kalerkantho

বুধবার। ১৯ জুন ২০১৯। ৫ আষাঢ় ১৪২৬। ১৫ শাওয়াল ১৪৪০

পথে পথে লাল-সবুজে তারুণ্যের জোয়ার

জহিরুল ইসলাম   

২৭ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পথে পথে লাল-সবুজে তারুণ্যের জোয়ার

ছবি: কালের কণ্ঠ

‘স্বাধীনতা শব্দটি কানে এলেই হৃদয়ের আয়নায় ভেসে ওঠে লাল-সবুজ পতাকার ছবি; যে ছবিতে ভেসে ওঠে শহীদদের স্বপ্নের কথা, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার কথা। এই স্বপ্নের কথা আমার সন্তানকেও জানতে হবে, মানতে হবে।’

মহান স্বাধীনতা দিবসে গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১১টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কথাগুলো বলেন জান্নাত আরা নিপা। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি এসেছেন শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। নিপা যোগ করেন, ‘বছরে বেশ কয়েকটি জাতীয় দিবস রয়েছে। তবে এর মধ্যে স্বাধীনতা দিবসের মূল বিষয়টি আমাদের সন্তানদের বোঝাতে হবে। তাই স্বাধীনতা দিবসের এই সকালে সপরিবারে শহীদ মিনারে আসা। সম্ভব হলে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে চলে যেতাম।’

জাতীয় পতাকার রং লাল-সবুজের পোশাক পরে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে গতকাল সকাল থেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে রাজধানীর পথে পথে বেরিয়ে আসে সাধারণ মানুষ। তারা দিনভর ঘুরে বেড়ায় একাত্তরের স্মৃতিবিজড়িত নগরের বিভিন্ন এলাকায়। সব শ্রেণি-পেশার মানুষ স্ব স্ব অবস্থান থেকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে জাতির সূর্যসন্তানদের।

বিকেল সাড়ে ৩টার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় কথা হয় পতাকা বিক্রেতা শুক্কুর মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ছোটদের হাতে পতাকা তুইল্লা দিতে পারলে ভালো লাগে। আমি রিকশা চালাই। খালি বিজয় দিবস আর স্বাধীনতা দিবসে ঢাকার পথে পথে ঘুইরা পতাকা বিক্রি করি। এতে আমার পেটও চলে। আবার পোলাপানের হাতে পতাকা তুইল্লা দিয়া মনে হয় আমি স্বাধীনতা তুইল্লা দিতাছি।’

ব্যাংক কর্মকর্তা কামাল হোসেন বলেন, ‘প্রতিবছরই আমরা স্বাধীনতা দিবস পালন করি। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান একাত্তরের শহীদদের শ্রদ্ধাভারে স্মরণ করি। তবে পরবর্তী প্রজন্মের বিষয়টি আমরা সেভাবে বিবেচনায় রাখি না। মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল বিষয়টি আমাদের সন্তানদের জানাতে পারছি কি না—এমন প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। শিশুকে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা অর্জনের সঠিক ইতিহাস জানানো হলে সে কখনো দেশকে অবজ্ঞা করবে না। স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবসে শহীদদের প্রতি তার শ্রদ্ধাবোধ এমনিতেই জেগে উঠবে। এটা করা গেলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশে কখনো জঙ্গি তৈরি হবে না।’

মহান স্বাধীনতা দিবসসহ অন্যান্য জাতীয় দিবস যেন কেবল আনুষ্ঠানিকভাবে পালনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে। এর মাধ্যমে শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ কেমন ছিল তা যেন তরুণরা জানতে পারে। যেমনটা বলছিলেন আবৃত্তিশিল্পী পলি পারভীন—‘পরিবার নিয়ে ২৬শে মার্চের অনুষ্ঠান দেখতে বের হয়েছি। তবে মাঝে মাঝে ভাবি, আমরা কি শুধু দিবস উদ্যাপনেই ব্যস্ত সময় পার করছি? প্রতিবছর সেই একই বিষয় একইভাবে সন্তানদের সামনে উপস্থাপন করছি। ৩০ লাখ শহীদের আত্মাহুতির সঠিক চিত্র কি আমরা তুলে ধরতে পারছি? বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে গভীরভাবে ভাবতে হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা