kalerkantho

বুধবার । ২৬ জুন ২০১৯। ১২ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

নান্দাইলে ১৫০০ টাকার জন্য পিটিয়ে হত্যা!

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

১৯ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ময়মনসিংহের নান্দাইলে মাত্র এক হাজার ৫০০ টাকার জন্য এক দিনমজুরকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। পাওনাদার তিন সন্ত্রাসীর মারধরে গুরুতর আহত হিরন মিয়া (৩২) গতকাল  ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তিনি উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের জোয়ালভাঙ্গা গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে।

সরেজমিন জোয়ালভাঙ্গা গ্রামে গিয়ে জানা যায়, গত শুক্রবার রাত ১০টার দিকে প্রতিবেশী তিন সন্ত্রাসী বাবুল, কাদির ও সাগরের মারধরে গুরুতর আহত হন হিরন মিয়া। ওই রাতেই তাঁকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিন দিন অচেতন অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। সহায়-সম্বলহীন হিরনের মৃত্যুর খবরে পুরো বাড়িতে চলছে মাতম। মা ফাতেমা বেগম (৬০) হিরনের তিন শিশু সন্তান ইব্রাহিম (৮), ইসমাইল (৫) ও জুনাঈদকে (৩) বুকে আগলে ধরে আহাজারি করছেন। বলছেন, ‘এরারে নিয়া অহন আমি কিবায় চলবাম। কিবায় এরারে বাঁচাইয়া রাখবাম।’ হিরনের স্ত্রী রেখা আক্তার তখনো স্বামীর লাশ নিয়ে ময়মনসিংহ থেকে বাড়ির পথে ছিলেন।

হিরনের বড় ভাই রতন মিয়া বলেন, ‘আমি পেশায় ঘর মেরামতকারী (মিস্ত্রি)। স্থানীয় বারঘড়িয়া বাজারসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা ফরিদ মিয়ার ছেলে বাবুল মিয়াকে সঙ্গে নিয়ে নিজের ঘর মেরামত করেছি। পারিশ্রমিক বাবদ বাবুলকে টাকাও দিয়েছি। কিন্তু শুক্রবার বারঘড়িয়া বাজারে গেলে বাবুল আমার কাছে আরো এক হাজার ৫০০ টাকা দাবি করে তাৎক্ষণিক পরিশোধ করতে বলে। আমি তখন বাবুলকে হিসাবের খাতা দেখাতে ও আমার হিসাবের খাতা দেখতে বলি। এতে বাবুল ক্ষিপ্ত হয়ে বাজারে মাটিতে ফেলে আমাকে মারধর শুরু করে। এ সময় ছোট ভাই হিরণ এসে আমাকে রক্ষার চেষ্টা করলে বাজারের আশপাশের বাসিন্দা কাদির, সাগরসহ বাবুলের কয়েকজন সহযোগী হিরনকে লোহার রড ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। এতে হিরনের মাথা ফেটে যায় এবং দুই হাত ভেঙে গুঁড়িয়ে যায়।’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে রতন আরো বলেন, ‘আমার চোখের সামনেই ওরা হিরনকে পিটিয়ে নিস্তেজ করে বাজারের আঙিনায় ফেলে বীরদর্পে চলে যায়। পরে সংকটাপন্ন অবস্থায় হিরনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাই। আজ (গতকাল) ভোরে সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বারঘড়িয়া ও জোয়ালভাঙ্গা গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা বলে, হামলাকারীরা এলাকার উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি। ওরা বারঘড়িয়া বাজারসহ আশপাশের এলাকায় মাদকের কারবারে জড়িত।

নান্দাইল মডেল থানার উপপরিদর্শক আবদুস ছাত্তার বলেন, পুলিশ ঘটনার তদন্ত ও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের সদস্যরা থানায় মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা