kalerkantho

তিতাস গ্যাস

দুর্নীতি প্রতিরোধে ১২ সুপারিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



তিতাস গ্যাস কম্পানির  দুর্নীতির ২২টি উৎস চিহ্নিত করে এই ভয়াবহ দুর্নীতি প্রতিরোধে ১২টি সুপারিশ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। সুপারিশগুলো হচ্ছে :

প্রি-পেইড মিটার : মিটার টেম্পারিং প্রতিরোধ এবং গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাসের অপচয় বন্ধ করতে ডিস্ট্রিবিউশন এবং গ্রাহক উভয় ক্ষেত্রে প্রি-পেইড মিটার চালু করা যেতে পারে। মাদার মিটার থেকে সাব মিটার চালু করা যেতে পারে।

আকস্মিক পরিদর্শনের ব্যবস্থা : ভ্রাম্যমাণ আদালতের মতো আকস্মিক পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। অবৈধ সংযোগ রয়েছে এ রকম তথ্যের ভিত্তিতে আকস্মিক পরিদর্শন, এই পরিদর্শনে অবৈধ সংযোগ পাওয়া গেলে ওই এলাকার তিতাসের পরিদর্শকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে প্রতিটি অবৈধ গ্রাহকের কাছ থেকে উচ্চহারে জরিমানা আদায় করা যেতে পারে।

ফলোআপ : অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পরে নিয়মিত ফলোআপের ব্যবস্থা করতে হবে যাতে পুনরায় অবৈধ সংযোগ নিতে না পারে।

দীর্ঘদিন শিল্প এলাকায় এবং একই বিভাগে পোস্টিং না রাখা : তিতাসের যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী দীর্ঘদিন শিল্প এলাকায় দায়িত্বে আছেন তাঁদের বদলির ব্যবস্থা করা; কোনো কর্মকর্তা এবং কর্মচারীকে শিল্প এলাকায় এবং একই বিভাগে এক থেকে দুই বছরের বেশি পোস্টিং না রাখার নীতি গ্রহণ করা যেতে পারে।

জনবলের দক্ষতা বাড়ানো : তিতাসের জনবলের বর্তমান দক্ষতা দিয়ে সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। এ জন্য প্রতিবছর জনবলের দক্ষতা যাচাই করা উচিত। তা ছাড়া, প্রতিষ্ঠানের জন্য এইচআর প্ল্যানিং (মানবসম্পদ পরিকল্পনা) করা যেতে পারে।

অনিয়মের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তি : বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তি নিশ্চিত করা যেতে পারে।

অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ : ট্রুথ কমিশনে যাওয়া তিতাস গ্যাসের অবৈধ সম্পদ অর্জনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অভ্যাসগতভাবে অপরাধী। সে ক্ষেত্রে যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী আগে ট্রুথ কমিশনে গিয়েছিলেন তাঁদের পদোন্নতি ও কোনো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পদায়ন করা উচিত নয়।

অডিট আপত্তিগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করা : তিতাস গ্যাস টিঅ্যান্ডডি কোং লিমিটেডের ২০১০-২০১১ থেকে ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরের সরকারি অডিট রিপোর্ট পর্যালোচনা করে প্রচুর অডিট আপত্তি লক্ষ করা গেছে। আপত্তিসমূহ দ্রুত নিষ্পত্তি করার জন্য সুপারিশ করা যেতে পারে। তা ছাড়া ওই আপত্তিগুলোর মধ্যে ফৌজদারি উপাদান থাকলে সেগুলোর ক্ষেত্রে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।

সিস্টেম লসের সর্বোচ্চ হার নির্ধারণ : তিতাসের সিস্টেম লসের সর্বোচ্চ কোনো হার নির্ধারণ করা নেই। তবে সরকারি নিরীক্ষা ২% পর্যন্ত গ্রহণ করে। অন্যদিকে তিতাসের বর্তমান সিস্টেম লস ৬%, যা খুব বেশি। এ জন্য সিস্টেম লসের একটি সর্বোচ্চ হার নির্ধারণ করে দেওয়া উচিত।

নিজস্ব নজরদারি ও ভ্রাম্যমাণ আদালত : তিতাস গ্যাসের নিজস্ব সার্ভিল্যান্স টিমসহ মোবাইল কোর্ট থাকা প্রয়োজন। এই টিম যেকোনো অভিযোগের ভিত্তিতে (যেমন : অবৈধ সংযোগ, মিটার বাইপাস করে সংযোগ, মিটার টেম্পারিং) তাত্ক্ষণিকভাবে সরাসরি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।

নিজস্ব প্রসিকিউশন বিভাগ : কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান অবৈধ সংযোগ নেওয়ার পর তা বিচ্ছিন্ন করা হলে আদালতের আদেশে পুনঃসংযোগ নিয়ে গ্যাস ব্যবহার করছে। এ ক্ষেত্রে কম্পানির একটি শক্তিশালী প্রসিকিউশন ব্যবস্থা থাকা উচিত, যাতে অবৈধ সংযোগ গ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে এই আদালত যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেন।

বকেয়া আদায়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ : বিভিন্ন শিল্প-কারখানা, সিএনজি ফিলিং স্টেশন এবং আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের কাছে ২০১৮ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত তিতাস গ্যাসের প্রায় ৪০৩,৯০,৬০,০৬০ (চার শ তিন কোটি নব্বই লাখ ষাট হাজার ষাট) টাকা বকেয়া পাওনা দীর্ঘদিন পড়ে আছে। এত বিপুল পরিমাণ বকেয়া আদায়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ। যেমন : টাস্ক ফোর্স গঠন করে সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণসহ প্রয়োজনে অনাদায়ী শিল্পপ্রতিষ্ঠান তথা গ্রাহকদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।

মন্তব্য