kalerkantho

বুধবার । ২২ মে ২০১৯। ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৬ রমজান ১৪৪০

তুরাগতীরে আরো ৯৬ স্থাপনা উচ্ছেদ

রোজার আগেই সেখানকার সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করার আশাবাদ সংশ্লিষ্টদের

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তুরাগতীরে আরো ৯৬ স্থাপনা উচ্ছেদ

অবৈধ উচ্ছেদ অভিযানের ২৮তম দিনে ভেঙে ফেলা হয় এই আলিশান ভবনটিও। ছবি : কালের কণ্ঠ

নদীতীর দখলমুক্ত করতে চলমান অভিযানের ২৮তম দিবসে ভাঙা পড়েছে তিনটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের কারখানা, গুদামসহ ৯৬টি স্থাপনা। নিলামে বিক্রি হয়েছে ২২ লাখ টাকার মালামাল। আসন্ন রোজার আগেই ঢাকার চারদিক ঘিরে থাকা নদীতীর দখলমুক্ত করা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে আশুলিয়া বেড়িবাঁধের ধউর এলাকা থেকে শুরু হয় উচ্ছেদ অভিযান। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডাব্লিউটিএ) বুলডোজার, ক্রেন নিয়ে পরিষ্কার করতে থাকে নদীতীর। একে একে উচ্ছেদ হয় বালুমহাল, কারখানার প্রাচীর, গোডাউন, আলিশান ভবনসহ ব্যবসাকেন্দ্র। সবকিছু গুঁড়িয়ে দিনভর প্রচেষ্টায় চার একর জায়গা অবমুক্ত করা হয়েছে।

তুরাগ নদের উভয় পারে বিস্তর জায়গা দখল করে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছে নানা স্থাপনা। আপাতত নদীতীর উদ্ধারে বিআইডাব্লিউটিএ অভিযান চালাচ্ছে। এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা দখল করেও স্থাপনা গড়েছে। গতকাল দুপুরে আধাঘণ্টা বিরতি দিয়ে বিকেল পর্যন্ত টানা চলে উচ্ছেদ অভিযান।

অভিযানকালে অন্য স্থাপনার পাশাপাশি ভবনের কাঁচামাল তৈরির তিনটি কারখানাও পড়ে। ভাঙা পড়েছে একটি পাইপ অ্যান্ড ফিটিংস, কংক্রিট তৈরির কারখানাও। একটি পাইপ ও এলপিজি গোডাউনও ছিল নদীতীরে। সেখান থেকে মালামাল ঠিকমতো না সরানোর কারণে কিছুটা বিঘ্ন ঘটে অভিযানে। গ্যাস সিলিন্ডারের মতো ঝুঁকিপূর্ণ জিনিসপত্র সতর্কতার সঙ্গে সরিয়ে উচ্ছেদ কাজ করেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। একজন মালিক দাবিদার উচ্ছেদে নিষেধাজ্ঞাসহ উচ্চ আদালত থেকে রায় এনেছেন বলে দাবি করেন। কিন্তু কাগজপত্র যাচাই করে তার সঠিকতা খুঁজে পাননি অভিযান সংশ্লিষ্টরা। সে কারণে উচ্ছেদ অব্যাহত থাকে।

উচ্ছেদ অভিযানে দুটি স্থাপনা অক্ষত রাখার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এ  প্রসঙ্গে বিআইডাব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন বলেন, ‘হাইকোর্টের নির্দেশনা রয়েছে। সব স্থাপনার ব্যাপারে উচ্চ আদালতের নির্দেশ অনুসরণ করা হচ্ছে। কাজ করা হচ্ছে নিয়মনীতি মেনে। এ ক্ষেত্রে অযাচিত বাধাদানের চেষ্টায় লাভ হবে না। দখলদাররা যত প্রভাবশালী হোক কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’ রোজার আগেই তুরাগতীরের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, উচ্ছেদ অভিযানকালে গতকাল ভাঙা হয়েছে মোট ৯৬টি স্থাপনা। যার মধ্যে রয়েছে একটি চারতলা ভবন, তিনটি দোতলা ও ১১টি একতলা। আধাপাকা ১৫টি ও টিনশেড ২৭টি ঘর উচ্ছেদ হয়েছে। ভাঙা পড়েছে আটটি বাউন্ডারি ওয়াল। ৩১টি টিনের ঘর ও তিনটি বালুর গদি উচ্ছেদ করা হয়। নিলামে বিক্রি হয় ২২ লাখ ৪৪ হাজার টাকার মালামাল। গতকালের অভিযানে মোট চার একর তীরভূমি অবমুক্ত করা হয়েছে।

মন্তব্য