kalerkantho

শনিবার । ২৫ মে ২০১৯। ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৯ রমজান ১৪৪০

সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ঢাকার নীতিতে আস্থা নয়াদিল্লির

ইসলামাবাদের ওপর আরো বৈশ্বিক চাপ প্রত্যাশা

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

৯ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের পুলওয়ামায় নিরাপত্তা বাহিনীর গাড়িবহরে সন্ত্রাসী হামলা হয় গত ১৪ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৩টার পর। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তখন জার্মানির মিউনিখ অভিমুখী ফ্লাইটে। সেদিন রাত ৯টার দিকেই সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে পাঠানো শেখ হাসিনার বার্তা নয়াদিল্লিতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছায়। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে বর্তমান সরকারের এই সুস্পষ্ট ও কঠোর অবস্থানের প্রশংসা করেছে নয়াদিল্লির কূটনীতিক সূত্রগুলো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নয়াদিল্লির এক কূটনীতিক বলেন, ‘আক্ষরিক অর্থে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জার্মানি পৌঁছার পরপরই ভারতে সন্ত্রাসী হামলার বিষয়টি অবগত হয়ে এর নিন্দা জানিয়েছেন। সেদিন সন্ত্রাসী হামলায় নিন্দা জানানো প্রথম দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।’ তিনি আরো বলেন, চীনসহ সারা বিশ্ব ওই সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানিয়েছে। এর পরও পাকিস্তান সন্ত্রাস মদদ দেওয়া অব্যাহত রেখেছে। তিনি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জোরালো বৈশ্বিক চাপ প্রত্যাশা করেন।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সার্বিকভাবে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের বড় অংশের যে অবস্থান ভারত তার জোরালো প্রশংসা করে থাকে। শেখ হাসিনার সরকার দেশে ও দেশের বাইরে সব ধরনের সন্ত্রাসের ব্যাপারে কোনো ধরনের ছাড় না দেওয়ার নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করছে। তবে এর বিপরীত অবস্থা পাকিস্তানের। এটি পুরো অঞ্চল তথা বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি সৃষ্টি করছে।

নয়াদিল্লির কর্মকর্তারা বলেছেন, পাকিস্তানের মাটিতে অবস্থান করে ভারতে হামলার পরিকল্পনা করছে এমন চিহ্নিত জঙ্গি-সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হলেও ইসলামাবাদ তা করেনি। বরং প্রকারান্তরে ওই জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা দিচ্ছে। তাই গত ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ভারতের বিমানবাহিনীর অভিযানকে ‘সন্ত্রাসবিরোধী উদ্যোগ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন তাঁরা।

ওই কর্মকর্তারা আরো দাবি করেন, ভারতীয় হামলায় যে পাকিস্তানের জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা ভারতে পাকিস্তানের আগ্রাসনের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে। তাঁরা বলেন, জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ভারত রাশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ‘ব্রাজিল-রাশিয়া-ভারত-চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা (ব্রিকস)’ জোট পাকিস্তানভিত্তিক মাসুদ আজহারের ‘জইশ-ই-মোহাম্মদ’ নামে গোষ্ঠীকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে ঘোষণা করলেও পাকিস্তান এর বিরুদ্ধে কার্যত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

মন্তব্য