kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ মে ২০১৯। ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৮ রমজান ১৪৪০

প্রধানমন্ত্রীর সভায় অস্ত্রসহ ঢুকতে গিয়ে ধরা আ. লীগ নেতা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রধানমন্ত্রীর সভায় অস্ত্রসহ ঢুকতে গিয়ে ধরা আ. লীগ নেতা

প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের যৌথ সভায় যোগ দিতে গিয়ে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে অস্ত্রসহ ধরা পড়েছেন ক্ষমতাসীন দলটির এক নেতা। তিনি হলেন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি এম এ মান্নান। 

পুলিশ জানায়, বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গতকাল শুক্রবার উপদেষ্টা পরিষদ ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের যৌথ সভা ছিল। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ওই অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু এভিনিউজুড়ে বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে থেকেই সংশ্লিষ্ট এলাকার সব সড়কে তৎপর ছিল পুলিশের টহল টিম। আশপাশের ভবনগুলোতেও অবস্থান নেন নিরাপত্তাকর্মীরা। কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই আওয়ামী লীগের নেতারা যৌথ সমাবেশে যোগ দেন। এর মধ্যেই আওয়ামী লীগ নেতা এম এ মান্নান সঙ্গে অস্ত্র নিয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রবেশের সময় ধরা পড়েন। পরে তাঁকে পল্টন থানাহাজতে আটকে রাখা হয়।

পল্টন থানার ওসি মাহমুদুল হক গতকাল বিকেলে কালের কণ্ঠকে জানান, এম এ মান্নানের কাছে লাইসেন্স করা একটি পিস্তল পাওয়া গেছে। তাঁর কাছে অস্ত্রটির বৈধ কাগজপত্র আছে। এর পরও প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে অস্ত্র নিয়ে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা না মানায় তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ওই আওয়ামী লীগ নেতা কেন প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে অস্ত্র নিয়ে গিয়েছিলেন, তাঁর কোনো অসৎ উদ্দেশ্য ছিল কি না, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কেউ তাঁকে অস্ত্র নিয়ে ভেতরে প্রবেশে সহযোগিতা করেছিলেন কি না—এমন আরো অনেক বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

আওয়ামী লীগ নেতা এম এ মান্নান একজন মুক্তিযোদ্ধা। তাঁকে কেন থানাহাজতে ঢোকানো হলো—এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘সন্দেহজনক গতিবিধির কারণে তাঁকে আটক করা হয়েছে। তাঁর বিষয়ে আরো খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে এ রকম আরো কয়েকটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা আটক হন। এরপর যাঁদের লাইসেন্স করা অস্ত্র আছে তাঁদের দলীয়ভাবে সতর্ক করার তথ্য আমাদের কাছে আছে। এর পরও একই ঘটনা ঘটছে।’

জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের (দক্ষিণ) সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম মুরাদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিষয়টি শুনে বিব্রত হয়েছি। তিনি কেন অস্ত্র সঙ্গে রেখেই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের সভায় যোগ দিতে গিয়েছিলেন, তা তিনিই ভালো জানেন। এর পরও আমরা দলীয়ভাবে বিষয়টি দেখছি।’

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এম এ মান্নান পুলিশকে জানান, লাইসেন্স করা অস্ত্রটি নিজের নিরাপত্তার জন্য তিনি সব সময় সঙ্গে রাখেন। যৌথ সমাবেশে যোগ দেওয়ার আগে তিনি একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সেখান থেকে সরাসরি তিনি বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আসেন।

মন্তব্য