kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ মে ২০১৯। ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৫ রমজান ১৪৪০

সেমিনারে তথ্য

দূষণেও এগিয়ে পোশাকশিল্প

বেশির ভাগ কারখানা নদীর তীরে অবস্থিত হওয়ায় বর্জ্য নদীতে ফেলা হয়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দূষণেও এগিয়ে পোশাকশিল্প

কলকারখানার বিষাক্ত বর্জ্য ও ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে গেছে তুরাগ নদের বেশির ভাগ অংশ। ছবিটি গতকাল টঙ্গী বাজার এলাকা থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

বিশ্বব্যাপী তিন ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাণিজ্য খাত হচ্ছে পোশাকশিল্প। আবার পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম দূষণকারী খাতও পোশাকশিল্প। এ ছাড়া পানি ব্যবহারের দিক থেকেও বিশ্বের দ্বিতীয় খাত এটি। এই একটি খাত থেকেই বিশ্বের ২০ শতাংশ বর্জ্য পানি এবং ১০ শতাংশ কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ হয়।

গতকাল শনিবার রাজধানীতে আয়োজিত ‘ভয়েসেস অ্যান্ড সল্যুশনস’ শীর্ষক সেমিনারে এ তথ্য তুলে ধরেন অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির। ব্র্যাক সেন্টারে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করে অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ ও ফ্যাশন রেভল্যুশন।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধে বলা হয়, কারখানার সব ক্ষেত্রে যেমন—কাটা, বয়ন, সেলাই, প্রক্রিয়াকরণে বায়ু, পানি ও মাটিদূষণ হয়ে থাকে। বেশির ভাগ কারখানা নদীর তীরে অবস্থিত হওয়ায় বর্জ্য নদীতে ফেলা হয়। ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স করপোরেশনের এক গবেষণা অনুযায়ী, প্রতিবছর পোশাক ও তুলা ধৌতকরণ এবং রঙের কাজে পনের শ বিলিয়ন লিটার পানি ব্যবহার করা হয়। কারখানাগুলো ব্যবহারের পর বিষাক্ত পানি নদী ও খালে নিষ্কাশন করে।

এ প্রসঙ্গে ফারাহ্ কবির বলেন, বাংলাদেশে পোশাকশিল্প অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখলেও পরিবেশের জন্য এটি উদ্বেগজনক। পানিদূষণের ফলে একদিকে কমছে মাছের সংখ্যা, অন্যদিকে হ্রাস পাচ্ছে চাষের উপযোগী জমি। বেশির ভাগ স্থানীয় কৃষক ও মৎস্যজীবীদের জীবিকা এখন ঝুঁকিপূর্ণ। পরিস্থিতি সামাল দিতে সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র ও বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আতিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে শিল্প-কারখানা হতে নিষ্কাশিত বর্জ্যের পরিমাণ কমিয়ে আনতে হবে। জলাশয়কে ডাস্টবিন হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থাকে করতে হবে আরো উন্নত।’

সেমিনারে বলা হয়, ঢাকায় গত দুই দশকে ভূগর্ভস্থ পানির পরিমাণ ব্যাপক মাত্রায় হ্রাস পেয়েছে। অথচ  ঢাকার পানি সরবরাহের প্রায় ৮২ শতাংশই ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীল। পানির এই বিশাল চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে পানির স্তর প্রতিবছর দুই-তিন মিটার পরিমাণে হ্রাস পাচ্ছে। পর্যাপ্ত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে ২০৫০ সালের মধ্যে ভূগর্ভস্থ পানির পরিমাণ কমে গিয়ে ১১০ থেকে ১১৫ মিটারে নেমে আসবে। কিউটেক্স সল্যুশনস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাহুরা খানম বলেন, বর্জ্য নিষ্কাশন শুধু পরিবেশদূষণই করছে না বরং জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি করছে। শিল্প-কারখানার নেতিবাচক প্রভাব রোধে সরকার, নগর কর্তৃপক্ষ এবং শিল্প-কারখানাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব আছে।

বিজিএমইএর সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ফারুক হাসান বলেন, ‘বর্জ্য নিষ্কাশনের পরিমাণ কমিয়ে আনতে আমরা কাজ করছি। এ জন্য কর্মচারী ও শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি প্রয়োজন। এ জন্য আরো উন্নয়ন ও বিনিয়োগ দরকার।’

সেমিনারের দ্বিতীয় পর্বে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. সুলতান আহমেদ বলেন, ‘দেশের কারখানাগুলোর পরিবেশবিষয়ক তদারকি ব্যবস্থাপনা আছে। তবে তদারকির জন্য যথেষ্ট লোকবল নেই। আমাদের পরিবেশ রক্ষার জন্য প্রয়োজন দক্ষ জনশক্তি ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনা। একই সঙ্গে দরকার সকলের মানসিকতার পরিবর্তন।’

মন্তব্য