kalerkantho

রবিবার। ১৬ জুন ২০১৯। ২ আষাঢ় ১৪২৬। ১২ শাওয়াল ১৪৪০

কৃত্রিম পায়ে উঠে দাঁড়ালেন রাসেল

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার (ঢাকা)    

১৯ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কৃত্রিম পায়ে উঠে দাঁড়ালেন রাসেল

উঠে দাঁড়ালেন রাসেল : ঘাতক বাস কেড়ে নিয়েছে এক পা। একটি বছরের দুঃসহ স্মৃতি পেছনে ফেলে নতুন পায়ে ভর করে উঠে দাঁড়িয়েছেন রাসেল সরকার। ছবিটি গতকাল সাভারের সিআরপি থেকে তোলা ছবি : কালের কণ্ঠ

ঘাতক বাস কেড়ে নিয়েছে পা। জীবনটাকে ঠেলে দিয়েছে গভীর অনিশ্চয়তায়। পা-বিহীন একটি বছরের দুঃসহ স্মৃতি পেছনে ফেলে নতুন পায়ে ভর করে উঠে দাঁড়িয়েছেন রাসেল সরকার। সাভারে পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্রে (সিআরপি) রাসেলের দেহে সংযোজন করা হয়েছে এই কৃত্রিম পা।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে গ্রীনলাইন পরিবহনের বাসের চাপায় রাসেল বাঁ পা হারান ২০১৮ সালের ২৮ এপ্রিল। প্রায় এক বছর পর হারানো পায়ের স্থানে কৃত্রিম পা সংযোজন করতে তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আসেন সিআরপিতে। সিআরপি কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে এই কৃত্রিম পা রাসেলকে সংযোজন করে দিচ্ছে। সিআরপির কৃত্রিম অঙ্গ সংযোজন বিভাগের (প্রস্থেটিক্স অ্যান্ড অর্থোটিকস বিভাগ) প্রধান মোহাম্মদ শফিক সকালে রাসেলের বাঁ পায়ের হাঁটু পর্যন্ত কৃত্রিম পা পরিয়ে দেন।

এ বিষয়ে মোহাম্মদ শফিক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রাসেলকে সিআরপির পক্ষ থেকে বিনা মূল্যে সুইজারল্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল টেকনোলজির উন্নত একটি কৃত্রিম পা প্রদান করা হয়েছে। এর আগে গত ১১ এপ্রিল তাঁর পা সম্পূর্ণ পরীক্ষা করে দেখা হয় সিআরপিতে। আজ (গতকাল বৃহস্পতিবার) সকালে রাসেল সিআরপিতে আসার পর তাঁর বাঁ পায়ে কৃত্রিম পা পরিয়ে দেওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘কৃত্রিম পা সংযোজনের পর এখন রাসেলকে প্যারালাল বারের মাঝে দাঁড় করিয়ে হাঁটার অভ্যাস করানো হচ্ছে। রাসেল বেশ সাহসী একজন ব্যক্তি। তিনি অতি সহজেই কৃত্রিম পা পরে স্বাভাবিকভাবে হাঁটার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই কৃত্রিম পা পরে স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলার অভ্যাস রপ্ত করতে রাসেলকে সিআরপিতে অন্তত চার সপ্তাহ অবস্থান করতে হবে। এই সময়টাতে তাঁকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। কৃত্রিম পায়ে হাঁটতে তাঁর যেন কোনো সমস্যা না হয় সে জন্যই তাঁকে সিআরপিতে চার সপ্তাহ অবস্থান করতে হবে। এই সময়ে নতুন পা দিয়ে তাঁর চলাফেরাসহ দৈনন্দিন কাজের বিষয়গুলোতেও অনুশীলন করানো হবে।’

কৃত্রিম পা লাগিয়ে দুই প্যারালাল বারের মাঝখানে পায়চারি করার সময় রাসেল অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, ‘কৃত্রিম পা লাগানোর পর আমার আগের জীবনের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। আজ থেকে এক বছর আগের কথা মনে পড়লে আমার গা শিউরে ওঠে। সেই সময় মনে হয়েছিল—এই বেঁচে থাকার চেয়ে মরে যাওয়া ভালো। কিন্তু সিআরপিতে এসে আমি নতুন জীবন খুঁজে পেয়েছি।’ সিআরপি ও সংস্থাটির সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তাঁদের সহানুভূতির মধ্যে আমার এখানে চার সপ্তাহ থাকতে খুব একটা সমস্যা হবে না। তা ছাড়া ছোট ভাই জীবন আমার সঙ্গে থাকবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা