্শার নাভারণে সড়ক দুর্ঘটনায় পা হারানো মেধাবী স্কুলছাত্রী মিফতাহুল জান্নাত নিপার স্বাভাবিক হাঁটাচলা নিশ্চিত করতে কৃত্রিম পা সংযোজন করা হচ্ছে। এ জন্য তাকে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

তার শারীরিক অবস্থা এখন উন্নতির দিকে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। সব শেষ গত ৯ এপ্রিল যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিপার ডান হাত ও বাঁ পায়ের গোড়ালিতে সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে।

হাসপাতালের অর্থো সার্জারি বিভাগের প্রধান প্রফেসর ডা. গোলাম ফারুক বলেন, ‘নিপার ক্ষতগুলো শুকাতে শুরু করেছে। তার ডান হাত ও বাঁ পায়ের সফল অপারেশন হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে সে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে কৃত্রিম পা দিয়ে আগের মতো চলাফেরা করতে পারবে।’

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল কালাম আজাদ জানান, নিপার যাবতীয় খরচ হাসপাতাল ও জেলা প্রশাসক বহন করছেন। এ ছাড়া রোগীর স্বজনদের কাছে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন সহযোগিতা পাঠিয়েছে। এখন কৃত্রিম পা লাগানোর জন্য তাকে বিদেশে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। এর বেশির ভাগ খরচ জেলা প্রশাসক ও কিছু খরচ স্বজনরা বহন করবেন। ইতিমধ্যে নিপা ও তার মা-বাবার পাসপোর্ট করতে দেওয়া হয়েছে। পাসপোর্ট হাতে পেলে এবং নিপা আর একটু সুস্থ হয়ে উঠলে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে।’

প্রসঙ্গত, গত ২০ মার্চ স্কুলে যাওয়ার পথে বাগেরহাটের রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি পিকআপ গাড়ির চাপায় গুরুতর আহত হয় বুরুজবাগান পাইলট বালিকা বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী নিপা। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসকরা তার ডান পা কেটে ফেলতে বাধ্য হন। বিষয়টি নিয়ে মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশের পর নিপার উন্নত চিকিৎসার জন্য এগিয়ে আসেন জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়ালসহ বিভিন্ন সংগঠন ও রাজনৈতিক ব্যক্তি। নিপা শার্শার দক্ষিণ বুরুজবাগান গ্রামের রফিকুল ইসলাম ও মুসলিমা বেগমের একমাত্র মেয়ে।

নিপার বাবা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মেয়ে এখন আগের তুলনায় ভালো আছে। হাত ও বাঁ পায়ের অপারেশন এখানেই করেছেন চিকিৎসকরা। এখন কৃত্রিম ডান পা লাগানোর কথা ভাবা হচ্ছে। সে জন্য জেলা প্রশাসক সহযোগিতা করছেন। পাসপোর্ট হাতে পেলে বিদেশে নিয়ে উন্নত প্রক্রিয়ায় নিপার কৃত্রিম পা সংযোজন করা হবে। এতে যা খরচ হবে সেই টাকাও জেলা প্রশাসন থেকে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।’

মন্তব্য