kalerkantho

বুধবার । ২২ মে ২০১৯। ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৬ রমজান ১৪৪০

নেত্রকোনায় তাবলিগ জামাতের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১০

কিশোরগঞ্জে এক পক্ষের আমিরকে মসজিদে অবরুদ্ধ

নেত্রকোনা ও পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি   

১৮ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নেত্রকোনার মদন উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের রামগোপালপুর গ্রামের গতকাল বুধবার সকালে তাবলিগ জামাতের সাদ ও জুবায়ের গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। সদর উপজেলার মদনপুর গ্রামে আগামীকাল থেকে শুরু হওয়া সাদ গ্রুপের তিন দিনের আঞ্চলিক ইজতেমায় জুবায়েরপন্থীদের বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষ হয়।

অন্যদিকে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় সাদ গ্রুপের একদল মুসল্লির মালপত্র মসজিদ থেকে ছুড়ে ফেলে দেওয়ার পর দলটির আমিরসহ দুজনকে মসজিদে তালা দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখে জুবায়ের গ্রুপের অনুসারীরা। গতকাল ভোরে পাকুন্দিয়া উপজেলার বীরপাকুন্দিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নেত্রকোনা : মদন উপজেলার রামগোপালপুর গ্রামে সংঘর্ষে আহত ব্যক্তিরা হলেন সাদ গ্রুপের হাসনপুর গ্রামের হাফেজ ওহিদুজ্জামান, কুলিয়াটি গ্রামের মো. দেলায়ার হোসেন ও আব্দুল কুদ্দুছ এবং জুবায়ের গ্রুপের দেওসহিলা গ্রামের মুফতি ওমর ফারুক, রামগোপলপুর হাফিজিয়া মাদরাসার মুফতি সোলেমান, হাফেজ খাইরুল ইসলাম, মাওলানা এনামুল হক, মো. শহিদুল ইসলাম, শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান ও আব্দুল ওয়াদুদ। আহত সাদপন্থী মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং জুবায়েরপন্থীদের পার্শ্ববর্তী কিশোরগঞ্জের তাড়াইল  উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও তাবলিগ জামাত সূত্র জানায়, নেত্রকোনা সদর উপজেলার মদনপুর গ্রামে শাহ সুলতান কমর উদ্দীন রুমির মাজারের পার্শ্ববর্তী মাঠে আগামীকাল শুক্রবার থেকে রবিবার পর্যন্ত তিন দিনের আঞ্চলিক ইজতেমার আয়োজন করে তাবলিগ জামাতের সাদ গ্রুপ। এর দাওয়াত দিয়ে আসছিলেন নেতারা। কিন্তু জুবায়ের গ্রুপের লোকেরা এতে বাধা দেয়। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা চলছিল।

গতকাল সকালে সাদ গ্রুপের ওহিদুজ্জামানের নেতৃত্বে ১৬ জন পাশের মদন উপজেলার রামগোপালপুর বড় বাড়ির মিশন চৌধুরীর বাড়িতে দাওয়া দিতে যায়। সেখান থেকে ফেরার পথে ভরাটপুকুর এলাকায় ১৫-২০ জন তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় জুবায়েরপন্থীরা। এ সময় সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন হয়। পরে পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে সাদপন্থীদের ইজতেমার প্যান্ডেল ভেঙে দেয় পুলিশ।

আহত হাফেজ মৌলানা ওহিদুজ্জামান বলেন, ‘জুবায়েরপন্থী মুফতি ওমর ফারুকের নেতৃত্বে ১৫-২০ জন আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। আমাদের একটি মোটরসাইকেল ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়েছে। আমি আইনের আশ্রয় নেব।’

মুফতি ওমর ফারুক জানান, এলাকার ‘উত্তপ্ত পরিস্থিতির’ কারণে গত সোমবার ফতেপুর হাটশিরা বাজার মসজিদে হাফেজ ওহিদুজ্জামাকে দাওয়াতের কাজ বন্ধ রাখার অনুরোধ করি। কিন্তু তিনি তা অমান্য করে আজ সকালে মিশন চৌধুরীর বাড়িতে দাওয়াত নিয়ে আসেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা উত্তেজিত হয়ে এর প্রতিবাদ জানায়।’

পাকুন্দিয়া থানার ওসি মো. রমিজুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

মসজিদে আমিরকে অবরুদ্ধ : কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ার ঘটনায় পুলিশ ও স্থানীয়রা সূত্র জানায়, সিলেট মারকাজ থেকে তাবলিগ জামাতের সাদ গ্রুপের ১৮ জনের একটি দল গতকাল বুধবার ফজরের পর বীরপাকুন্দিয়া গ্রামের মহিউদ্দিন মাস্টার বাড়ির জামে মসজিদে আসে। তারা পরিচয় দেওয়ার পর ওই মসজিদের ইমাম জুবায়েরপন্থী মাহফুজুর ও মসজিদ কমিটির কোষাধ্যক্ষ মোবারক হোসেন তাদের মসজিদ থেকে বের করে দেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও তর্ক-বিতর্কের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে মসজিদের ইমাম ও কোষাধ্যক্ষ সাদপন্থী মুসল্লিদের বের করে দেন এবং তাদের মালছামাল বাইরে ছুড়ে ফেলে দেন। এ সময় দলটির আমির মো. নজির উদ্দিন ও সদস্য মিজানুর রহমান ভেতরে থেকে যান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে জুবায়েরপন্থীরা দরজায় তালা মেরে ওই দুজনকে মসজিদের ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে পাকুন্দিয়া থানার এসআই আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তালা খুলে মসজিদ থেকে তাঁদের বের করে আনে। পরে আলোচনার মাধ্যমে মুসল্লিদের মসজিদেই থাকার ব্যবস্থা করে দেয় পুলিশ।

মসজিদ কমিটির ক্যাশিয়ার মো. মোবারক হোসেন বলেন, ‘আমাদের কাছে পূর্বানুমতি না নিয়ে মসজিদে ঢোকায় তালা মেরেছি এবং মালছামাল বাইরে রেখে দিয়েছি।’ 

পাকুন্দিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা এসে মসজিদে তালাবদ্ধ পাই। পরে তাঁদের উদ্ধার করে এলাকাবাসীকে নিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ওই জামাতকে মসজিদে থাকার ব্যবস্থা করে দিই।’

প্রসঙ্গত, কয়েক বছর ধরে নেতৃত্ব সংকটকে কেন্দ্র করে তাবলিগ জামায়াত বিভক্ত হয়ে পড়ে। এর ভাগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভারতের মাওলানা সাদ কান্দলভী। অন্য পক্ষে আছে ভারতের দেওবন্দ মাদরাসার আলেমরা। তাদের অনুসারীরা বাংলাদেশে বাংলাদেশের মাওলানা জুবায়ের আহমেদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

মন্তব্য