kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৫ জুন ২০১৯। ১১ আষাঢ় ১৪২৬। ২২ শাওয়াল ১৪৪০

সংস্কার নিয়ে আপাতত নির্ভার জামায়াত

সংস্কারের জন্য গঠিত কমিটির অর্ধেক সদস্যই কারাগারে

এম বদি-উজ-জামান   

১৯ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জামায়াতে ইসলামী বিলুপ্ত করে নতুন দল গঠন বা সংস্কার করার উদ্যোগে ভাটা পড়েছে। এ নিয়ে ভেতরে ও বাইরে থেকে যে চাপ ছিল তা এ মুহূর্তে না থাকায় ধীরে চলো নীতিতে হাঁটছে দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট থেকে নিজেদের গুটিয়ে নেওয়ার পর জামায়াতের ক্ষেত্রে সরকারের নমনীয়তার কারণেই দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এমন নীতি নিয়েছে বলে জানা গেছে।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের পদত্যাগ এবং মজলিসে শুরা সদস্য মুজিবুর রহমান মঞ্জুর বহিষ্কার ঘিরে দলে নেতাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চরমে ওঠে। পাশাপাশি দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের টনকও নড়ে। দলের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, আর যাতে কেউ দল না ছাড়ে বা দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিতে না পারে, সে জন্য কৌশল হিসেবে সারা দেশে নেতাকর্মীদের কাছে পাঠানো মজলিসে শুরার সিদ্ধান্তে নতুন সংগঠন গড়ার উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছিল। ওই বার্তায় বলা হয়েছিল, নতুন সংগঠন গড়ার লক্ষ্যে দলের সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে একটি কমিটি কাজ করছে। ঘোষণা এসেছিল জানুয়ারিতে।

সূত্র মতে, ওই সময় জামায়াতকে বিচারের আওতায় আনার লক্ষ্যে আইন সংশোধনের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে তোড়জোড় শুরু হওয়ায় জামায়াতও নড়েচড়ে বসেছিল। তখন দলের ভাঙন ঠেকাতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল আপাতত জামায়াতের নামে রাজনীতি না করার। সেই সঙ্গে জামায়াত বিলুপ্ত করে নতুন দল গঠন করা যায় কি না, সেই লক্ষ্যে কাজ শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। এরই অংশ হিসেবে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের কমিটি করার কথা জানানো হয়।

জানা গেছে, ওই কমিটির দুজন সদস্য সাবেক এমপি ডা. আবদুল্লাহ মো. তাহের ও হামিদুর রহমান আজাদ এখন কারাগারে। অন্য তিনজন জামায়াতের মূল ধারার পক্ষের। ইদানীং জামায়াতের বিষয়ে সরকারকেও ততটা কঠোর মনে করছেন না দলের নেতারা। এ ছাড়া জামায়াতের সব স্তরে ভাঙনের যে সুর উঠেছিল, তাও অনেকটা মিইয়ে এসেছে।

এ বিষয়ে জামায়াতের একজন কেন্দ্রীয় নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘২০ দলীয় জোটকে দুর্বল করতে জামায়াতকে বের করে দেওয়ার জন্য নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয়। এরই অংশ হিসেবে জামায়াতের অনেক কেন্দ্রীয় নেতাকে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। তা ছাড়া বিএনপির একটি অংশকে জামায়াতের বিরুদ্ধে উসকে দেওয়া হয়। তাতে জামায়াত রাজনীতিতে কোণঠাসা হয়ে পড়ে। এর পরও জামায়াত ২০ দলীয় জোট না ছাড়তে চাইলে দলটি নিষিদ্ধ করতে আইন সংশোধন করার ঘোষণা দেয় সরকার। এ অবস্থায় নানা বিষয়ে জামায়াতে কোন্দল মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। এরই ধারাবাহিকতায় দলের ভাঙন ঠেকাতে একটি কমিটি করা হয়। কমিটি কাজ করছে। তবে এ কমিটির দুজন সদস্য কারাগারে থাকায় প্রক্রিয়ায় ভাটা পড়েছে।’

দলের একটি সূত্রে জানা গেছে, জামায়াত রেখেই নতুন নামে দল করা, জামায়াত বিলুপ্ত করে নতুন দল করা, নতুন দল করার পর জামায়াত বিলুপ্ত করা এবং একাত্তরের ভূমিকার জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চেয়ে রাজনীতির বদলে জামায়াতের নামে সামাজিক কাজ করার চার প্রস্তাব নিয়ে দলের সব স্তরের নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের মতামত নেওয়া হচ্ছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে জামায়াত নিষিদ্ধ করার লক্ষ্যে উদ্যোগ দৃশ্যমান হলে নতুন দল গুছিয়ে জামায়াত বিলুপ্ত করা হতে পারে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মিয়া গোলাম পরওয়ার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করব না। কিছু বলতে হলে আমাদের সেক্রেটারি জেনারেল বলবেন।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা