kalerkantho

সোমবার। ১৭ জুন ২০১৯। ৩ আষাঢ় ১৪২৬। ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

বিএনপি নেতা শাহীন হত্যা : দুই খুনি গ্রেপ্তার

প্রধান আসামি প্যানেল মেয়রকে খুঁজছে পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া   

১৯ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মোটর মালিক গ্রুপের নেতৃত্ব নিয়ে সৃষ্ট কোন্দলের জের ধরেই খুন হয়েছেন বগুড়া সদর উপজেলা বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট মাহবুব আলম শাহীন। হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুজনকে গ্রেপ্তার ও তাদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন বগুড়া শহরের নিশিন্দারা এলাকার মৃত কালুর ছেলে পায়েল শেখ (৩৫) ও নিশিন্দারা মণ্ডলপাড়ার আবু তাহেরের ছেলে রাসেল (২৮)।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় বগুড়া পুলিশ সুপারের কনফারেন্স রুমে প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা এসব তথ্য জানান। গত ১৪ এপ্রিল রাত সাড়ে ১০টায় বগুড়া উপশহর বাজারে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে খুন করা হয় সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহবুব আলম শাহীনকে।

বগুড়া মোটর মালিক গ্রুপের নেতৃত্ব নিয়ে সৃষ্ট কোন্দলেই শাহীন খুন হয়েছেন উল্লেখ করে পুলিশ সুপার আলী আশরাফ জানান, হত্যাকাণ্ডের কয়েক ঘণ্টা আগে মোটর মালিক গ্রুপের এক নেতার অফিসে গোপন বৈঠক হয়। সেখানে শাহীনকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করার সিদ্ধান্ত হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী ওই নেতার ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং আরো একজন তাদের নিজস্ব লোকজনকে খবর দেয় এবং চারটি মোটরসাইকেল নিয়ে উপশহর বাজারের দিকে যায়। সেখানে অপেক্ষায় থাকে তারা। আর ঘটনাস্থলে খুনিদের পক্ষের একজন আগেই অবস্থান করছিল। সে খুনিদের সংবাদ দিলে পায়েল শেখ, রাসেলসহ আরো আট থেকে ৯ জন ঘটনাস্থলে গিয়ে শাহীনের ওপর হামলা চালায়।

এখানে পুলিশের উল্লেখ করা মালিক গ্রুপের ‘এক নেতা’ হচ্ছেন শাহীন হত্যা মামলার প্রধান আসামি আমিনুল ইসলাম, যিনি বগুড়া পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও জেলা মোটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক। পুলিশ প্রধান আসামি প্যানেল মেয়র আমিনুলসহ অন্যদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে।

খুন হওয়ার আগে শাহীন সদর উপজেলার নুনগোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলিমুদ্দিন ও মোটর মালিক সমিতির হিসাবরক্ষক বাপ্পির সঙ্গে গল্প করছিলেন। গল্প-গুজবের একপর্যায়ে অ্যাডভোকেট শাহীন মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে একটু সরে গেলে সুযোগ বুঝে আসামিরা তাঁকে উপর্যুপরি ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপাতে থাকে। শাহীন মাটিতে পড়ে যান। এ সময় খুনিরা দ্রুত ১০ তলা ভবনের পাশ দিয়ে নিশিন্দারার দিকে চলে যায়।

অপরদিকে আলিমুদ্দিন ও বাপ্পি আশঙ্কাজনক অবস্থায় শাহীনকে উদ্ধার করে ইজি বাইকে করে হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে পথেই তাঁর মৃত্যু হয়। শাহীন খুনের ঘটনায় বগুড়া সদর থানায় গত ১৬ এপ্রিল ছয়জনের নামোল্লেখ এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরো পাঁচজনসহ ১১ জনকে আসামি করে মামলা করেন নিহতের স্ত্রী আকতার জাহান শিল্পী। এতে প্রধান আসামি বগুড়া পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও জেলা মোটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম ছাড়া অপর আসামিরা হলেন আমিনুলের সহযোগী হিসেবে পরিচিত শহরতলির বড়কুমিড়া এলাকার সোহাগ, ছোটকুমিড়া সরদারপাড়ার বিদ্যুৎ, ছোটকুমিড়া পশ্চিমপাড়ার মাহমুদ, আজিজুল ইসলাম কাইল্লা ও শহরের নিশিন্দারা এলাকার পায়েল।

পুলিশ সুপার আরো জানান, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৭ এপ্রিল ভোরে সদর উপজেলার নিশিন্দারা মধ্যপাড়ার রাসেলকে গ্রেপ্তার এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হওয়া কালো রঙের পালসার মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য মতে পায়েল শেখকে গাবতলী উপজেলার কাগইল ইউনিয়নের আমলি চুকাই গ্রামে তাঁর মেয়ের শ্বশুরবাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। নিশিন্দারার কালু শেখের ছেলে পায়েলের নামে বগুড়া সদর থানায় ৯টি মামলা রয়েছে। গতকাল গ্রেপ্তার দুজনকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা