kalerkantho

সোমবার। ২৭ মে ২০১৯। ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২১ রমজান ১৪৪০

স্বামীর দেওয়া আগুনে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন পপি

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি   

২০ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নিহিরিকা আক্তার পপি। ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন রমজান আলীকে। কিন্তু সেই স্বামী পপির গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। গত ৩১ মার্চ রাতে ওই আগুনে দগ্ধ হয়ে ১৮ দিন ধরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন পপি। তাঁর শরীরের ৪২ শতাংশ পুড়ে গেছে। পপিকে (৩০) দেখে এখন চেনা যায় না। পাল্টে গেছে সুন্দর চেহারাটি। চিকিৎসকরা বলছেন, তাঁর অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। দরিদ্র বাবা পপির চিকিৎসার খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছেন।

পপির পরিবারের দাবি, যৌতুকের ছয় লাখ টাকা দিতে না পারায় পপির গায়ে আগুন দেয় স্বামী রমজান। ওই ঘটনায় পপির বাবা আব্দুস সামাদ বাদী হয়ে গত বুধবার পপির স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়িসহ ছয়-সাতজনের নামে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি থানায় একটি মামলা করেছেন। 

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বরিয়াবহ গ্রামের স্কুল কেরানি আব্দুস সামাদ মিয়ার মেয়ে পপি। ২০১৫ সালে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার সাড়াতৈল গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে রমজান আলীর সঙ্গে বিয়ে হয় তাঁর। পরিবার ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালে গাজীপুরের কোনাবাড়ীর একটি ক্লিনিকে পপি চাকরি করার সময়ে পরিচয় হয় রমজানের সঙ্গে। এরপর ভালোবেসে বিয়ে। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই যৌতুক হিসেবে ছয় লাখ টাকা দাবি করে আসছিল রমজান। কিন্তু দরিদ্র স্কুল কেরানি বাবা ওই টাকা দিতে পারেননি। এ জন্য প্রতিনিয়তই পপির ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। হোমিও প্যাথিক ওষুধ খাইয়ে নষ্ট করে দেওয়া হয় গর্ভের সন্তান। মেয়ের ওপর নির্যাতনের বিষয়টি রমজানের পরিবার এবং এলাকার লোকজনদের জানিয়েও কোনো ফল পায়নি।

পরে বাবা গাজীপুর আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন এবং যৌতুক দাবির ধারায় দুটি মামলা করেন। এ ছাড়া জয়দেবপুর থানায় চারটি ও কালিয়াকৈর থানায় তিনটি সাধারণ ডায়েরিও করা হয়। ওই সব মামলায় পুলিশ রমজানকে গ্রেপ্তার করে গাজীপুর জেলহাজতেও পাঠিয়েছিল। এরপর রমজানের স্বজনরা পপিকে বুঝিয়ে গাজীপুর আদালত থেকে রমজানের জামিন নেয়। স্ত্রীকে আর নিযার্তন করবে না বলে আদালতে একটি মুচলেকা দিয়ে পপিকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে থাকতে শুরু করে। কিন্তু কিছুদিন পর আবারও পপির ওপর নির্যাতন শুরু করে রমজান। দাবি একটিই—ছয় লাখ টাকা।

পপি অগ্নিদগ্ধ হওয়ার খবর পেয়ে আব্দুস সামাদ স্ত্রীকে নিয়ে ১ এপ্রিল সিরাজগঞ্জে পপির শ্বশুরবাড়ি যান। তাঁদের জানানো হয়, পপি গ্যাসের চুলায় রান্না করার সময় আগুনে পুড়ে দগ্ধ হয়েছেন। পপিকে হাসপাতালে ভর্তি না করে তারা বাড়িতেই রাখে। ওই  রাতেই পপিকে ঢাকায় নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই সময় বেলকুচি থানায় মামলা করতে চাইলে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা রোগীকে সুস্থ করে নিয়ে এসে মামলা করার জন্য বলেন বলে অভিযোগ করেছেন আব্দুস সামাদ।

এ অবস্থায় ঘটনার দুই সপ্তাহেরও বেশি পরে পপির স্বামী রমজান আলী, শ্বশুর সিরাজুল ইসলাম, শাশুড়ি সোনা বানু, রমজানের ছোট ভাই ফজলুর রহমান, ফজলুর স্ত্রী বিউটি আক্তারকে আসামি করে বেলকুচি থানায় পপির বাবা একটি হত্যাচেষ্টার মামলা করেছেন।

রমজান আলী বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা মিথ্যা।’

বেলকুচি থানার ওসি আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’

মন্তব্য