kalerkantho

শনিবার । ২৫ মে ২০১৯। ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৯ রমজান ১৪৪০

ধর্ষণ মামলা করায় বাদীকে গ্রামছাড়া করার অভিযোগ

♦ বাগেরহাটে তরুণী অন্তঃসত্ত্বা
♦ অভিযুক্ত আ. লীগ নেতা

বাগেরহাট প্রতিনিধি   

৯ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাগেরহাটের রামপালে বিয়ের প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে আওয়ামী লীগ নেতার ধর্ষণের শিকার হয়ে এক তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় মামলা করায় ওই তরুণী ও তাঁর মা-বাবা প্রভাবশালীদের হুমকির মুখে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। উপজেলার উজলকুড় ইউনিয়নের ঝালবাড়ী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। তবে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতার দাবি, তিনি একটি হত্যা মামলার আসামি। প্রতিপক্ষ তাঁকে ঘায়েল করতে মিথ্যা ধর্ষণের অভিযোগ এনেছে।

অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম সাহেব আলী আকুঞ্জী। ষাটোর্ধ্ব সাহেব আলী আকুঞ্জী এলাকায় হাজি সাহেব নামে পরিচিত। তিনি রামপালের উজলকুড় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান কমিটির সদস্য। এ ছাড়া তিনি রামপাল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ মো. আবু সাঈদের শ্বশুর।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ধর্ষণের শিকার ওই তরুণীর টিনশেডের বাড়ির দরজায় তালা ঝুলছে। ওই বাড়ি লাগোয়া কয়েকটি বাড়িতে বেশ কয়েজন প্রতিবেশীর বসবাস। এই প্রতিবেদকের পরিচয় পেয়ে প্রতিবেশী এবং পার্শ্ববর্তী গ্রামের বেশ কয়েকজন নারী-পুরুষ জড়ো হন সেখানে। হুমকির ভয়ে মেয়েকে নিয়ে তাঁর মা-বাবা তিন দিন আগে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র গেছেন বলে প্রতিবেশীরা জানায়। উপস্থিত সবাই সাহেব আলী আকুঞ্জীর অপকর্মের অনেক অভিযোগ তুলে ধরে। সেখানে জড়ো হওয়া প্রতিবেশীরা এক বাক্যে সাহেব আলী আকুঞ্জীর বিচারের দাবি জানায়।

ঝালবাড়ী গ্রামে সাহেব আলী আকুঞ্জীর বাড়িতে গিয়ে তাঁর দেখা পাওয়া গেল না। দ্বিতীয় তলা বাড়ির উঠানে রাজমিস্ত্রিরা কাজ করছে। সাহেব আলী আকুঞ্জীর খবর জানতেই তারা বলল, হাজি সাহেব বাড়িতে নেই।

ওই তরুণীর বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে গত ৩ মার্চ বাগেরহাটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশ মেনে বৃহস্পতিবার মামলা রেকর্ড করেছে রামপাল থানা-পুলিশ। তবে এখন পর্যন্ত আসামি গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

জানা গেছে, ২০ বছর বয়সী ওই তরুণী অসহায় দরিদ্র পরিবারের। তাঁর বাবা একজন চা বিক্রেতা। দেড় বছর আগে এক যুবকের সঙ্গে পারিবারিকভাবে তাঁর বিয়ে হয়। সেখানে বনিবনা না হওয়ায় তিনি বাবার বাড়ি ফিরে আসেন। সাহেব আলী আকুঞ্জী তাঁকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে আগের স্বামীকে গত বছর ২৫ নভেম্বর তালাক প্রদান করান, এমন দাবি ওই তরুণীর।

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে বাগেরহাট প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করে ওই তরুণী অভিযোগ করেন যে প্রথমে বিয়ের প্রলোভন এবং পরবর্তী সময়ে জোরপূর্বক দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণ করায় তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। এই অবস্থায় তিনি সাহেব আলী আকুঞ্জীকে বিয়ের কথা বললে তাঁকে প্রাণে শেষ করার হুমকি দেন। বিচারের দাবিতে তাঁর বাবা বাদী হয়ে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। এরপর হুমকির মুখে তাঁরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে তাঁদের পরিবারের অভিযোগ।

তরুণীর দাবি, তাঁর গর্ভে সাহেব আলী আকুঞ্জীর সন্তান। তিনি এখন সাড়ে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তাঁর গর্ভের সন্তানকেও হত্যা করতে চায়, এমন অভিযোগ ওই তরুণীর। তিনি এর ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।

তরুণীর মা বলেন, ‘মেয়েকে বিয়ে করার আশা দিয়ে এই অবস্থা করেছে। এখন গ্রামে মুখ দেখাতে পারছি না। ধর্ষক এখন আমার মেয়েকে মেনে নিতে চায় না।’

সাহেব আলীর প্রতিবেশী মনিরা বেগম এবং নিলুফা বেগম বলেন, ‘সাহেব আলী আকুঞ্জী একজন ধনী ব্যক্তি। আমরা সাধারণ মানুষ তাঁর সামনে মাথা উঁচু করে কথা বলতে সাহস পাই না। সাহেব আলী আকুঞ্জীর সঙ্গে ওই তরুণীর সম্পর্কের বিষয়টি গ্রামের অনেকের জানা।’

রামপাল থানার ওসি শেখ লুৎফর রহমান জানান, এই মামলার আসামি সাহেব আলী আকুঞ্জী একটি হত্যা মামলার বাদী। সার্বিক বিষয়টি ব্যাপক অনুসন্ধান করা হচ্ছে। ভিকটিমের মেডিক্যাল পরীক্ষাসহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে বলে ওসি জানান।

মোবাইল ফোনে সাহেব আলী আকুঞ্জী তাঁর বিরুদ্ধে আনা ওই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, মেয়ের জামাই খাজা মঈন উদ্দিন আকতার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে মামলা দায়ের করায় ওই মামলার আসামিপক্ষ এবং তাদের লোকজন ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তাঁর বিরুদ্ধে এই মিথ্যা অভিযোগ তুলেছে।

মন্তব্য