kalerkantho

বুধবার । ২৬ জুন ২০১৯। ১২ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

প্রার্থী হচ্ছেন না বাম জোটের শীর্ষ নেতারা

১০৯ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত টার্গেট ২০০

নিখিল ভদ্র   

১৯ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) নেতৃত্বাধীন বাম গণতান্ত্রিক জোট ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত ২০০ বেশি প্রার্থী হচ্ছে না। ইতিমধ্যে জোটের বৈঠকে ১০৯ আসনের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। বাকি আসন নিয়ে আলোচনা চলছে। এদিকে আন্দোলনের অংশ হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিলেও প্রার্থী হচ্ছেন না জোটের শীর্ষস্থানীয় নেতারা। ইতিমধ্যে সিপিবি ৮৮টি আসনের প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রণয়ন করেছে। কিন্তু সেই তালিকায় পার্টির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম নেই।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ধারাবাহিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। জোট নেতারা মনে করেন, অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য বাম জোটসহ অন্য রাজনৈতিক দলের দাবিগুলো না মেনে তফসিল ঘোষণার মাধ্যমে একতরফা নির্বাচনের ফাঁদ পাতা হয়েছে। এর বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলন চলছে। একই সঙ্গে ওই ফাঁদে পা না দিয়ে আন্দোলনের অংশ হিসেবে এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা প্রয়োজন। সে লক্ষ্যে জোটের শরিকদের প্রস্তাবিত ২৬৮টি আসনের প্রার্থী তালিকা অনুযায়ী চূড়ান্ত তালিকা প্রণয়নের কাজ চলছে।

সিপিবি সূত্র জানায়, গত ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত সিপিবির দলীয় মনোনয়নের আবেদন জমা নেওয়া হয়েছে। প্রার্থী হতে আগ্রহী নেতারা তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে অর্থাৎ শাখা পর্যায় থেকে শুরু করে ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের কমিটির অভিমতের ভিত্তিতে আবেদন জমা দিয়েছেন। প্রাপ্ত আবেদনের ভিত্তিতে ৮৮ জনের প্রাথমিক তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। তবে পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম সেই তালিকায় নেই। অবশ্য কেন্দ্রীয় নেতারা নির্বাচনী এলাকায় কাজ করছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, জোটের অন্যতম শরিক বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) ৬৯ জনের তালিকা দিয়েছে। যেখানে পার্টির সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামানের নাম নেই। প্রার্থী হচ্ছেন না বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল হক। তারা ২৫ জনের তালিকা জমা দিয়েছে জোটের কাছে। এ ছাড়া গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু প্রার্থী হচ্ছেন না। গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টিসহ জোটের অন্যান্য শরিক বাসদ (মার্কসবাদী), গণসংহতি আন্দোলন, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ ও সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন শরিকদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করতে চায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক মো. শাহ আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সর্বশেষ আমরা ২০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে অগ্রসর হচ্ছি। জোটের শরিকদের দেওয়া তালিকা নিয়ে একের পর এক বৈঠক চলছে। সর্বশেষ গত রবিবার সন্ধ্যায়ও সিপিবি অফিসে বৈঠক হয়েছে। কিন্তু তালিকা চূড়ান্ত হয়নি। আগামী ২১ নভেম্বরের মধ্যে জোটের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।’

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল হক জানান, একাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য ৩০০ বেশি নাম এলেও শেষ পর্যন্ত ২০০ বেশি আসনে প্রার্থী দেওয়া সম্ভব হবে না। এর ওপর ৫০টির বেশি আসনে একাধিক প্রার্থী রয়েছে। তাই আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে তালিকা চূড়ান্ত করতে আরো দু-তিন দিন সময় লাগবে। তাঁর প্রার্থিতার বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে তিনি জানান।

সিপিবির কেন্দ্রীয় সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, জোটের শরিকদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে ১০৯ জন প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে বাকিগুলোরও চূড়ান্ত করা হবে। সিপিবি এককভাবে ৮৮ জনের তালিকা দিলেও জোটের স্বার্থে কয়েকটি আসনে ছাড় দেওয়া লাগতে পারে বলে তিনি জানান।

বাসদের কেন্দ্রীয় নেতা বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, ‘আমরা ৬৯ জনের নাম দিলেও শেষ পর্যন্ত জোটের প্রার্থী হিসেবে কতজন থাকবে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। আন্দোলন জোরদারের পাশাপাশি নির্বাচনে ভালো ফলাফলের জন্য জোটকে শক্তিশালী করার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হচ্ছে। দলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হচ্ছেন না বলেও তিনি জানান।

উল্লেখ্য, বাম জোটের তিনটি নিবন্ধিত দল রয়েছে। তারা দলীয় প্রতীক সিপিবির কাস্তে, বাসদের মই এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির কোদাল নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। এই তিন দল ছাড়া অন্য পাঁচটি দল জোটের শরিকদের প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে বলে জানা গেছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা