kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ মে ২০১৯। ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৫ রমজান ১৪৪০

রংপুরে গণশুনানি

হয়রানিসহ ঘুষ বাণিজ্য করছে বিআরটিএ

রংপুর অফিস   

২১ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রংপুরে গতকাল শনিবার অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে রংপুরের সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। পাশাপাশি রংপুর ও দিনাজপুরে বিআরটিএ গাড়ির ফিটনেস ও চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্সের নামে হয়রানিসহ ঘুষ বাণিজ্য, রাস্তায় ট্রাকের কাগজ তল্লাশির নামে পুলিশের বাণিজ্য, বৃক্ষরোপণের নামে সরকারি অর্থ লোপাট, সওজের গাড়ি মেরামতের নামে লুটপাটসহ নানা অভিযোগ উঠে আসে।

সওজ অধিদপ্তর রংপুর জোন, বিআরটিএ রংপুর ও বিআরটিসি রংপুর ডিপোর কার্যক্রম সম্পর্কে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে অংশ নিয়ে সাধারণ মানুষ, ঠিকাদার, বিআরটিএ ও বিআরটিসিতে কর্মরত কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্টরা বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরে। ১৯ জনের মধ্যে ১৪ জনই কথা বলে বিআরটিসি সম্পর্কে।

সওজ রংপুর বিভাগীয় কার্যালয় চত্বরে গণশুনানিতে সভাপতিত্ব করেন সওজ বিভাগের সচিব নজরুল ইসলাম। তিনি বিভিন্ন অভিযোগের জবাব দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। আরো বক্তব্য দেন সওজ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী ইবনে আলম হাসান, অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) বেলায়েত হোসেন, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) আব্দুল মালেক প্রমুখ। রংপুর জোনের অধীন আট জেলার কর্মকর্তারা গণশুনানি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

গণশুনানিতে বিআরটিসি দিনাজপুরের ব্যবস্থাপক (অপারেশন) জুলফিকার আলী অভিযোগ করেন, রংপুরের বিআরটিসির গাড়ি চালাতে বাস মালিক সমিতির অনুমতি লাগে। তাদের বাধায় সড়কে গাড়ি নামানো যায় না। এ ছাড়া দায়িত্ব নিয়েও ঠিকমতো সংরক্ষণ না করায় গাড়িগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বলেন, বিভাগীয় নগর রংপুরে সিটি বাস সার্ভিস হিসেবে বিআরটিসি এখন সময়ের দাবি। কিন্তু বিআরটিসি নিজেই এখন বেহাল। এ ছাড়া নছিমন-করিমন মহাসড়ক দাপিয়ে বেড়ালেও সেদিকে নজর নেই। সড়কে গাড়ি নামলেই কাগজ দেখার নামে মোড়ে মোড়ে হয়রানি করে পুলিশ।

সড়ক ও জনপথের ঠিকাদার সোহরাব আলী বলেন, ‘হাতে গোনা দু-তিনজন ঠিকাদার প্রায় সব কাজ করছেন। আমরা তাঁদের সঙ্গে কোনোভাবেই পেরে উঠছি না।’

বিভিন্ন অভিযোগের কথা শুনে এসব ব্যাপারে শিগগিরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও সড়কে উন্নয়নমূলক কাজ যথাসময়ে শেষ করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন সচিব। অন্যদিকে নিরাপদ সড়ক গড়ে তোলার জন্য সড়কের দুই পাশে উপযুক্ত স্থানে পর্যাপ্তসংখ্যক সাইন, সিগন্যাল, জেব্রাক্রসিং এবং অন্যান্য নির্দেশনামূলক চিহ্ন বসানোর ওপর জোর দেন সড়ক পরিবহন সচিব। তিনি বলেন, নতুন আরো ৬০০ বাস যুক্ত হচ্ছে। এগুলো পাওয়া সাপেক্ষে বরাদ্দ দেওয়া হবে।

এলেঙ্গা থেকে রংপুর পর্যন্ত চার লেন সড়কের কাজ শুরু হয়েছে উল্লেখ করে সচিব নজরুল ইসলাম বলেন, পর্যায়ক্রমে এ সড়ক ছয় লেনে উন্নীত হবে।

মন্তব্য