kalerkantho

শনিবার । ২৫ মে ২০১৯। ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৯ রমজান ১৪৪০

ক্ষতিগ্রস্ত ভাড়াটিয়ার পাশে দাঁড়াতে চায় ভোক্তা অধিদপ্তর

চাই আইন সংশোধন

শওকত আলী   

৯ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যেসব ভাড়াটিয়া বাড়িওয়ালার প্রতারণার শিকার হয় তাদের আইনি সহায়তা দিতে চায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। বর্তমানে তাদের কর্মপরিধিতে বিষয়টি নেই। জনগণের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে অধিদপ্তর নতুন ২০টি বিষয় তাদের আইনের আওতায় আনতে চায়। বাড়িভাড়া ছাড়াও এর মধ্যে রয়েছে ট্রাভেল এজেন্সি, রিক্রুটিং এজেন্সি, বিনোদনকেন্দ্র, সেলুন/বিউটি পার্লার, আবাসন, জুয়েলারিসহ আরো কিছু খাত। অবশ্য এর জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে আইন সংশোধনের দিকে যেতে হবে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম লষ্কর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অনেকে আমাদের কাছে অভিযোগ নিয়ে আসে। সেগুলো আইনের আওতার বাইরে বলে আমরা আমলে নিতে পারছি না। বাড়িভাড়া বা হজ প্যাকেজ নিয়ে অনেকেই প্রতারণার শিকার হয়। আমরা চাই তাদেরও সেবা দিতে। এর জন্য আইন সংশোধন করে বিষয়গুলোকে সংযুক্ত করতে হবে।’

ভোক্তার স্বার্থ সংরক্ষণে ১০ বছর ধরে কাজ করে যাচ্ছে এ অধিদপ্তর। গ্রাহক সেবাসংক্রান্ত মোট ১০টি বিষয়ের ভিত্তিতে অভিযোগ আমলে নিয়ে দ্রুত তদন্ত ও বিচার করার এখতিয়ার রাখে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে বাড়িভাড়া নেই। ভোক্তা অধিদপ্তর নকল খাদ্যপণ্য প্রস্তুত, খাদ্যপণ্যে ভেজাল মিশ্রণ, মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য বিক্রয়, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য প্রস্তুত, উৎপাদন বা বিক্রয়, নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্যে খাদ্যপণ্য বিক্রয়, মিথ্যা বিজ্ঞাপনে ক্রেতাকে প্রতারিত করার মতো মোট ১০টি বিষয়ে গ্রাহকের অভিযোগ গ্রহণ করে থাকে।

অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, অনেক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে প্যাকেটজাত নানা পণ্য নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করতে দেখা যায়। এটা এক ধরনের গ্রাহক প্রতারণা। প্রতারিত অনেক ভোক্তা এ বিষয়ে অধিদপ্তরে গিয়েছে, তাদের কেউ কেউ সহায়তাও পেয়েছে।  অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবসায়ীকে আর্থিক দণ্ড এবং সতর্ক করে দেওয়া হয়। আর্থিক দণ্ডের একটি অংশ অভিযোগকারীকেও দেওয়ার আইনি বিধান রয়েছে।

অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ২০১০-২০১৩ সাল পর্যন্ত লিখিত অভিযোগের সংখ্যা ছিল ১৭৯। প্রতিটি অভিযোগই নিষ্পত্তি করা হয় এবং সবগুলোতেই রায় যায় ভোক্তার পক্ষে। ধীরে ধীরে বাড়তে বাড়তে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এই অভিযোগের সংখ্যা দাঁড়ায় ৯ হাজার ১৯। এই বছরেও সব অভিযোগের নিষ্পত্তি হয়। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এসে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অভিযোগ জমা পড়েছে পাঁচ হাজার ৩৬৭টি। এখন পর্যন্ত নিষ্পত্তি হয়েছে দুই হাজার ৫৪৫টি বলে অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, বাকিগুলো বিচারাধীন।

মন্তব্য