kalerkantho

বুধবার । ২২ মে ২০১৯। ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৬ রমজান ১৪৪০

সবাই তাঁকে ডাকে ‘গাছ রাজ্জাক’

হাতীবান্ধা (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি   

২১ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সবাই তাঁকে ডাকে ‘গাছ রাজ্জাক’

ছোটবেলায় তিনি স্কুলশিক্ষকের কাছে শুনেছিলেন, গাছ বিষাক্ত কার্বন ডাই-অক্সাইড শুষে নিয়ে মানুষকে অক্সিজেন দিয়ে বাঁচিয়ে রাখে। কিন্তু বড় হয়ে দেখলেন, কিছু মানুষ গাছ ও বন উজাড় করে পরিবেশকে বিপর্যস্ত করে তুলছে। এতে মানুষের বেঁচে থাকা দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। বিষয়টি তাঁকে নাড়া দেয়। সেই থেকে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় দারুণ উদ্যোগ নিয়েছেন লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার যুবক আবদুর রাজ্জাক।

মাটি ও মানুষকে ভালোবেসে নিজের কষ্টার্জিত টাকায় এক যুগ ধরে গাছ রোপণ ও বিনা মূল্যে বিতরণ করে আসছেন রাজ্জাক। এরই মধ্যে বিতরণ করেছেন প্রায় এক লাখ চারা। বহু গাছ লাগিয়েছেন সরকারি-বেসরকারি জমি ও প্রতিষ্ঠানে।

এই বিরল প্রকৃতিপ্রেমীকে এলাকাবাসী ডাকে ‘গাছ রাজ্জাক’ বলে। রাজ্জাক জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব থেকে প্রকৃতিকে রক্ষার এই একক আন্দোলনের নাম দিয়েছেন ‘সবুজ পৃথিবী বাঁচাও’। নিজের উপজেলাকে বৃক্ষরাজিতে, সবুজবরণে ঢেকে দিতে চান তিনি। কিন্তু রাজ্জাকের পাশে এখনো দাঁড়ায়নি কোনো সরকারি বা বেসরকারি সংস্থা। তবে স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক ও চেয়ারম্যান রাজ্জাকের কাজে অনুপ্রাণিত হয়ে তাঁকে দিয়েছেন একটি প্রত্যয়নপত্র। এতেই মহাখুশি রাজ্জাক।

হাতীবান্ধা উপজেলার দক্ষিণ সিন্দুর্না গ্রামে কৃষক নূরল হক আর গৃহিণী রাহেলা বেগমের বড় ছেলে রাজ্জাক। নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হয়েও রাজ্জাক ২০০৬ সাল থেকে সবুজ পৃথিবী বাঁচাতে নিজ উদ্যোগে গাছ লাগানো শুরু করেন। তখন তিনি ইন্টারমিডিয়েটের ছাত্র। পরে ২০১২ সালে হাতীবান্ধা আলীমুদ্দিন ডিগ্রি কলেজ থেকে ডিগ্রি পাস করেন। তবে অভাব-অনটনে আর লেখাপড়া করতে পারেননি।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, হাতীবান্ধা তিস্তা ঘাট সড়ক, মুক্তিযোদ্ধা বাজার থেকে হাটখোলা, লোকমান হোসেন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে গনির বাড়ি পর্যন্ত সারি সারি লাগানো রাজ্জাকের গাছগুলো বড় ও দৃষ্টিনন্দন হয়ে উঠেছে। অনেক গাছে ফলও এসেছে।

কালের কণ্ঠকে রাজ্জাক বলেন, ‘ছোটবেলায় স্কুল শিক্ষকের কাছে শুনেছি, গাছ মানুষকে অক্সিজেন দেয়, বিনিময়ে নেয় বিষাক্ত কার্বন ডাই-অক্সাইড। আর গাছ না থাকলে মানুষের বেঁচে থাকা হবে দুর্বিষহ। পরিবেশ হয়ে পড়বে বিপর্যস্ত। সেখান থেকে আমার পরিবেশের জন্য গাছ রোপণের স্বপ্ন শুরু হয়। আমি ইন্টারমিডিয়েটে পড়ার পাশাপাশি টিউশনি করতাম। আর সেই টাকা দিয়ে নার্সারি তৈরি করি। সেই নার্সারির চারা নিজ উদ্যোগে বিতরণ করি। আমার বিতরণ করা গাছের মধ্যে অনেক গাছে ফল এসেছে। আমি যখন ওই ফলগুলো দেখি আনন্দে বুক ভরে যায়।’

হাতীবান্ধা উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মামুন বলেন, ‘রাজ্জাক নিঃস্বার্থভাবে গাছ বিতরণ করছেন। আমি তাঁর সঙ্গে কথা বলেছি। গাছ বিতরণ করা যেন বন্ধ না হয় সে জন্য আমি যতটুকু পারি সাহায্য করব।’

মন্তব্য