kalerkantho

শনিবার । ২৫ মে ২০১৯। ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৯ রমজান ১৪৪০

নারী দিবসে বাংলাদেশ প্রতিদিনের গোলটেবিল

‘নারীর অগ্রযাত্রায় প্রয়োজন মানসিকতার পরিবর্তন’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



‘নারীর অগ্রযাত্রায় প্রয়োজন মানসিকতার পরিবর্তন’

ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়ার কনফারেন্স রুমে গতকাল ‘নারী অধিকার ও বাংলাদেশের বাস্তবতা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে বাংলাদেশ প্রতিদিন। ছবি : কালের কণ্ঠ

সমাজকে এগিয়ে নিতে নারী ও পুরুষকে সমানতালে চলতে হবে। পিছিয়ে পড়া নারীর যাত্রাকে আরো এগিয়ে নিতে সমাজের মানসিকতা পরিবর্তন জরুরি। নারীর এগিয়ে যাওয়ার লড়াই হবে পুরুষ নয়, পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার বাংলাদেশ প্রতিদিন আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এ অভিমত দেন।

‘নারী অধিকার ও বাংলাদেশে বাস্তবতা’ শীর্ষক বৈঠকটি হয় রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ইডাব্লিউএমজি মিলনায়তনে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক এবং বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল নিউজ টোয়েন্টিফোরের হেড অব কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স সামিয়া রহমান অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক পীর হাবিবুর রহমান।

সাবেক নারী ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী, বর্তমান সংসদ সদস্য মেহের আফরোজ চুমকি বলেন, প্রতিটি পেশাতেই নারীকে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে এগিয়ে যেতে হয়। রাজনীতিতে তো জীবন নিয়েই ঝুঁকি থাকে। এরপরও রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ছে।

সংসদ সদস্য সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি বলেন, নারীকে ঘরে-বাইরে সমানভাবে লড়তে হয়। পুরুষের চেয়ে নারীকে কয়েক গুণ বেশি প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হয়।

কালের কণ্ঠ সম্পাদক, বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন বলেন, পুরুষের মানসিকতা পাল্টাতে না পারলে অবস্থার পরিবর্তন হবে না। নারীরা এখন যোগ্যতা ও দক্ষতার গুণে অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছে। এ দেশের নারীদের পিছিয়ে থাকার কোনো সুযোগ নেই।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, পরিবর্তন শুধু দৃষ্টিভঙ্গিতে নয়, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও প্রয়োজন। পারিবারিক শিক্ষার ওপরই মানুষের আত্মবিশ্বাস গড়ে ওঠে।

মানবাধিকার আইনজীবী সালমা আলী বলেন, শ্রেণিকক্ষ থেকে গৃহ—প্রতিটি জায়গায় মেয়েরা বৈষম্যের শিকার হয়। প্রতিটি ক্ষেত্রে হেনস্তার শিকার হতে হয়। দেশে কার্যকর অনেকগুলো আইন আছে; কিন্তু আইনের প্রয়োগে সমস্যা আছে।

রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী অনিমা রায় বলেন, ‘পরিবারে সন্তানকে আত্মবিশ্বাসী এবং পরমতসহিষ্ণু করে গড়ে তুলতে হবে। আমার ছেলে যেন কোনো নারীকে হেয় না করে সেই শিক্ষা আমাকেই দিতে হবে।’

অভিনেত্রী বন্যা মির্জা বলেন, নারীকে পণ্য হিসেবে দেখার চিত্র বদলাতে হবে। শিল্প-সাহিত্যের ইতিহাস খুঁজলে দেখা যাবে নারীকে পণ্য হিসেবে উপস্থাপনের ভয়াবহ চিত্রটি। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বৈষম্যমুক্ত সমাজ গড়তে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে।

মন্তব্য