kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ মে ২০১৯। ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৮ রমজান ১৪৪০

গণবক্তৃতায় তাজীন মুরশিদ

ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক নীতির কারণে বাংলায় সাম্প্রদায়িক বিভাজন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১৮ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক নীতিই বাংলার মুসলমানদের আধুনিক শিক্ষায় নিরুৎসাহিত করেছে। উৎসাহিত করেছে মাদরাসা শিক্ষাকে। এ কারণেই ধর্মভিত্তিক পরিচয়ের প্রাধান্য ও সাম্প্রদায়িক বিভাজনের সৃষ্টি হয়েছে।

গতকাল শনিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘বাংলায় মুসলমান বুদ্ধিজীবী সমাজের বিকাশ’ শীর্ষক গণবক্তৃতায় এ মন্তব্য করেন কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির ভিজিটিং স্কলার অধ্যাপক তাজীন মুরশিদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের আর সি মজুমদার মিলনায়তনে এ বক্তৃতার আয়োজন করে রিডিং ক্লাব ট্রাস্ট ও জ্ঞানতাপস আব্দুর রাজ্জাক ফাউন্ডেশন।

অধ্যাপক তাজীন মুরশিদ বলেন, মাদরাসা ও মক্তবগুলোয় দেওয়া শিক্ষা ব্রিটিশদের জন্য সুবিধাজনক ছিল। কারণ তা ছিল মুসলমানদের ধর্মীয় পরিচয় সুদৃঢ়করণ ও পৃথক সম্প্রদায় হিসেবে দেখতে অভ্যস্ত করার জন্য একটা প্রয়োজনীয় কৌশল। তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকা হিন্দু মধ্যবিত্তের সঙ্গে নানামুখী প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে মুসলমান মধ্যবিত্তের বিকাশ হয়েছে। বিশেষ স্বার্থে আচ্ছন্ন রেখে মুসলমানদের ভারতীয় জাতীয়তাবাদ থেকে দূরে রাখা হয়।

তিনি বলেন, ভারতীয় জাতীয়তাবাদ আবির্ভূত হয় হিন্দু ধর্মের প্রতীকরূপে, যা ছিল মৌলিকভাবে মুসলমান সম্প্রদায়ের বিরোধী। আবার মুসলমানরা যখন উন্নতির জন্য সংগ্রাম শুরু করে, তখন বর্ণ হিন্দুদের প্রকাশ্য অবজ্ঞাপূর্ণ বৈরিতা তাদের ক্ষুব্ধ করে। বাঙালি ও মুসলমান পরিচয়ের মধ্যে একটি মৌলিক দ্বন্দ্ব, যা প্রথম প্রাচ্যবাদীরা উদ্ভাবন করেছিল, ক্রমান্বয়ে সবাই স্বীকার করে নিয়েছিল। বিশ শতকের প্রথমে বাঙালি মুসলমানকে বাঙালির পরিবর্তে মুসলমান পরিচয়ে চিহ্নিত করার মাধ্যমে সাংস্কৃতিক ভিত্তিকে বিসর্জন দিয়ে ধর্মভিত্তিক পরিচয়কে বড় করে তোলা হয়েছে।  

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গবেষক ড. গোলাম মুরশিদ। তিনি বলেন, ইংরেজি ‘ইনটেলেকচুয়াল’ ও ‘ইনটেলিজিন্সিয়া’ শব্দের মধ্যে তাৎপর্যগত পার্থক্য হলো ‘ইনটেলেকচুয়াল’ বলতে শিক্ষিত শ্রেণি আর ‘ইনটেলিজিন্সিয়া’ হলো সামাজিক দায়বদ্ধতা। উনিশ শতকে বাঙালি মুসলমানের মধ্যে ‘ইনটেলেকচুয়াল’ বা ‘ইন্টেলিজিন্সিয়া’ কোনোটাই সৃষ্টি হয়নি। আবদুল লতিফ, সৈয়দ আমীর আলী ছিলেন ব্যতিক্রম। বিশ শতকে সওগাত গোষ্ঠী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘শিখা গোষ্ঠী’র মাধ্যমেই মুসলমান সমাজে প্রথম ‘ইন্টেলিজিন্সিয়া’র উদ্ভব হয়েছে।

 

মন্তব্য