kalerkantho

বুধবার । ২২ মে ২০১৯। ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৬ রমজান ১৪৪০

দুই মহল্লার বিরোধের জেরে শিশু খুন

প্রতিবাদে ভাঙচুর, লাশ নিয়ে বিক্ষোভ

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৮ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কিশোরগঞ্জ শহরে তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে ১২ বছর বয়সী মো. সাগর মিয়া নামে এক শিশুকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। আর এই হত্যাকাণ্ডের জেরে শহরের হারুয়া এলাকায় অন্তত দেড় শ দোকানপাট ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। অরাজক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশকে ১১ রাউন্ড ফাঁকা গুলি করতে হয়। মঙ্গলবার রাত ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত এসব ঘটনা ঘটে।

এদিকে শিশু হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে গতকাল বুধবার দুপুরে নিহত শিশুটির লাশ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে এলাকার কয়েক হাজার নারী-পুরুষ। তারা এ হত্যাকাণ্ডে হারুয়া এলাকার বাসিন্দা আবু হানিফ ওরফে হাছুর হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করে। মিছিল থেকে হাছুর বিচার দাবি করে স্লোগান দেওয়া হয়। মিছিলটি হারুয়া এলাকা থেকে বের হয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। এ হত্যাকাণ্ডের পর হারুয়া এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে ওই সব এলাকায়।

নিহত সাগর (১২) শহরের হারুয়া এলাকার পাশে অবস্থিত সওদারগরপাড়ার মো. বকুল মিয়ার ছেলে। শিশুটির বাবা ওই এলাকার পাগলা মসজিদের সামনে ধর্মীয় পুস্তক বিক্রির ব্যবসা করতেন। শিশুটিও তার বাবাকে এ ব্যবসায় সহযোগিতা করত।

পুলিশ জানিয়েছে, একটি ইভ টিজিংয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে হারুয়া ও সওদাগরপাড়ার যুবকদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে সওদাগরপাড়ার যুবকরা রাকুয়াইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে সাগরকে একা পেয়ে ছুরিকাঘাত করে। গুরুতর আহত সাগরকে কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে রাত ১২টার দিকে সে মারা যায়। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, সাগরের শরীরে ছুরির দুটি আঘাত পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একটি ছিল গুরুতর। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে শিশুটির মৃত্যু হয়।

জানা গেছে, বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে হারুয়া এলাকার বাসিন্দা আবু হানিফ ওরফে হাছু মিয়া শহরতলির পূর্ব কাতিয়ারচর গ্রামে বৈশাখী মেলার আয়োজন করে। গত ১৫ এপ্রিল (২ বৈশাখ) রাতে সওদারপাড়ার যুবকরা দলবেঁধে ওই মেলায় ঘুরতে যায়। অভিযোগ ওঠে তারা মেলায় ইভ টিজিংয়ের ঘটনা ঘটায়। এ অভিযোগে মেলার আয়োজক আবু হানিফ হাছু মিয়া সওদাগরপাড়ার কয়েকজন যুবককে ধরে মারধর করেন। পরে বিষয়টি হারুয়া ও সওদারপাড়ার বিরোধের জন্ম দেয়। মঙ্গলবার রাতে দুই পক্ষের মধ্যে এসব নিয়ে ধাওয়াধাওয়ির ঘটনা ঘটে। এর জের ধরে সাগরকে হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

হারুয়া এলাকার বাসিন্দা মো. মাসুম জানান, হারুয়া এলাকায় গভীর রাত পর্যন্ত খোলা থাকে। রাত ১২টার পর সাগরের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ সওদাগরপাড়ার লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে চড়াও হয় দোকানপাটের ওপর। কলেজ মোড় থেকে কসাইখানা পর্যন্ত অন্তত দেড় শ দোকানপাট ভাঙচুর করে। আর যেসব দোকান খোলা ছিল সেখানে লুটপাটও করে তারা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, এই অরাজক পরিস্থিতির খবর শুনে পুলিশ গিয়ে ১১ রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। তবে সওদারপাড়ার লোকজন বলছে, এ হত্যাকাণ্ডে বৈশাখী মেলার আয়োজক আবু হানিফ ওরফে হাছু মিয়াসহ তাঁর লোক দুদুল, সাফি, বাবু, শহীদ ও জিমেল জড়িত। এদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এ বিষয়ে কথা বলতে হাছু মিয়ার সঙ্গে গতকাল বিকেলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাঁর দুটি ফোনই বন্ধ পাওয়া যায়।

কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ওসি মো. আবুবকর সিদ্দিক বলেন, শিশু সাগর হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ হারুয়া এলাকার তিন যুবককে আটক করেছে। আর এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

মন্তব্য