kalerkantho

বগুড়ায় বিএনপি নেতা শাহীন খুন

প্যানেল মেয়রের সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখছে পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া   

১৮ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বগুড়া পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও জেলা মোটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলামের নির্দেশেই বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট মাহবুব আলম শাহীনকে খুন করা হয়েছে। তাঁর ভাড়াটিয়া খুনির দলই হত্যাকাণ্ডটি ঘটায় বলে অনেকটাই নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। তবে এখন পর্যন্ত জড়িত আসামিদের একজনও গ্রেপ্তার হননি।

এদিকে প্যানেল মেয়র আমিনুল ইসলাম ফেসবুক ওয়ালে তাঁর নিজের ছবির সঙ্গে ওপরে বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের ছবিসংবলিত একটি পোস্টার শেয়ার করেছেন। এর সঙ্গে দেওয়া ক্যাপশনে তিনি দাবি করেছেন, শাহীন হত্যা মামলাটি বিএনপির দায়ের করা এবং সেটি মিথ্যা ও বানোয়াট।

এর আগে নৃশংস ওই খুনের ঘটনায় মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় বগুড়া সদর থানায় মামলা করেন নিহতের স্ত্রী আকতার জাহান শিল্পী। মামলার প্রধান আসামি আমিনুল ইসলাম ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন প্যানেল মেয়র আমিনুল ইসলামের সহযোগী হিসেবে পরিচিত শহরতলির বড়কুমিড়া এলাকার সোহাগ, ছোটকুমিড়া সরদারপাড়ার বিদ্যুৎ, ছোটকুমিড়া পশ্চিমপাড়ার মাহমুদ, আজিজুল ইসলাম কাইল্লা ও শহরের নিশিন্দারা এলাকার পায়েল। পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডের পরপরই খুনিরা গাঢাকা দিয়েছে। তাঁদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশের একাধিক টিম বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

নিহতের স্ত্রী শিল্পী দাবি করেন, পরিবহন ব্যবসা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। বাসের ব্যবসা নিয়ে মালিক সংগঠনের একটি পক্ষের সঙ্গে বিরোধ ছিল তাঁর স্বামীর। সেই বিরোধের জেরেই ভাড়াটে খুনি লেলিয়ে দিয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে শাহীনকে। শুধু তাই নয়, হত্যাকাণ্ডের পরও মামলা করার আগেই প্রভাবশালী মহল থেকে পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। এ কারণে তাঁরা এখনো আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।

এদিকে মাহবুব আলম শাহীন খুনের ঘটনা তদন্তে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মণ্ডলকে প্রধান করে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী, জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিদর্শক নূরে আলম সিদ্দিকী, সদর থানার ওসি এস এম বদিউজ্জামান, ডিবির পরিদর্শক আছলাম আলী, উপশহর পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম এবং ফুলবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক আমবার আলী।

পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূইয়া জানান, হত্যাকাণ্ডের ক্লু পরিষ্কার। শিগগিরই আসামিদের ধরা সম্ভব হবে।

মন্তব্য