kalerkantho

সোমবার। ১৭ জুন ২০১৯। ৩ আষাঢ় ১৪২৬। ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

গাজী নূরও বহিষ্কৃত

ভারতে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ মিশন

কূটনৈতিক প্রতিবেদক, ঢাকা ও কলকাতা প্রতিনিধি    

১৯ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চিত্রনায়ক ফেরদৌস আহমেদের পর সিরিয়াল অভিনেতা গাজী আবদুন নূরও ভারত থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন। বিজনেস ভিসা নিয়ে ভারতে গিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ার কারণে তিন দিন আগে ফেরদৌসের ভিসা বাতিল করে বাংলাদেশে ফিরতে বলা হয়েছিল। অন্যদিকে জি বাংলার রানী রাসমনি সিরিয়ালখ্যাত গাজী আবদুন নূরের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ ওঠার পর ভিসা যাচাই করতে গিয়ে দেখা যায়, তাঁর ভিসার মেয়াদ প্রায় পাঁচ মাস আগেই শেষ হয়েছে। ফলে অবৈধভাবে অবস্থানের কারণে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন তিনি। ভারত ছাড়ার আগে তাঁকে বড় অঙ্কের জরিমানা গুনতে হয়েছে।

এদিকে ঢাকা ও নয়াদিল্লির কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ফেরদৌস আহমেদ ও গাজী আবদুন নূরের মতো তারকারা ভারতের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ করে বিতর্কিত হয়েছেন। ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে বিষয়টি উত্তাপ ছড়িয়েছে। আর এতে অস্বস্তিতে পড়েছে বাংলাদেশ মিশন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কূটনীতিক কালের কণ্ঠকে বলেন, ফেরদৌস ও গাজী নূরকে ভারত থেকে ‘বের হয়ে যাওয়ার’ নির্দেশ স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রচারিত ও প্রকাশিত হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা বাংলাদেশ মিশনের জন্য বিব্রতকর। এমনিতেই ভারতের বেশ কটি রাজ্যে কথিত অবৈধ বাংলাদেশি বড় ইস্যু হয়ে আছে। এবার ভোটের প্রচারণায় বাংলাদেশি তারকাদের অংশগ্রহণ বেশ সমালোচিত হয়েছে। কেউ কেউ একে ভারতের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার হিসেবেও দেখছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন গত বুধবার রাতে ঢাকায় এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ফেরদৌস ভুল করেছেন। তবে ভারতও কিছুটা অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।

তবে গতকাল বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের দেশে নির্বাচনের সময় কেউ (বিদেশি) যদি কোনো দলের পক্ষে প্রচারণা চালান আপনারা কী মনে করবেন? অনেকেই এটি পছন্দ না করতে পারে। আমরা মনে করি, আমাদের দেশের নামিদামি লোক অন্য দেশে গিয়ে এটি (নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ) বোধ হয় ঠিক করেননি।’

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, ভিসা ক্যাটাগরি যা-ই হোক না কেন, কেউই বিদেশের মাটিতে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারেন না। সে হিসেবে ফেরদৌস ও গাজী নূরের ক্ষেত্রে ভারতের নেওয়া ব্যবস্থা আইনানুগ হয়েছে। বরং তাঁদের বিরুদ্ধে আরো বেশি ব্যবস্থা নেওয়ারও সুযোগ ছিল।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ভারত থেকে বহিষ্কৃত ও কালো তালিকাভুক্ত হওয়ার ফলে আগামী দিনগুলোতে তাঁদের ভারতীয় ভিসা পাওয়া বেশ কঠিন হতে পারে। এর বড় প্রভাব পড়তে পারে ভারতে তাঁদের সিনেমা, সিরিয়ালের ক্ষেত্রে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা