kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ মে ২০১৯। ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৫ রমজান ১৪৪০

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

ছুটিতে বসেই ব্যাংক লেনদেন বন্ধ করলেন উপাচার্য

রফিকুল ইসলাম, বরিশাল   

২১ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক আন্দোলনের মুখে বাধ্যতামূলক ছুটিতে রয়েছেন উপাচার্য এস এম  ইমামুল হক। ছুটিতে বাসায় বসে উপাচার্য সোনালী ব্যাংকের বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি হিসাব থেকে টাকা লেনদেন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। যদিও ওই দুটি হিসাব উপাচার্যের পাশাপাশি ট্রেজারার ও বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পের পরিচালক যৌথভাবে পরিচালনা করেন। ফলে রাজস্ব খাতের পাশাপাশি প্রকল্প পরিচালকের সব ধরনের লেনদেন স্থগিত হয়ে গেল। এদিকে শিক্ষার্থীদের উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনও অব্যাহত রয়েছে।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম ইমামুল হক ১১ এপ্রিল ছুটির আবেদন করেন। শিক্ষার্থীদের টানা ১৭ দিনের উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে ১৫ দিনের ছুটির আবেদন করেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. মো. হাসিনুর রহমান স্বাক্ষরিত লিখিত আবেদনে জানানো হয়, উপাচার্য এস এম ইমামুল হক ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ১৫ দিনের ছুটিতে যাচ্ছেন। ১১ থেকে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটির সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজার উপাচার্যের অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে রুটিন কাজ করবেন।

তার পরও উপাচার্য গত মঙ্গলবার সোনালী ব্যাংক বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ব্যবস্থাপকের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংক হিসাব থেকে অর্থ লেনদেন বন্ধের নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনায় উপাচার্য বলেছেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব নং ০৩৩৮১১০০০০০০১ ও ০৩৩৮১১০০০০০০২ থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত যাবতীয় অর্থ প্রদান স্থগিত রাখার জন্য নির্দেশ প্রদান করছি।’ সেই নির্দেশনায় তিনি আরো উল্লেখ করেছেন, ‘ইতোপূর্বে প্রদত্ত সকল চেকসমূহসহ সকল ধরনের লেনদেন স্থগিত থাকবে।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্যাংকের ০৩৩৮১১০০০০০০১ নম্বর হিসাবটি উপাচার্য এবং বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক উপপ্রধান প্রকৌশলী এস এম আবুল বাসার যৌথভাবে পরিচালনা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বেতন-ভাতাদির অর্থ এই হিসাব থেকে দেওয়া হয়। ব্যাংকের ০৩৩৮১১০০০০০০২ নম্বর হিসাবটি উপাচার্য ও ট্রেজারার এ কে এম মাহবুব হাসান যৌথভাবে পরিচালনা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বেতন ও আনুষঙ্গিক ভাতাদি এই হিসাব থেকে দেওয়া হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা জানান, ট্রেজারার এ কে এম মাহবুব হাসান জ্বালানি ও আপ্যায়ন বিলের বিপরীতে গত মঙ্গলবার সোনালী ব্যাংকে একটি চেক পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু ব্যাংক ব্যবস্থাপক সেই টাকা ছাড় না করে উপাচার্যের নির্দেশনা দেখিয়েছেন। বিধি অনুযায়ী, ট্রেজারার একক সইয়ে রাজস্ব খাতের ওই হিসাব থেকে তিন লাখ টাকা তুলতে পারেন। কিন্তু উপাচার্যের ওই নির্দেশনার ফলে গত মঙ্গলবার থেকে সব ধরনের আর্থিক লেনদেন বন্ধ রয়েছে।  

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সোনালী ব্যাংক বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ব্যবস্থাপক দেবাশীষ চৌধুরী বলেন, উপাচার্য গত মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংক হিসাব থেকে অর্থ লেনদেন বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই নির্দেশনা ই-মেইল ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দুটি হিসাব থেকে কোনো ধরনের টাকা দেওয়া হবে না।

এ ব্যাপারে উপাচার্য এস এম ইমামুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়।

মন্তব্য