kalerkantho

সোমবার। ২৭ মে ২০১৯। ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২১ রমজান ১৪৪০

জোড়া লাগানো সন্তান নিয়ে মা-বাবার আহাজারি

আসাদুজ্জামান স্টালিন, জলঢাকা (নীলফামারী) প্রতিনিধি   

২০ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



নীলফামারীর জলঢাকায় জোড়া সন্তান জন্ম দিয়ে মানবিক সংকটে ভুগছেন এক দম্পতি। নিতম্বের দিক দিয়ে পরষ্পর জোড়া লাগানো দুই নবজাতক স্থানীয় একটি ক্লিনিকে সিজারিয়ানের মধ্য দিয়ে ভূমিষ্ঠ হয় গত সোমবার (১৫ এপ্রিল)।

গতকাল শুক্রবার সকালে ওই ক্লিনিকে গেলে দেখা যায়, উত্সুক মানুষজন ভিড় করছে জোড়া লাগানো অবস্থায় জন্ম নেওয়া মেয়ে নবজাতকদের দেখার জন্য। এ সময় শিশু দুটির বাবা উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের গোপালঝাড় গ্রামের লাল মিয়া জানান, তাঁর স্ত্রী মনুফা বেগম গর্ভবতী হলে আলট্রাসনোগ্রাম করা হয়। রিপোর্ট দেখে ডাক্তার জানান, রোগী ভালো আছে। সে সময় জোড়া লাগানো ও যমজের বিষয়ে আমাকে কিছু বলা হয়নি। জন্মের পর এখন দেখি জোড়া লাগানো।

ঢাকার সাভারে একটি গার্মেন্টে কাটিং সেকশনের কর্মী লাল মিয়া বলেন, ‘তাদের দেহের সবই আলাদা হলেও কোমরের নিচ থেকে পায়খানার রাস্তা এক। রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তাররা ঢাকায় নিয়ে যেতে বলেন। টাকার অভাবে ঢাকা তো দূরের কথা, রংপুরেই থাকা সম্ভব হয় নাই। এখন সমাজের সহৃদয়বানদের সাহায্য-সহযোগিতা ছাড়া তাদের চিকিৎসা করা সম্ভব নয়। আপনাদের মাধ্যমে আমি তাদের সাহায্য চাই।’

নবজাতকদের মা মনুফা বেগম বলেন, ‘শুধু তাদের প্রস্রাব ও পায়খানার রাস্তা একটা। জন্মের দিনই হাওলাত-দেনা করে রংপুর নিয়ে গিয়েছিল আমার স্বামী। ডাক্তাররা বলেছেন অপারেশনের মাধ্যমে আলাদা পায়খানার রাস্তা করা সম্ভব হতে পারে। তাই ঢাকায় নিয়ে যেতে বলেছেন। টাকা না থাকায় তাদের ফেরত আনা হয়। এখন আল্লাহ জানে তাদের ভাগ্যে কী হবে?’

জলঢাকা ডে-নাইট ক্লিনিকের কর্তব্যরত সার্জন ডা. মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘চিকিৎসাসেবায় আমাদের দেশ বর্তমানে অনেক এগিয়ে। নবজাতক দুটির মেরুদণ্ড জোড়া লাগানো না থাকলে ঢাকায় তাদের চিকিৎসা সম্ভব হতে পারে।’

মন্তব্য