kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ মে ২০১৯। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৭ রমজান ১৪৪০

মেলা ছাড়াই এবার রাজপুণ্যাহ উৎসব

তিন দিনের মেলার অনুমতি দেয়নি প্রশাসন

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান   

৯ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মেলা ছাড়াই এবার রাজপুণ্যাহ উৎসব

বান্দরবান সদরের রাজার মাঠে গতকাল অনুষ্ঠিত হয় বোমাং সার্কেলের ১৪১তম রাজপুণ্যাহ উৎসব। ছবি : কালের কণ্ঠ

পার্বত্য বান্দরবান জেলা সদরের রাজার মাঠে গতকাল শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয়েছে বোমাং সার্কেলের ১৪১তম রাজপুণ্যাহ উৎসব। বোমাং সার্কেলভুক্ত বান্দরবান পার্বত্য জেলার সব কটি (৯৫টি) মৌজা এবং কর্ণফুলী নদীর এপারে অবস্থিত রাঙামাটি পার্বত্য জেলার ১৪টি মৌজার হেডম্যান (মৌজাপ্রধান) এবং কার্বারিরা (পাড়াপ্রধান) এই দিনে জেলা সদরে এসে রাজার কাছে আদায়কৃত খাজনা পরিশোধ করেছেন। প্রশাসনের অনুমতি না থাকায় রাজপুণ্যাহর সঙ্গে তিন দিনব্যাপী লোকজ মেলার আয়োজন এবার নেই।

সরকারের পক্ষে সার্কেল চিফ বা রাজা বাহাদুরের মাধ্যমে বার্ষিক জুম ফসল কর ও ভূমিকর আদায়ের ঐতিহ্যবাহী এই অনুষ্ঠান স্থানীয়ভাবে রাজপুণ্যাহ নামে পরিচিত। ১৮৭৫ সালে শুরু হওয়া কর আদায়ের এই আনুষ্ঠানিকতা বোমাং সার্কেলের রাজারা বংশপরম্পরায় আজও ধরে রেখেছেন।

কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সকালে উৎসবের উদ্বোধন করেন। পরে বোমাং সার্কেলের ১০৯টি মৌজার হেডম্যান ও কার্বারি এবং সর্বস্তরের মানুষের সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার সব ধর্ম-বর্ণ ও জাতি-গোষ্ঠীর মানুষের কৃষ্টি-সংস্কৃতি রক্ষায় বদ্ধপরিকর। দেশের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নকে আরো বেগবান করতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমি এবং উ চ প্রু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একই ব্যাচের ছাত্র। আজ আমি সরকারের মন্ত্রী হয়েছি। কিন্তু সরকারের মন জয় করে উ চ প্রু হয়ে আছেন জনগণের রাজা। এটি দেখে আমার ভালো লাগছে।

অনুষ্ঠানে ১৭তম বোমাং রাজা কৃষিবিদ উ চ প্রু তাঁর বার্ষিক অভিভাষণে দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি রক্ষায় সবার সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, রাজপুণ্যাহ পাহাড়ি-বাঙালি সবার সম্মিলিত উৎসব। এ কারণে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর কৃষ্টি ও মূল্যবোধ ধরে রাখার ক্ষেত্রে তিনি সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।

কৃষি সচিব, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সরকারি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

পরে বিভিন্ন মৌজার হেডম্যানরা ঐতিহ্যবাহী রীতি অনুযায়ী অষ্টাঙ্গে প্রণাম করে রাজাকে স্ব স্ব মৌজার জুমকর ও ভূমিকর প্রদান করেন।

দেশের অন্য কোনো অঞ্চলে সার্কেল চিফ বা রাজাদের মাধ্যমে ভূমি ব্যবস্থাপনা এবং রাজস্ব আদায়ের রীতি প্রচলিত নেই। তবে ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম রেগুলেশন অনুযায়ী সার্কেল চিফ বা রাজাগণ সরকারের পক্ষে জমি ও জুম ফসল কর আদায় করে থাকেন। আদায়কৃত খাজনা থেকে মৌজা হেডম্যান ৩৭ শতাংশ, সার্কেল চিফ বা রাজারা ৪২ শতাংশ এবং অবশিষ্ট ২১ শতাংশ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।

মন্তব্য