kalerkantho

সোমবার । ২৪ জুন ২০১৯। ১০ আষাঢ় ১৪২৬। ২০ শাওয়াল ১৪৪০

‘আমিই এদের মেরেছি’

তিনজনকে পিটিয়ে হাসপাতালে নিয়ে গেলেন জামাতা
শাশুড়ির মৃত্যু, স্ত্রী আইসিইউতে, শ্বশুরের হাত ভেঙেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘আমিই এদের মেরেছি’

রাজধানীর গুলশানে শাশুড়ি, শ্বশুর ও স্ত্রীকে পিটিয়ে জখম করে জামাতা নিজেই তাঁদের মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যান। এঁদের কী হয়েছে—চিকিৎসক ও নার্সরা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমিই এদের মেরেছি।’

স্থানীয় শাহাবুদ্দিন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে জানান, শাশুড়ির মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে স্ত্রী হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। জামাতার আক্রমণে ভেঙেছে শ্বশুরের হাত।

অবশ্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সহায়তায় অভিযুক্ত সেই জামাতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত সোমবার এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।

স্বজন ও পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জামাতার পিটুনিতে নিহত ওই নারীর নাম রওশন আরা (৬৬)। তাঁর স্বামী আনোয়ারুল হক (৭৫)। তাঁদের মেয়ে আলিয়া ফারজানা (৩৬) গুলশানের শাহাবুদ্দিন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

জামাতা সাইফুল ইসলাম ভুঁইয়াকে গতকাল মঙ্গলবার আদালতের আদেশে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছে, পারিবারিক কলহের জের ধরে সাইফুল তাঁর স্ত্রীকে প্রায়ই নির্যাতন করতেন। এমন আচরণের প্রতিবাদ করে বিচ্ছেদের কথা বলায় সাইফুল কাঠ দিয়ে শাশুড়ির মাথায় আঘাত করেন। বাধা দেওয়ায় স্ত্রী ও শ্বশুরকেও পিটিয়ে জখম করেন।

গুলশান থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ঘটনাটি ঘটেছে গুলশানের ৩৭ নম্বর রোডের ৮ নম্বর বাড়িতে। পারিবারিক কলহের কারণে আলিয়া ফারজানা দেড়-দুই মাস ধরে তাঁর বাবার বাসায় অবস্থান করছিলেন। সোমবার সকালে সাইফুল তাঁর স্ত্রীকে আনতে শ্বশুরের বাসায় যান। সেখানে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তিনি তিনজনকে পিটিয়ে জখম করেন।

ওসি আরো বলেন, আনোয়ারুল হক বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। ওই মামলায় সাইফুলকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে গতকাল আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

আনোয়ারুল হক ও স্বজনরা বলেন, সাইফুল ও আলিয়ার ৯ বছরের একটি ছেলে এবং ছয় বছরের একটি মেয়ে আছে। সাইফুল একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন। তাঁর অনৈতিক সম্পর্কসহ কিছু বিষয় নিয়ে আলিয়ার সঙ্গে কলহ চলছিল। প্রায়ই আলিয়াকে মারধর করতেন সাইফুল। এ কারণে আলিয়া বাবার বাসায় চলে আসতেন। পরে পারিবারিকভাবে সমঝোতা করে আবার ফিরে যেতেন। প্রায় দুই মাস আগে আবার বাবার বাসায় আসেন আলিয়া। এবার কলহ তীব্র হওয়ায় আলিয়াকে স্বামীর বাসায় পাঠাতে অস্বীকৃতি জানান তাঁরা। বিচ্ছেদেরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এত ক্ষুব্ধ হন সাইফুল। সোমবার সকালে আলিয়া সন্তানদের স্কুলে দিয়ে বাসায় ফিরতেই সাইফুল তাঁদের বাসায় আসেন। এ সময় একটি কাঠের লাঠি নিয়ে শাশুড়ি রওশন আরাকে ব্যাপক পেটাতে থাকেন সাইফুল। বাধা দিতে গেলে আলিয়া ও আনোয়ারুলের ওপরও হামলা চালান সাইফুল। একপর্যায়ে নিথর হয়ে পড়েন রওশন। এরই মধ্যে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসে। তখন প্রতিবেশীদের চাপে সাইফুল নিজের গাড়িতে করেই আহত তিনজনকে শাহাবুদ্দিন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।

স্বজনরা জানায়, গতকাল রওশন আরার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে তাঁর লাশ সেখানকার হিমঘরে রাখা হয়েছে। রওশন আরার এক ছেলে ও দুই মেয়ে। মেয়েদের মধ্যে আলিয়া বড়। তাঁর ছেলে কানাডায় থাকেন। ছেলে দেশে ফিরলে রওশন আরার লাশ দাফন করা হবে বলে জানায় স্বজনরা।

মন্তব্য