kalerkantho

বুধবার । ২২ মে ২০১৯। ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৬ রমজান ১৪৪০

নদী বাঁচাতে ১০ বছরের মহাপরিকল্পনা

গৃহস্থালি ও শিল্প বর্জ্য যাতে নদীতে না যায় সে ব্যবস্থা করা হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



রাজধানীর চারপাশের নদী ছাড়াও চট্টগ্রামের কর্ণফুলী দখল ও দূষণমুক্ত করে নাব্যতা ফেরাতে ১০ বছর মেয়াদি একটি মহাপরিকল্পনার খসড়া চূড়ান্ত করেছে সরকার। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে এসংক্রান্ত সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।

মন্ত্রী বলেন, এখন মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিভিন্ন ওয়ার্কিং গ্রুপ কাজ করবে। তবে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কত টাকা লাগবে, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি। এটি ওয়ার্কিং গ্রুপ নির্ধারণ করবে। তিনি বলেন, ওয়ার্কিং গ্রুপ কাজগুলো ভাগ করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেবে। এরই মধ্যে সেই কাজ শুরু হয়েছে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ওই নদীগুলো দখল-দূষণমুক্ত করে নাব্যতা ফেরাতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে গঠিত টাস্কফোর্স কমিটিতে পদাধিকারবলে চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন। তাজুল ইসলাম বলেন, উন্নত বাংলাদেশ গড়তে হলে গ্রামগঞ্জের সব মানুষের কাছে উন্নয়নের সব সুবিধা পৌঁছে দিতে হবে। তেমনিভাবে নদীগুলোকে দূষণমুক্ত ও নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে হবে। তিনি বলেন, ‘কমিটি এরই মধ্যে একটি খসড়া মাস্টারপ্ল্যান করেছে। সেই মাস্টারপ্ল্যান সবার সঙ্গে আলোচনা করে নীতিগতভাবে অনুমোদন করেছি। একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।’

অনুমোদিত এই খসড়া এখন প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করবেন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এই মাস্টারপ্ল্যানকে ‘ক্র্যাশ প্রগ্রাম’, ‘স্বল্পমেয়াদি’, ‘মধ্যমেয়াদি’ ও ‘দীর্ঘমেয়াদি’ পরিকল্পনায় ভাগ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্যমাত্রা ১০ বছর। প্রাথমিকভাবে ক্র্যাশ প্রগ্রাম চলছে। এরই মধ্যে নদী দখলমুক্ত করা হচ্ছে, ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হবে। এরপর ওয়াসার নেতৃত্বে স্যানিটেশনের কাজ শুরু হবে।’ মন্ত্রী বলেন, নদীতে ড্রেজিং করতে হবে। পলি পড়ে নদীর বেডগুলো উঁচু হয়ে গেছে, সেগুলোকে আগের জায়গায় নিতে হবে। পানি দূষিত হয়ে গেছে, পানি ট্রিট করতে হবে। পানিতে আর যাতে দূষিত পদার্থ না যায় সে জন্য সোর্সগুলো বন্ধ করতে হবে। মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী, গৃহস্থালি ও শিল্প বর্জ্য যাতে আর নদীতে না যায়, সেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গত মার্চে এক রিট মামলার রায়ে ঢাকার তুরাগ নদকে ‘জীবন্ত সত্তা’ ঘোষণা করে দেশের সব নদ-নদী, খাল-বিল ও জলাশয়কে রক্ষার জন্য জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনকে ‘আইনগত অভিভাবক’ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ওই রায়ে নদী দখলকারীদের নির্বাচন করার ও ঋণ পাওয়ার অযোগ্য ঘোষণা করা হয়।

মন্তব্য