kalerkantho

রবিবার । ২৬ মে ২০১৯। ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২০ রমজান ১৪৪০

‘খালেদা জিয়া তৃতীয় বিশ্বের কণ্ঠস্বর’-এর প্রকাশনা উৎসব

শপথ নেবে না বিএনপি!

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে নির্বাচিত ছয়জন শপথ নেবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করে এই সিদ্ধান্ত নেন। এই সিদ্ধান্তের কোনো পরিবর্তন হবে না বলেও জানিয়েছেন নীতিনির্ধারকরা।

গতকাল শুক্রবার দুপুরে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার মিলনায়তনে শত নাগরিক আয়োজিত ‘খালেদা জিয়া তৃতীয় বিশ্বের কণ্ঠস্বর’-নামক গ্রন্থের প্রকাশনা উৎসবে বিএনপি নেতারা এসব কথা জানান।

আলোচনাসভায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘আমাদের ছয়জন সংসদে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। কারণ, আমরা দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমাদের নির্বাচিত সদস্যরা শপথ নেবেন না—এটা আমাদের দলীয় সিদ্ধান্ত। এটা তাদেরকে জানিয়ে দেওয়া হবে।’

দল থেকে নির্বাচিত এমপিদের সংসদে যাওয়া প্রসঙ্গে স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমরা শুনি নির্বাচিতরা বলেন (এটা) জনগণের ইচ্ছা। কিন্তু তাঁদের মধ্যে শুনলাম না এই কথা—অবৈধ সরকারের বৈধকরণের প্রক্রিয়ায় আমরা পার্লামেন্টে যাব না! দল কী করবে সেটা পরের কথা।’ তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার একটা ব্যর্থতা আছে যা আমি আগেও একদিন তাঁকে বলেছিলাম। আজকেও বলতে চাই—তা হলো তিনি তাঁর চারপাশে নির্ভীক, সৎ, সাহসী লোক তৈরি করতে পারেননি। এই কারণে আমরা সংকট মোকাবেলা করতে ভয় পাচ্ছি।’

দলীয় এমপিদের শপথ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কোনো কথা না বললেও নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘অনুরোধ করতে চাই, হতাশ হবেন না, হতাশার কথা শুনতে চাই না। বিএনপি নিঃশেষ হয়ে যায়নি। যারা বলেন, বিএনপি নিঃশেষ হয়ে গেছে আমি কোনো দিনই তাদের সঙ্গে একমত নই। আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের নেত্রী জেলে থাকুন আর বাইরে থাকুন, তিনিই আমাদের অনুপ্রেরণা, তিনিই আমাদের নেতৃত্ব দিয়ে গণতন্ত্রকে মুক্ত করবেন ইনশাআল্লাহ।’

স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, অস্বাভাবিক অবস্থায় দেশ চলছে। এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে প্রথমে গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে হবে।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, এখানে বিএনপির যেসব নেতা আছেন তাঁরা কি নিজেদের মতো করে চলতে পারছেন নাকি তাঁদের হাত-পা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের ক্ষমতা দিতে হবে দল চালানোর জন্য।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘আমাদের মতো বয়স্কদের দলের নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দিতে হবে। নব্বইয়ের ছাত্রনেতা ও তরুণদের দলের নেতৃত্বে এনে রাজপথে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।’

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ ও গবেষক আবদুল হাই শিকদার সম্পাদিত ‘খালেদা জিয়া তৃতীয় বিশ্বের কণ্ঠস্বর’ গ্রন্থটি খালেদার রাজনৈতিক জীবনের ওপর লেখা। ১৯৮১ সালের ৩০ মে এক সেনা বিদ্রোহে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর বিএনপির হাল ধরতে রাজনীতিতে আসেন একদার গৃহবধূ খালেদা জিয়া। তাঁর দীর্ঘ ৩৬ বছরের রাজনৈতিক জীবনের ইতিহাস এই গ্রন্থে নিখুঁতভাবে প্রকাশ পেয়েছে। ৮৬০ পৃষ্ঠার গ্রন্থের প্রকাশক বুক এভিনিউ। বইটির মূল্য ধরা হয়েছে দুই হাজার টাকা।

এ সময় দলের নেতা ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ারুল্লাহ চৌধুরী, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন প্রমুখ বক্তব্য দেন।

মন্তব্য