kalerkantho

বুধবার । ২৬ জুন ২০১৯। ১২ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

সিরাজদিখানে অপহৃত স্কুলছাত্রীর আত্মহনন

এক দিন পর প্রায় অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল মেয়েটিকে

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৯ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান উপজেলার গোয়ালখালী গ্রামের স্কুলছাত্রী সেতু মণ্ডলকে গত ১০ এপ্রিল তার স্কুলের সামনে থেকে অপহরণ করে সিএনজি স্কুটারে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। সে পার্শ্ববর্তী ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার দৌলতপুর কবি নজরুল উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ত। পরদিন ১১ এপ্রিল ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ উপজেলার গোলামবাজার এলাকা থেকে পুলিশ অনেকটা অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে খবর দেয়। পরিবারের লোকজন গোলামবাজার পুলিশ ফাঁড়ি থেকে তাকে বাড়িতে নিয়ে যায়। গত বুধবার সকালে বসতঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস দেয় সে। গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মিডফোর্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিকেলে সে মারা যায়।

পুলিশের ধারণা, ১৪ বছর বয়সী মেয়েটি ধর্ষণের স্বীকার হয়েছিল এবং তাকে কোনো নেশাজাতীয় দ্রব্য খাওয়ানো হয়েছিল। মেয়েটি কিছুটা স্বাভাবিক অবস্থায় আসার পরই আত্মহননের পথ বেছে নেয়। এ ঘটনায়  সোহেল মিয়া (২৪) ও পলাশ রাজবংশী (২৩) নামে দুজনকে আটক করা হয়েছে।

মেয়েটির নিকটাত্মীয় ও আলী আজগর আব্দুল্লাহ কলেজের সহকারী অধ্যাপক গোবিন চান মণ্ডল বলেন, উদ্ধারের সময় মেয়েটি স্বাভাবিক ছিল না। জোর করে নেশা করানো হয়েছিল ধারণা করা হয়। উদ্ধারের পর বেশির ভাগ সময় সে ঘুমিয়েই ছিল। তার মায়ের বরাদ দিয়ে তিনি জানান, সেতু মণ্ডলকে পাশবিক নির্যাতন করা হয়েছিল। শারীরিক অবস্থা থেকেও তা স্পষ্ট হয়।

সিরাজদিখান থানার ওসি ফরিদ উদ্দিন জানান, সেতু মণ্ডল উদ্ধারের সময় অনেকটা অচেতন ছিল। কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর তার মাকে জানিয়েছে সোহেল নামের এক যুবক তাকে সেখানে নিয়ে যায়। পরদিন তাকে একটি স্থানে ফেলে রেখে কৌশলে পালিয়ে যায়। ধারণা করছি, মেয়েটি ধর্ষণের শিকার হয়েছিল এবং তাকে কোনো নেশাজাতীয় দ্রব্য খাওয়ানো হয়েছিল। ওসি সেতুর মা রেখা মণ্ডলের বরাদ দিয়ে বলেন, মানসম্মানের ভয়ে তিনি বিষয়টি কাউকে জানাননি। মেয়েকে হাসপাতালে পর্যন্ত নেননি। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয় সেতুকে। সেতুর বাবা গোপাল মণ্ডল কুয়েতপ্রবাসী।

সিরাজদিখান থানার ওসি শুধু সোহেল মিয়াকে আটকের কথা জানালেও পুলিশের একটি সূত্র জানায়, বুধবার রাতে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার দৌলতপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে সোহেলের সঙ্গে পলাশ  রাজবংশী নামেও একজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এদিকে গতরাতে এ রিপোর্ট লেখার সময় সিরাজদিখান থানায় মামলার প্রক্রিয়া চলছিল। সেতুর মা রেখা মণ্ডল বাদী হয়ে অভিযোগ লিখছিলেন। গোলামবাজার পুলিশ ফাঁড়ির এসআই কবিরুল ইসলাম জানান, ১১ এপ্রিল গোলামবাজার এলাকা থেকে ওই স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়। 

সেতুর আত্মহত্যার খবরে তার গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার শিক্ষালয়েও শোক এবং ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট অজয় চক্রবর্তী বলেছেন, ‘গোলামবাজার পুলিশ ফাঁড়ি সেতুর পরিবারের কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা নিয়েছে। অথচ মেয়েটি কিভাবে গোলামবাজারে এলো, কারা অপহরণ করল এ ব্যাপারে ওই পুলিশ ফাঁড়ি কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।’

সিরাজদিখান উপজেলা চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহম্মেদ এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা