kalerkantho

রবিবার । ২৬ মে ২০১৯। ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২০ রমজান ১৪৪০

ডিএনএ আইন কার্যকর হয়নি পাঁচ বছরেও

জনবল নিয়োগে দীর্ঘসূত্রতা

নিখিল ভদ্র   

২৩ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অপরাধী চিহ্নিত করা, পিতৃত্ব-মাতৃত্ব নিরূপণ ও মৃতদেহ শনাক্ত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ সহজ করতে ২০১৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে ‘ডিঅক্সিরাইবো নিউক্লিক এসিড (ডিএনএ) বিল-২০১৪’ পাস হয়। এর পর পাঁচ বছর পার হলেও আইনটি এখনো কার্যকর করা যায়নি। আইনানুযায়ী একটি অধিদপ্তর গঠন করা হলেও জনবল নিয়োগ নিয়ে চলছে দীর্ঘসূত্রতা। আর জাতীয় ডিএনএ ডাটা বেইস তৈরির কাজও চলছে ধীরগতিতে।

ডিএনএ আইনের ২০(১) ধারা অনুযায়ী, ২০১৪ সালেই মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় ডিএনএ ল্যাবরেটরি ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর গঠনের কার্যক্রম শুরু করে। অধিদপ্তরের কার্যক্রম পরিচালনায় একজন মহাপরিচালক, একজন পরিচালক, দুজন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, একজন উপপরিচালক, চারজন ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাসহ ৯২টি পদ সৃষ্টি করা হয়। এরপর জনবলের বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও ওষুধ প্রশাসন বিভাগের অনুমোদন নেওয়া হয়। তারপরও এখনো পর্যন্ত জনবল নিয়োগ ও অন্যান্য কার্যক্রম শুরু করা যায়নি।

সংসদীয় কমিটি সূত্রে জানা যায়, ডিএনএ আইনের কার্যকারিতা নিয়ে গত বৃহস্পতিবার মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভায় আলোচনা হয়। আইন বাস্তবায়নের ধীরগতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে কমিটি। পরে এ বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে পাঁচ সদস্যের একটি সাবকমিটি গঠন করা হয়। ডা. মো. আব্দুল আজিজকে আহ্বায়ক করে কমিটির সদস্য করা হয়েছে এ এম নাঈমুর রহমান, বেগম শবনম জাহান, বেগম লুৎফুন নেসা খান ও সৈয়দা রাশিদা বেগমকে।

আব্দুল আজিজ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ডিএনএ আইনটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ এবং এর বিশ্লেষণপ্রক্রিয়া ও পদ্ধতি নির্ধারণ, ডিএনএ নমুনা ও প্রফাইলের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবরেটরি স্থাপন, জাতীয় ডিএনএ ডাটা বেইস প্রতিষ্ঠার জন্য এ আইনটি করা হলেও এখনো জনগণ এর সুফল পাচ্ছে না। সাবকমিটি এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়ন করবে।

সংসদীয় কমিটির বৈঠকে উত্থাপিত কার্যপত্রে বলা হয়েছে, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাল্টিসেক্টরাল প্রকল্পের অধীন এরই মধ্যে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে ন্যাশনাল ফরেনসিক ডিএনএ প্রফাইলিং ল্যাবরেটরি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। সেখানে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে ধর্ষণ, হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থাকে সহায়তা করা হয়। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সহায়তা ছাড়াও বহুল আলোচিত তাজরীন ফ্যাশনসে অগ্নিকাণ্ডে ও রানা প্লাজা ধসে নিহত অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের মৃতদেহ শনাক্ত করেছে এ ল্যাবরেটরি। ২০০৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ১৪ হাজার ৬৯৫টি নমুনা সংগ্রহ করে ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়েছে।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব আবুল কালাম আজাদ স্বাক্ষরিত এক কার্যপত্রে বলা হয়েছে, দেশব্যাপী নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের সহায়তার জন্য রাজশাহী, চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল, খুলনা, রংপুর ও ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বিভাগীয় স্ফিনিং ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হয়েছে। ল্যাবরেটরিগুলো দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে মামলার নমুনা সংগ্রহ করে ন্যাশনাল ফরেনসিক ডিএনএ প্রফাইলিং ল্যাবরেটরিতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠায়। ডিএনএ অধিদপ্তর ও জাতীয় ডিএনএ ডাটা বেইস প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ন্যাশনাল ফরেনসিক ডিএনএ প্রফাইলিং ল্যাবরেটরি থেকে করা ডিএনএ প্রফাইলের চারটি ইনডেক্সের সমন্বয়ে জাতীয় ডিএনএ ডাটা বেইস প্রতিষ্ঠা করার কথা। কিন্তু এখনো এ ডাটা বেইস প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি। জাতীয় ডিএনএ ডাটা বেইস প্রতিষ্ঠিত হলে অপরাধী শনাক্ত ও দ্রুত মামলার নিষ্পত্তি হবে। এতে মামলার তদন্তের সময় কমে যাবে।

ডিএনএ প্রফাইলের মাধ্যমে ধর্ষণ, হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধের অপরাধী শনাক্ত, পিতৃত্ব-মাতৃত্ব, ভাই-বোনের সম্পর্ক নির্ধারণ, বিদেশে অভিবাসী হতে ইচ্ছুকদের প্রয়োজনীয় ডিএনএ পরীক্ষা, বংশের ধারা এবং বিচ্ছিন্ন-বিকৃত মরদেহ শনাক্ত করা যায়।

মন্তব্য