kalerkantho

রবিবার । ২৬ মে ২০১৯। ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২০ রমজান ১৪৪০

জাতিসংঘে ইকোসকের এফএফডি সভা শেষ

আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের তাগিদ

আরিফুর রহমান, নিউ ইয়র্ক থেকে   

২০ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বিশ্বের কাতারে যেতে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের তাগিদ দেওয়া হয়েছে জাতিসংঘের এক সভা থেকে। নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) উন্নয়নের জন্য অর্থায়ন (এফএফডি) ফোরামের শেষ দিনে বক্তারা বলেছেন বাংলাদেশ-ভুটান, ভারত ও নেপালকে নিয়ে বিবিআইএন এবং বাংলাদেশ, চীন, ভারত ও মিয়ানমারকে নিয়ে বিসিআইএমকে কার্যকর করতে। বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশের পাশাপাশি দেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে সভা থেকে।

এফএফডি ফোরামের শেষ দিনে আলোচক হিসেবে বাংলাদেশের পক্ষে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান। বাণিজ্য, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও সক্ষমতা বিনির্মাণ বিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের আলোচনায় মুখ্য সচিবের সঙ্গে আলোচক হিসেবে ছিলেন আইটিইউর রেগুলেটরি অ্যান্ড মার্কেটিং এনভায়রনমেন্ট ডিভিশনের প্রধান সোফিয়ে ম্যাডেনস ও আংকটাডের গ্লোবাল অ্যান্ড রিজিওনাল ট্রেড অ্যানালিসিস সেকশনের প্রধান মিহো শিরোতরি। এ ছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

সোফিয়ে ম্যাডেনস তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতি এবং ক্ষুদ্র শিল্পে নারীদের এগিয়ে আসায় ভূয়সী প্রশংসা করেন। গত এক দশকে বাংলাদেশে নারীদের ক্ষমতায়নে যে উন্নতি হয়েছে, তারও প্রশংসা করেন তিনি। এ সময় তিনি বাংলাদেশে নতুন নতুন উদ্ভাবন তৈরির ওপর জোর দেন। এ ছাড়া বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে নতুন নতুন উদ্ভাবনের পাশাপাশি কর্মসংস্থান তৈরির ওপরও জোর দেন। সভায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্ষুদ্রঋণের বিষয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশের ক্ষুদ্রঋণের সফলতার উদাহরণও উঠে আসে সভায়।

আংকটাডের গ্লোবাল অ্যান্ড রিজিওনাল ট্রেড অ্যানালিসিস সেকশনের প্রধান মিহো শিরোতরি তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর পাশাপাশি বিশাল কর্মক্ষম মানুষকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।

সভায় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে হলে বিবিআইএন এবং বিসিআইএমের সহযোগিতা কাঠামোর ওপর জোর দিতে হবে। উন্নত দেশে যেতে হলে আঞ্চলিক সহযোগিতার বিকল্প নেই। জাতিসংঘ ঘোষিত ১৫ বছর মেয়াদি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বহুপক্ষীয় বাণিজ্য ব্যবস্থাকে কিভাবে আরো কার্যকর করা যায় এবং বাণিজ্যের সুবিধার সমবণ্টন কিভাবে নিশ্চিত করা যায়; সেসব বিষয়ের ওপর জোর দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে অনুরোধ জানান তিনি।

সভায় নজিবুর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই একটি সর্বজনীন, উন্মুক্ত, স্বচ্ছ, প্রত্যাশিত, অন্তর্ভুক্তিমূলক, বৈষম্যহীন এবং ন্যায়সংগত বহুপক্ষীয় বাণিজ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এ ক্ষেত্রে ডাব্লিউটিওর মন্ত্রী পর্যায়ের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মত দেন তিনি।  এ ছাড়া বাণিজ্য বাধা, বাণিজ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করার ক্ষেত্রে ভর্তুকি এবং অন্যান্য বাণিজ্য ক্ষতির পদক্ষেপকে আমলে নেওয়ার অনুরোধ করেন। বহুপক্ষীয় বাণিজ্য ব্যবস্থার পদ্ধতিগত ভারসাম্যহীনতা দূর করার জন্য গৃহীত ‘দোহা ডেভেলপমেন্ট এজেন্ডা’র আলোচনা শেষ করার অনুরোধ করেন তিনি। এ ছাড়া ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং আর্থিক-প্রযুক্তি এমএসএমইর বাণিজ্য অর্থায়নের ক্ষেত্রে কার্যকর একটি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন। ই-কর্মাস ও প্রযুক্তি ব্যবহার বিষয়ে মুখ্য সচিব বাংলাদেশের উদাহরণ টেনে বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ ডিজিটাল ইকোনমিতে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। ই-কর্মাসের সম্ভাবনাগুলোর পূর্ণ ব্যবহারে বর্তমান সরকার একটি ডিজিটাল সোসাইটি বিনির্মাণ করেছে।

নজিবুর রহমান বলেন, “ই-কমার্সের সুবিধাগুলো ঘরে তুলতে এর ঝুঁকি মোকাবেলা করতে এবং এর প্রতি জনগণের আস্থা সৃষ্টি করতে ‘ইকোসিস্টেম দৃষ্টিকোণ’ থেকে আমাদের বাণিজ্য বাধাসমূহ ভেঙে ফেলতে হবে। নতুন চতুর্থ শিল্প বিপ্লব যেমন অটোমেশন, থ্রি-ডি প্রিন্টিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো বিষয়গুলো ই-কর্মাস প্রসারের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে। কারণ বিশ্বের অনেক দেশ এখনো দ্বিতীয় বা তৃতীয় শিল্প বিপ্লবের স্তরে রয়েছে। তিনি উন্নয়নশীল দেশ বা স্বল্পোন্নত দেশ উভয়ের জন্যই এসব ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ব্যবস্থা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

১৫ এপ্রিল শুরু হওয়া চতুর্থ এফএফডি ফোরামের এই অধিবেশন আন্ত রাষ্ট্রীয় আলোচনার মাধ্যমে প্রস্তুতকৃত আউটকাম ডকুমেন্ট সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হওয়ার মধ্য দিয়ে শেষ হয়। এবারের সভায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে যাওয়ার পরও সুযোগ-সুবিধা যাতে অব্যাহত থাকে সে দাবি জানানো হয়।

মন্তব্য