kalerkantho

সৈয়দপুরে রেলওয়ের জমি উদ্ধারে গণবিজ্ঞপ্তি জারি

শহরজুড়ে চরম উচ্ছেদ আতঙ্ক

সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি   

২০ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নীলফামারীর সৈয়দপুরে রেলওয়ের জমিতে গড়ে ওঠা বৈধ ও অবৈধ স্থাপনার হালনাগাদ তালিকা তৈরি করার জন্য গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি বিভাগ গত বুধবার ওই গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে শহরে লিফলেট বিলি ও মাইকিং করে। দেশের বৃহত্তম রেলওয়ে কারখানার শহর সৈয়দপুর রেলওয়ের বিপুল পরিমাণ জমি রয়েছে, যার বেশির ভাগই দখল করে কাঁচাপাকা বসতি ও দোকানপাট গড়ে তুলেছে দখলদাররা। ফলে গণবিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ায় শহরজুড়েই উচ্ছেদ আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ রেলওয়ের সৈয়দপুর স্টেশন এলাকার আওতাধীন রেলওয়ের ভূমিতে গড়ে ওঠা সব বৈধ ও অবৈধ স্থাপনার হালনাগাদ তালিকা প্রস্তুত করা হবে। আগামী ২২ এপ্রিল থেকে রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মৌখিকভাবে নিদের্েশ ওই কার্যক্রম শুরু হবে। রেলওয়ের ভূ-সম্পত্তি বিভাগের লোকজন রেলওয়ের জমিতে বৈধ ও অবৈধভাবে গড়ে ওঠা সব দোকান ও বসতবাড়িসহ যাবতীয় স্থাপনায় হাজির হবেন এবং বর্তমান দখলসহ হালসনের লাইসেন্স ফি পরিশোধের কাগজপত্র সংগ্রহ করবেন। যে দখলদাররা দখলের পক্ষে রেলওয়ে কর্তৃক প্রদত্ত কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হবে হালনাগাদ তালিকা প্রস্তুত করার সময় ওই সব দোকানঘর ও বসতবাড়িতে ‘লাল’ কালি দ্বারা ক্রস চিহ্ন দেওয়া হবে এবং দখলীয় দোকানঘর-বসতবাড়ির  কোনো কাগজপত্র নেই মর্মে অবৈধ তালিকা প্রস্তুত করা হবে। পরবর্তী সময়ে অবৈধ দখলদারকে ১৯৭০ সালের ২৪ নম্বর জরুরি অধ্যাদেশের ৫ নম্বর বিধির উপবিধি (২) মোতাবেক উচ্ছেদের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে ও দখলকালীন সময়ের জন্য সরকারি প্রাপ্য আইন অনুসারে উচ্ছেদের যাবতীয় খরচ দখলদারের কাছ থেকে আদায়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে সৈয়দপুর পৌরসভার সঙ্গে রেলওয়ের বিরোধীয় ভূমি ও আটকেপড়া পাকিস্তনি (উর্দুভাষী) ক্যাম্পের জন্য নির্ধারিত এলাকা হালনাগাদ তালিকা তৈরির বাইরে থাকবে। ওই গণবিজ্ঞপ্তি পশ্চিম রেলের পাকশী বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক জারি করা হয়েছে।

এই গণবিজ্ঞপ্তি জারির পর থেকে সৈয়দপুর শহরের মানুষের মধ্যে এই উচ্ছেদ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. ইউনুস আলী গণবিজ্ঞপ্তি জারির সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সারা দেশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় রেলপথমন্ত্রী রেলওয়ের জমিতে অবৈধ দখলদারদের বিষয়ে নজর দিয়েছেন। ভূ-সম্পত্তির খাজনা আদায়ের মাধ্যমে রাজস্ব আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে রেলওয়ে জমির বৈধ ও অবৈধ দখলদারদের তালিকা তৈরির ঘোষণা জারি করা হয়েছে। যারা রেলওয়ের জমিতে অবৈধভাবে বসবাস করছে তাদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর যারা বৈধভাবে আছে তাদের কাছ থেকে বকেয়া পাওনা আদায় করা হবে। তিনি বলেন, প্রথম দফায় দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অভিযান শুরু হবে, এরপর সৈয়দপুরে পরিচালিত হবে তালিকা তৈরির অভিযান। অবৈধ দখলদারদের বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

প্রসঙ্গত, দেশের বৃহত্তম রেলওয়ে কারখানা নীলফামারীর সৈয়দপুরে অবস্থিত। আর এ শহরে রেলওয়ের বিপুল পরিমাণ জমি রয়েছে। এর বেশির ভাগই দখলে চলে গেছে স্থানীয়দের। এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে শহরের গোলাহাট, রসুলপুর, মুন্সিপাড়া, মিস্ত্রিপাড়া, ইসলামবাগ, আতিয়ার কলোনি, সাহেবপাড়া, রেলওয়ে স্টেশন এলাকা, অফিসার্স কলোনি ও নিচু কলোনি হাতিখানা। এসব জমির বেশির ভাগই দখলদাররা জবরদখল করে অবৈধভাবে বসবাস করছে। রেলওয়ের এসব জমিতে কাঁচাপাকা দোকানপাট ও বসতবাড়ি তৈরি করে বিপুল সংখ্যক মানুষ ব্যবসা-বাণিজ্য ও বসবাস করছে।

মন্তব্য