kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ মে ২০১৯। ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৮ রমজান ১৪৪০

হাওরে ডুবো সড়ক পাকা হচ্ছে কৃষকদের টাকায়

আলী আহমদ, জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ)   

৯ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের সর্ববৃহৎ নলুয়ার হাওরের পশ্চিমাংশে যাতায়াতের একটি ডুবো সড়ক স্থানীয় কৃষকদের অর্থায়নে পাকা করা হচ্ছে।

কৃষকদের দাবি সত্ত্বেও সরকারিভাবে ‘ত্রিশ’ নামের সড়কটি পাকা করার উদ্যোগ না নেওয়ায় এলাকাবাসী নিজেরাই উদ্যোগী হয়। জগন্নাথপুর পৌর এলাকার পাঁচ গ্রামের মানুষের অর্থায়নে নলুয়ার হাওরে শেরপুর থেকে হরতাজপুর পর্যন্ত সড়ক পাকা করার কাজ শুরু হয় গত ১৭ ফেব্রুয়ারি।

স্থানীয় কৃষকরা জানায়, নলুয়ার হাওরের পশ্চিমাংশের জগন্নাথপুর পৌর এলাকার শেরপুর থেকে নলুয়ার হাওরের হরতাজপুর পর্যন্ত তিন কিলোমিটার কাঁচা সড়কটি যান চলাচলের অনুপযোগী থাকায় বোরো মৌসুমে কৃষকদের ওই সড়ক দিয়ে ধান পরিবহন করতে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হতো। কারণ বোরো ফসল গোলায় তোলার সময় বৃষ্টিতে কাঁচা সড়কটি চলাফেরার আরো অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ওই সড়ক দিয়ে প্রতিবছর জগন্নাথপুর পৌর এলাকার জগন্নাথপুর, ইকড়ছই, ছিলিমপুর, বলবল, ভবানীপুর, যাত্রাপাশা গ্রামের কৃষকদের লক্ষাধিক মণ বোরো ধান পরিবহন করতে হয়।

উদ্যোক্তাদের একজন জগন্নাথপুর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ও শেরপুর এলাকার বাসিন্দা লুত্ফুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ সড়ক দিয়ে জগন্নাথপুর পৌর এলাকার পাঁচটি গ্রামসহ উপজেলার আরো কয়েকটি গ্রামের কৃষকদের বোরো ধান কাটার পর পরিবহন করা হয়ে থাকে। প্রতিবছর ধান আনতে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে আমরা সরকারি অর্থায়নে ডুবো সড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়ে এলেও তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় কৃষকরা নিজ উদ্যোগে সড়ক পাকা করা শুরু করেছে।’

যাত্রাপাশা গ্রামের বাসিন্দা ও পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দীপক গোপ জানান, শেরপুর, যাত্রাপাশা, ভবানীপুর, বলবল, ইকড়ছই—এই পাঁচ গ্রামের কৃষকরা নিজেদের অর্থায়নে সিমেন্ট, রড ও টাকা দিয়ে পাঁচ লাখ টাকার তহবিল সংগ্রহ করে। স্থানীয় একজন ঠিকাদারের মাধ্যমে শেরপুর আকলিছ মিয়ার বাড়ির সামন থেকে ৮০০ ফুট কাজ করা হয়েছে। হরতাজপুর পর্যন্ত আরো অবশিষ্ট অংশ অসমাপ্ত থাকবে।

কৃষক বকুল গোপ বলেন, ‘আমরা পাঁচ গ্রামের কৃষকরা নিজেদের অর্থায়নে কিছু অংশের কাজ করছি। অসমাপ্ত কাজ সরকারিভাবে করার দাবি জানাচ্ছি। না হলে আগামী বছর আরো টাকা তুলে কিছু অংশের কাজ করে এগোব।’

জগন্নাথপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র সফিকুল হক বলেন, ‘কৃষকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আমরা নলুয়ার হাওরে শেরপুর থেকে হরতাজপুর পর্যন্ত এলজিইডির (স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর) মাধ্যমে ডুবো সড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়েছিলাম। কিন্তু এলজিইডি কর্তৃপক্ষ উদ্যাগ না নেওয়ায় কৃষকরা নিজেরাই উদ্যোগী হয়ে কাজ শুরু করেছে, যা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।’ 

এলজিইডির জগন্নাথপুর উপজেলা কার্যালয়ের প্রকৌশলী গোলাম সারোয়ার কালের কণ্ঠকে বলেন, পরিকল্পনামন্ত্রীর নির্দেশে ডুবো সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মন্তব্য