kalerkantho

বুধবার। ১৯ জুন ২০১৯। ৫ আষাঢ় ১৪২৬। ১৫ শাওয়াল ১৪৪০

সেতু হলে সবই হবে

নিয়ামুল কবীর সজল, ময়মনসিংহ   

১৯ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সেতু হলে সবই হবে

শহর তো নয়ই, শহরতলিও নয়। একেবারে মেঠোপথ, ধানি জমি, কৃষি আর কৃষক নিয়ে শান্ত নিরিবিলি পরিবেশের কয়েকটি গ্রাম নিয়ে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের ৩১ নম্বর ওয়ার্ড। ব্রহ্মপুত্র নদের চরাঞ্চলের এসব গ্রাম মূল শহর থেকে একেবারে বিচ্ছিন্ন। সড়কপথে যেতে হলে শম্ভুগঞ্জ সেতু হয়ে ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়।

ব্রহ্মপুত্র তীর হয়ে আরো চার-পাঁচ কিলোমিটার ভেতরের গ্রামগুলোর বাসিন্দাদের কাছে এখন শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, রাস্তাঘাটের চেয়ে জরুরি একটি সেতু। তারা মনে করছে, সেতু হলে সবই হবে। সেতু না হলে উন্নয়ন অনেকটাই অসম্ভব। সিটি করপোরেশনের পক্ষেও এখানে সেবা দেওয়া কঠিন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ময়মনসিংহ শহর ছিল পুরোটাই ব্রহ্মপুত্র নদের পশ্চিম পারে। নদের পূর্ব পারে সবই গ্রাম, যেখানে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি সেভাবে। এখনো অবহেলিত, অনুন্নত ও পশ্চাৎপদ জনপদ হিসেবে পরিচিত। এমন কয়েকটি গ্রাম নিয়েই গঠিত হয়েছে সিটি করপোরেশনের ৩১ নম্বর ওয়ার্ড। এ ওয়ার্ডের বাসিন্দারা নিজ গ্রাম থেকে ভাড়া করা মোটরসাইকেল বা ইজি বাইকে (ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা) করে নদের কাচারীঘাটে আসে। এরপর নৌকা দিয়ে ব্রহ্মপুত্র পাড়ি দিয়ে শহরে ঢোকে। প্রতিদিন এ ঘাট দিয়ে কয়েক হাজার নারী-পুরুষ, চাকরিজীবী, ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, ব্যবসায়ী আসা-যাওয়া করে।

সিটি করপোরেশনে যুক্ত হওয়ায় এখন চরাঞ্চলের গ্রামগুলো নাগরিক সুযোগ-সুবিধার স্বপ্ন দেখছে। কিন্তু তাদের কাছে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে যাতায়াত। নদের কারণে চরাঞ্চলের গ্রামগুলোতে সিটি করপোরেশনের উন্নয়নমূলক কাজ করা কঠিন হবে। শম্ভুগঞ্জ সেতু হয়ে প্রায় ১৫-২০ কিলোমিটার ঘুরে এ ওয়ার্ডে আসতে হবে সিটি করপোরেশনের যানবাহনগুলোকে। উন্নয়নমূলক কাজ শুরু হলে তার সরঞ্জাম-উপকরণ পরিবহন করতে হবে সেই একই ঘুরোপথে। এতে যেমন সময় যাবে, তেমনি অর্থ ব্যয়ও বাড়বে। এ ছাড়া ওয়ার্ডের বাসিন্দাদেরও এখন মূল শহরে যাতায়াত আগের চেয়ে বাড়বে। তাই সব দিক থেকে যাতায়াত সমস্যার সমাধান হতে পারে একটাই—তা হলো ব্রহ্মপুত্র নদের কাচারীঘাটে একটি সেতু নির্মাণ।

ওয়ার্ডের একাধিক বাসিন্দা কালের কণ্ঠকে বলেন, এখন তাঁরা কাচারীঘাট দিয়ে নৌকায় শহরে যাতায়াত করেন। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। বর্ষাকালে এ ঘাট দিয়ে যাতায়াতকারী লোকজনের খুবই কষ্ট হয়। এ ছাড়া এখানে নৌকায় ওঠা, পার হওয়া—এসবেও অনেক সময় ব্যয় হয়। এত দিন লোকজন কষ্ট করে নৌকায় যাতায়াত করলেও এখন যেহেতু নগরের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, তাই কাচারীঘাটে একটি সেতুর স্বপ্ন দেখছে।

সৈয়দ মোশাররফ হোসেন নামের একজন বাসিন্দা কালের কণ্ঠকে বলেন, ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে চরঈশ্বরদিয়ার একাংশ, চরগোবিন্দপুর ও চরজেলখানা পড়েছে। এখানে ভোটার সংখ্যা প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার। তিনি আরো বলেন, তাঁদের এলাকার বাসিন্দাদের এখন প্রধান দাবি ব্রহ্মপুত্র নদের কাচারীঘাটে একটি সেতু নির্মাণ। এখানে যদি একটি ছোট আকারের সেতুও নির্মিত হয় এবং নদের ওই পার থেকে চরাঞ্চলের জয়বাংলা বাজার পর্যন্ত রাস্তাটি ভালোভাবে পাকা করে প্রশস্ত করা হয়—তাহলে চরের চিত্রই পাল্টে যাবে।

একটি ইংরেজি জাতীয় দৈনিকের জেলা প্রতিনিধি আমিনুল ইসলাম বলেন, চরাঞ্চলে তাঁর বাড়িটি একেবারে সিটি করপোরেশনের শেষ সীমানায়। সেতু না হলে যোগাযোগ বিছিন্নতার কারণে চরের গ্রামগুলোতে উন্নয়ন খুবই কঠিন।

ওয়ার্ডের বাসিন্দা কাজী হাদিউল ইসলাম শিক্ষকতা করেন নগরের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজে। তিনি বলেন, নগরের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় গ্রামের উন্নতি হবে, এতে তাঁরা খুশি। তবে তাঁদের সবচেয়ে বড় চাওয়া হলো কাচারীঘাটে একটি সেতু।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা