kalerkantho

সোমবার । ২৪ জুন ২০১৯। ১০ আষাঢ় ১৪২৬। ২০ শাওয়াল ১৪৪০

তুরাগে অভিযান অব্যাহত

আরো উচ্ছেদ ৯৮ স্থাপনা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নদীতীর দখলমুক্ত করতে চলমান অভিযানের ৩০তম দিবসে ভাঙা পড়েছে পাঁচটি ওয়্যার হাউসসহ ৯৮টি স্থাপনা। নিলামে বিক্রি হয়েছে পৌনে এক কোটি টাকার মালামাল। সড়ক ও জনপথ বিভাগের একটি সেতুর নির্মাণকাজ থামিয়ে দেওয়া হয়েছে পিলারসহ মালামাল উচ্ছেদ করে। পাশাপাশি শিপিং কম্পানি আনন্দ গ্রুপের কিছু স্থাপনাও ভাঙা পড়েছে এই অভিযানে।

 গতকাল বৃহস্পতিবার আশুলিয়া বেড়িবাঁধের কামারপাড়াসংলগ্ন মাছিমপুর মৌজায় উচ্ছেদ অভিযান চলে, যা তুরাগ থানার অন্তর্গত। অন্য পারে টঙ্গীর কিছু স্থাপনা পড়েছে। অভিযান টঙ্গী বাজারের কাছাকাছি পৌঁছলে সেখানে অনেক বাণিজ্যকেন্দ্র ভাঙা পড়বে বলে জানা গেছে। নদীতীর দখল করে এসব অঞ্চলে গার্মেন্ট কারখানাসহ বেশ কিছু বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডাব্লিউটিএ) কর্মকর্তারা পূর্বঘোষিত স্থান থেকে গতকাল সকালেই এক্সকাভেটর নিয়ে পরিষ্কার করতে থাকেন নদীতীর। একে একে উচ্ছেদ হয় বালুর গদি, ভবনসহ অস্থায়ী ব্যবসাকেন্দ্র। সব কিছু গুঁড়িয়ে দিনভর প্রচেষ্টায় চার একর জায়গা অবমুক্ত করা হয়েছে। দিনভর অভিযানকালে নদীতীরে বহুতল ভবনের তুলনায় বালু ও পাথরের গদি দেখা গেছে বেশি।  এ অবস্থায় মালামাল জব্দ করার পাশাপাশি নিলাম অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ উত্তর কামারপাড়া ও টঙ্গীর মধ্যে একটি সেতু নির্মাণ করছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে বলে জানান উচ্ছেদসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। একাধিবার নোটিশ দিলেও নির্মাণকাজ থামায়নি তারা। এ অবস্থায় উচ্ছেদ অভিযানে রড-সিমেন্ট সরিয়ে ফেলা হয়। ভেঙে দেওয়া হয় পিলার। এদিকে বৃহৎ শিপিং কম্পানি আনন্দ গ্রুপের একটি স্পিনিং মিলের একাংশ ভাঙা পড়েছে গতকালের অভিযানে। প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান আব্দুল্লা হেল বাকী ছুটে এসে বিষয়টি নিয়ে চ্যালেঞ্জ করেন। উত্তেজিত হয়ে কথা বলেন ম্যাজিস্ট্রেটসহ কর্মকর্তাদের সঙ্গে। নদীর তীরসংলগ্ন হওয়ায় আনন্দ গ্রুপের মালিকানাধীন জেরিনা স্পিনিং ও জেরিনা কম্পোজিট মিলের একাংশ ভাঙা পড়ে। মাছিমপুরে এ অভিযান চলাকালে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ থাকায় একই দাগে অবস্থিত আনন্দ গ্রুপের আরো কিছু স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়নি। অন্যদিকে টিএটি নামে একটি জিপার ফ্যাক্টরি উচ্ছেদ থেকে বাদ পড়ে। চীনা মালিকানাধীন এ কারখানার একাংশ আগে উচ্ছেদ করা হয়েছে বলে জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, উচ্ছেদ অভিযানকালে গতকাল ভাঙা হয়েছে সর্বমোট ৯৮টি স্থাপনা। যার মধ্যে রয়েছে ১১টি একতলা ভবন। আধাপাকা ১০টি ও টিনশেড ২০টি ঘর উচ্ছেদ করা হয়েছে। ভাঙা পড়েছে সাতটি বাউন্ডারি ওয়াল। ৪৫টি টিনের ঘর ও ছয়টি বালুর গদি উচ্ছেদ করা হয়। নিলামে বিক্রি করা হয় ৭৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকার মালামাল।

বিআইডাব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন বলেন, ‘নদীতীর উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত থাকবে। অনুমোদিত অনেক প্রতিষ্ঠান নিজ জায়গার পরে নদীতীর দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করেছে। অনেকের স্থাপনা পুরোটায় নদীর জমিতে। নোটিশ প্রদান থেকে শুরু করে সব আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অভিযান চলছে। তুরাগের দুই তীরে উচ্ছেদ কাজ দ্রুতই সম্পন্ন হবে।’

মন্তব্য