kalerkantho

বুধবার । ২৬ জুন ২০১৯। ১২ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

হাতীবান্ধায় আ. লীগের দুই পক্ষের ধাওয়াধাওয়ি

দম্ভোক্তি করে পেটানো হলো সাংবাদিককে

লালমনিরহাট ও হাতীবান্ধা প্রতিনিধি   

২৭ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় মহান স্বাধীনতা দিবসে আওয়ামী লীগের বিবদমান দুই পক্ষে ধাওয়াধাওয়ির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন আসাদুজ্জামান নামের এক সাংবাদিক। তিনি দৈনিক মানবকণ্ঠ’র লালমনিরহাট প্রতিনিধি। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১০ মার্চ প্রথম ধাপে হাতীবান্ধা উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বী পাঁচ প্রার্থীর একজন ছিলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত আর বাকি চারজনই ছিলেন দলের বিদ্রোহী। নির্বাচনে মশিউর রহমান মামুন নামে আওয়ামী লীগের এক বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচিত হন। আর ওই নির্বাচন ঘিরেই দ্বন্দ্ব শুরু হয় আওয়ামী লীগ মনোনীত পরাজিত প্রার্থী লিয়াকত হোসেন বাচ্চু ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক পরাজিত প্রার্থী সরওয়ার হায়াত খানের মধ্যে। এরই জেরে গত সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার দলীয় কার্যালয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য মোতাহার হোসেনের উপস্থিতিতে ওই দুজনের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

এই অবস্থায় গতকাল ওই দুই পক্ষ নিজেদের কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে শোডাউন করে পৃথকভাবে হাতীবান্ধা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্প্যমাল্য অর্পণ করে। পরে সেখান থেকে ফেরার পথে বন্দর এলাকায় দুই পক্ষ মুখোমুখি হলে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। তবে পুলিশি হস্তক্ষেপে অল্প সময়ের মধ্যে সেখান থেকে দুই দিকে চলে যায় দুই পক্ষ। 

এদিকে সেখান থেকে লিয়াকত হোসেন বাচ্চুর অনুসারীরা টংভাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম হোসেনের নেতৃত্বে মেডিক্যাল মোড়ের দিকে ফিরছিল। সেখানে থাকা বেশ কিছু লোক লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র হাতে নানা ধরনের উসকানিমূলক স্লোগান দিচ্ছিল। এসএস সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে তাদের এ মহড়ার ছবি তুলতে গেলে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান সাজুর ওপর হামলা চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সেলিম হোসেনের খালাতো ভাই ও রংপুর কারমাইকেল কলেজের একসময়ের ‘শিবির ক্যাডার’ হিসেবে পরিচিত সদরুল আমিন রিপন ও তাঁর ছোট ভাই খোকন এবং সিরাজুল নামের এক ব্যক্তি এ হামলার নেতৃত্ব দেন। এ সময় সাজুকে বেধড়ক পিটিয়ে তাঁর ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়। তাদের হাত থেকে সাজুকে রক্ষা করতে গিয়ে শরীফ মোল্লা নামের স্থানীয় একজন দলিল লেখকও মারধরের শিকার হন। হামলাকারীরা সেখান থেকে চলে যাওয়ার পর স্থানীয়রা গুরুতর অবস্থায় সাজু ও শরীফকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। বিকেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ওই সাংবাদিককে পাঠানো হয় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

জানা গেছে, হাতীবান্ধা উপজেলার গোতামারী এলাকার বাসিন্দা সদরুল আমিন রিপন এলাকায় শিবির ক্যাডার হিসেবে পরিচিত। তবে তাঁর খালাতো ভাই ও কিছুদিন আগে আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়া সেলিম হোসেনের তৎপরতায় রিপনও সম্প্রতি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সংশ্লিষ্ট হন। ফলে গতকালের মহড়ায় তাঁকেও দেখা যায়।

সাংবাদিক আসাদুজ্জামান সাজু বলেন, “ছবি তোলার জন্য ক্যামেরা বের করতেই রিপনসহ তিনজন আমাকে মারধর শুরু করে। রিপন লাঠি দিয়ে পেটাতে পেটাতে বলতে থাকে, ‘এখন আর শিবির করি না, আওয়ামী লীগ করি। তোকে আজ মেরেই ফেলব।’” দুপুরে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাজু জানান, ওই ঘটনার পর তাঁর আর কিছু মনে নেই। পরে তিনি জানতে পারেন, মারধরের কারণে সেখানেই তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর জ্ঞান ফিরে আসে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা