kalerkantho

শনিবার । ২৫ মে ২০১৯। ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৯ রমজান ১৪৪০

অভয়নগরে অবৈধ ওষুধ তৈরির কারখানায় র‌্যাবের অভিযান

দুটি মেশিনসহ বিপুল পরিমাণ ওষুধ ও কাঁচামাল জব্দ, আটক ১

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি   

২০ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যশোরের অভয়নগরে লাইফকেয়ার নিউট্রাসিউটিক্যালস নামের একটি অবৈধ ওষুধ তৈরির কারখানায় গত বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়েছে র‌্যাব। এ সময় বিপুল পরিমাণ লাইফকেয়ার সেকনো ২০ নামের ওষুধ (গ্যাসট্রিক-আলসার প্রতিরোধক), ওষুধ তৈরির কাঁচামাল, কাগজপত্র, দুটি মেশিনসহ বিভিন্ন মাল জব্দ করা হয়। আটক করা হয় একজন ভ্যানচালককে।

গতকাল শুক্রবার এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্তও অভিযান চলছিল। দুপুরে র‌্যাব-৬-এর কম্পানি কমান্ডার এএসপি মো. সুরাত আলী সাংবাদিকদের জানান, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে অভয়নগর উপজেলা পরিষদ ও আকিজ জুটমিলের মাঝামাঝি গুয়াখোলা গ্রামে খানজাহান আলী সড়কের ৪৬৪ নম্বর বাড়িতে লাইফকেয়ার নিউট্রাসিউটিক্যালসে (ফুড অ্যান্ড ফিড ডিভিশন) অভিযান চালায় র‌্যাব। এ সময় মালিকপক্ষের কাউকে ও কারখানায় ওষুধ তৈরির কোনো বৈধ কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। একটি মোটরচালিত ভ্যানে করে প্যাকেটজাত সেকনো ২০ নামের ওষুধ নেওয়ার সময় ভ্যানচালক একই গ্রামের মৃত ইয়াছিন মোল্যার ছেলে আল-আমিনকে (২৭) আটক করা হয়। পরে দোতলা ভবনের নিচতলায় প্যাকেটজাত প্রায় সাড়ে ৫০০ পিস সেকনো ওষুধ, বিপুল পরিমাণ ওষুধ তৈরির কাঁচামাল, প্যাকেটিং করার দুটি আধুনিক মেশিন, ১০টি সাদা পোশাকসহ কাগজপত্র ও বিভিন্ন মাল পাওয়া যায়। জব্দকৃত এসবের মূল্য কয়েক কোটি টাকা হতে পারে। প্রতিষ্ঠানসহ মালিকের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা করা হবে। কারখানার স্থানীয় প্রতিনিধি আতাউর রহমান প্রিন্স পলাতক রয়েছেন। তদন্তের স্বার্থে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে জড়িত অন্যদের নাম প্রকাশ করেনি র‌্যাব।

আটক ভ্যানচালক আল-আমিন বলেন, আতাউর রহমান প্রিন্স নামের একজন তাঁকে দুই কার্টন ওষুধ নওয়াপাড়া বাজারে একটি কুরিয়ার অফিসে দিয়ে আসতে বলে চলে যান। এর বেশি তিনি জানেন না।

এ ব্যাপারে লাইফকেয়ার নিউট্রাসিউটিক্যালসের সাইনবোর্ডে থাকা ঢাকা অফিসের ০১৭১৫-১৫৬১১৮ নম্বরে যোগাযোগ করলে একজন ব্যক্তি নিজের পরিচয় না জানিয়ে স্থানীয় প্রতিনিধি আতাউর রহমান প্রিন্সের সঙ্গে কথা বলতে বলে সংযোগ কেটে দেন। পরে সাইনবোর্ডে থাকা আতাউর রহমানের ০১৭১২-০২৭৫৩৭ নম্বরে যোগাযোগ করে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

লাইফকেয়ার নিউট্রাসিউটিক্যালস কারখানার আশপাশের বাড়ির মালিকরা জানান, বাড়িটির মালিক ইঞ্জিয়ার শওকত হোসেন ঢাকায় চাকরি করেন। চকোলেট তৈরির কারখানা হিসেবে বাড়িটি এলাকায় পরিচিত। কারখানার মূল গেট সব সময় বন্ধ থাকত। প্রতিদিন সকাল ৮টায় ১০-১৫ জন নারী ভেতরে ঢুকে রাত ৮টায় বেরিয়ে যেতেন। আবাসিক এলাকায় ভেজাল ওষুধ তৈরির ব্যাপার জানতে পেরে তাঁরা হতবাক হয়েছেন। এর বিচার দাবি করেন তাঁরা।

মন্তব্য