kalerkantho

শনিবার । ২৫ মে ২০১৯। ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৯ রমজান ১৪৪০

৯ বছর পর ফিরে পেলেন স্বজনকে

গৌরাঙ্গ নন্দী, খুলনা   

২০ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



অপ্রকৃতিস্থ হয়েই ঘর ছেড়েছিলেন। ঘুরতে ঘুরতে একদিন ডুমুরিয়ায় আসেন। বাসস্ট্যান্ডের কাছেই থাকতেন। কারো সঙ্গে কথা বলতেন না। কেউ কিছু দিলে নিতেন না, কী খেতেন তাও কারো চোখে পড়েনি। একদিন স্কুলে যাওয়ার পথে শিশু মায়েশা তার বাবার কাছ থেকে নিয়ে একটি টাকা দেন মানুষটিকে। তিনিও নেন। আশপাশের লোক হতবাক। তারপর শিশুটির বাবা খাবার দিলে তাও নেন। কিছুদিন শিশুটিকে আনা-নেওয়ার পথে তাঁকে খাবার দেওয়া হতো। মেয়েটির আবদারে একদিন ওই অপ্রকৃতিস্থ মানুষটির ঠাঁই হয় তাদের বাড়িতে। সারা দিন যেমন-তেমন, রাতের বেলায় তিনি চিৎকার করতেন। মানুষটিকে তাঁরা আগলে রেখেছিলেন। কয়েক দিন আগে তিনি সামান্য কথা বলতে শুরু করেন। বলেন তাঁর বাড়ি ও স্বজনদের কথা। তাঁরই বলা ঠিকানা অনুযায়ী তাঁদের স্বজনদেরও খুঁজে পাওয়া যায়। তাঁর স্ত্রী ও মেয়ে এসে গতকাল শুক্রবার তাঁকে বাড়িতে নিয়ে গেছেন।

ওই ব্যক্তির পুরো নাম আইয়ুব আলী। বাড়ি ঝিকরগাছার আঙ্গারপাড়া গ্রামে। বছরদশেক আগে বিঘা দুই জমির এক বিঘা বিক্রি করে ছেলে বিদেশে যাওয়ার টাকা জোগাড় করায় তিনি মেনে নিতে পারেননি। ধীরে ধীরে কথা বলা বন্ধ করে দেন। একদিন ঘর থেকে বেরিয়ে যান। সবাই বলাবলি করতে থাকে যে লোকটি পাগল হয়ে গেছে। পরিচিতরা তাঁকে বাড়িতে ফিরিয়ে দিয়ে যায়। তারপর আবারও একদিন বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যান। আর ফেরেননি।

কয়েক দিন আগে মায়েশার বাবা হাবিবুর রহমান তাঁদের বাড়িতে গিয়ে আইয়ুব আলীর খবর দিলে স্ত্রী-সন্তানরা হতবাক হয়ে যান।

মন্তব্য