kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ মে ২০১৯। ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৫ রমজান ১৪৪০

কাপড়ের রং দিয়ে আইসক্রিম!

জমজম আইসক্রিম কারখানা সাময়িক বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মিরপুর স্টেডিয়ামসংলগ্ন এলাকার শিয়ালবাড়ি মোড়ে জমজম আইসক্রিম কারখানায় তৈরি হয় লাল, সবুজ, নীলসহ নানা রঙের আইসক্রিম। মাঝারি আকারের ওই কারখানায় বানানো আইসক্রিম মোটেও স্বাস্থ্যসম্মত নয়। নিষিদ্ধ নানা উপাদান ব্যবহার করা হয় আইসক্রিমে। সে কারণে কারখানাটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

গতকাল শনিবার অধিদপ্তরের ঢাকা জেলা অফিসের সহকারী পরিচালক আব্দুল জব্বার মণ্ডলের নেতৃত্বে একটি দল অভিযান পরিচালনা করে কারখানাটিতে। কর্মকর্তারা সেখানে গিয়ে দেখতে পান খালি হাতে আইসক্রিম প্যাকেটজাত করা হচ্ছিল। কর্মীদের হাতও বেশ নোংরা। এ ছাড়া আইসক্রিমে ব্যবহৃত রং পরীক্ষা করে দেখা যায় সেগুলো কাপড়ে ব্যবহারের রং, যা খাওয়ার উপযোগী নয় মোটেই।

অভিযান পরিচালনাকারী এক কর্মকর্তা দুই হাতে সবুজ রং ঘষে নিলেন। কিন্তু পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলার পরও হাত থেকে উঠছিল না সেই রং। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, খাবারে ব্যবহার উপযোগী রং হলে একবার ধুয়ে ফেলার সঙ্গে সঙ্গেই তা উঠে যেত।

ওই কারখানায় আইসক্রিম মিষ্টি করার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছিল স্যাকারিন বা ঘন চিনি। চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকায় খাদ্যে ঘন চিনি ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ।

খাদ্যে নিষিদ্ধ দ্রব্যের মিশ্রণ ব্যবহারের কারণে কারখানাটিকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কারখানার মালিককে ডাকা হয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে। ওই সব নিষিদ্ধ দ্রব্য ব্যবহার করার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। কারখানাটি পুনরায় চলতে দেওয়া হবে কি না সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে মালিকের সঙ্গে বৈঠক শেষে।

আব্দুল জব্বার মণ্ডল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রচুর আইসক্রিম খায় আমাদের শিশুরা। তাদের যদি এসব ক্ষতিকর খাবার খাওয়ানো হয় তাহলে তো ভয়াবহ অবস্থা তৈরি হবে। শিশুসহ সবাই মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়বে।’ তিনি বলেন, ‘কারখানাটির কোনো ব্যবস্থাই ঠিক ছিল না। রং, নিষিদ্ধ ঘন চিনি, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ—এসব কারণে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

জানা গেছে, কারখানাটিতে যেসব আইসক্রিম তৈরি হচ্ছিল সেগুলোর প্যাকেটের গায়ে উৎপাদন ও মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার তারিখ ছিল না।

গতকাল একই এলাকার একটি দোকানে অভিযান চালিয়ে পচা মিষ্টি ও কমলা রাখার অপরাধে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

মন্তব্য