kalerkantho

রবিবার। ১৬ জুন ২০১৯। ২ আষাঢ় ১৪২৬। ১২ শাওয়াল ১৪৪০

‘ইস্পাহানি মির্জাপুর বাংলাবিদ’ প্রতিযোগিতা

সিলেট বিভাগের সেরা ৭ প্রতিভা নির্বাচিত

সিলেট অফিস   

৯ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সাপ্তাহিক ছুটির দিন ছিল গতকাল শুক্রবার। অথচ সিলেট সরকারি অগ্রগামী উচ্চ বিদ্যালয় আঙিনা দেখে তা বোঝার উপায় নেই। সিলেট বিভাগের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হাজারো শিক্ষার্থীর প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে ছুটির আমেজ রীতিমতো হাওয়া। বরং ছিল প্রতিযোগিতা, অপেক্ষা, উৎকণ্ঠা আর সবশেষে ফল ঘোষণার সময় একেকটি নাম উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গে হাততালি, সম্মিলিত কণ্ঠে উচ্ছ্বাস প্রকাশ। সব মিলিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হলো ‘ইস্পাহানি মির্জাপুর বাংলাবিদ’-এর তৃতীয় আসরের সিলেট পর্বের বাছাই প্রতিযোগিতা। প্রায় দেড় হাজার প্রতিযোগীর মধ্য থেকে বেছে নেওয়া হলো সিলেট বিভাগের সেরা সাত বাংলাবিদকে।

শুদ্ধ ও সঠিক বাংলার চর্চা নিশ্চিত করতে এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে শুদ্ধ বাংলা ছড়িয়ে দিতে চ্যানেল আই আয়োজন করছে মেধাভিত্তিক টিভি রিয়ালিটি শো ‘ইস্পাহানি মির্জাপুর বাংলাবিদ’। ইস্পাহানি মির্জাপুরের উদ্যোগ, পরিকল্পনা ও পৃষ্ঠপোষকতায় ২০১৭ সাল থেকে এই প্রতিযোগিতা নিয়মিত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবার তৃতীয় আসরে মিডিয়া পার্টনার হয়েছে কালের কণ্ঠ।

স্কুল ক্যাম্পাসে সকাল ৯টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ইস্পাহানি মির্জাপুর বাংলাবিদ প্রতিযোগিতার সিলেট পর্বের কার্যক্রম। সিলেটের সেরা সাত বাংলাবিদ হওয়ার যুদ্ধে নামতে সহস্রাধিক শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশনের জন্য সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ায়। আয়োজকদের ধারণা ছিল, বড়জোর হাজারখানেক প্রতিযোগী অংশ নেবে। তাদের সেই ধারণা ভুল প্রমাণিত হয় কিছু সময়ের ব্যবধানেই। এক এক করে সংখ্যাটি গিয়ে দাঁড়ায় দেড় হাজারের ঘরে। তবে কাউকে হতাশ হতে হয়নি। বাংলাবিদ প্রতিযোগিতার চিফ ইভেন্ট কো-অর্ডিনেটর তাহের শিপন বলেন, ‘আমরা ঢাকা থেকে এক হাজার প্রশ্নপত্র নিয়ে এসেছি। কিন্তু এখানে পরীক্ষার্থী দেড় হাজারের মতো।’

‘বাংলাবিদ’ তৃতীয় বর্ষের বাছাই পর্বে অংশ নিতে আসা সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী আনিশা ইসলাম নিজের প্রতিক্রিয়ায় বলে, ‘বহু দিন ধরে বাংলাবিদ প্রতিযোগিতার অপেক্ষায় ছিলাম। ভালো ফল করতে চাই।’

রেজিস্ট্রেশন শেষে সকাল ১০টায় শুরু হয় ৪০ নম্বরের নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্ন ও অনুধাবনমূলক প্রশ্নে প্রাথমিক মেধা যাচাই পরীক্ষা। পরীক্ষা শেষ হয় সকাল ১১টায়। এক ঘণ্টার এ পরীক্ষা থেকে বাছাই করা হয় সিলেট বিভাগের সেরা ২০ জন প্রতিযোগী। পরে তাদের নিয়ে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শুরু হয় দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা। এই পর্যায়ে একাধিক ধাপের মাধ্যমে প্রতিযোগীর জ্ঞান, মেধা ও দক্ষতা যাচাইয়ের মাধ্যমে সিলেট বিভাগের সেরা সাত বাংলাবিদ নির্বাচন করা হয়।

আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে দেশসেরা বাংলাবিদ বিজয়ীকে দেওয়া হবে ১০ লাখ টাকার মেধাবৃত্তি। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারীরা পাবে যথাক্রমে তিন লাখ ও দুই লাখ টাকার মেধাবৃত্তি। এ ছাড়া সেরা দশ বাংলাবিদের প্রত্যেকে পাবে একটি করে ল্যাপটপ এবং ব্যক্তিগত গ্রন্থাগার করার জন্য ৫০ হাজার টাকা সমমূল্যের বাংলা বই ও বইয়ের আলমারি। ইস্পাহানি মির্জাপুর টি লিমিটেডের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ (ব্র্যান্ড) সুব্রত দেব বলেন, ‘বাংলা ভাষার প্রতি পুরো বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা ছড়িয়ে আছে। প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শুদ্ধ বাংলা ভাষার ব্যবহার, বানান চর্চা ইত্যাদি বিষয়ে দক্ষতা যাচাই করা হয়।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা