kalerkantho

সোমবার। ২৭ মে ২০১৯। ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২১ রমজান ১৪৪০

শেষ হলো ফোক ফেস্ট

লোকসংগীতের রত্নভাণ্ডার বিশ্বের কাছে তুলে ধরার প্রত্যয়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



লোকসংগীতের রত্নভাণ্ডার বিশ্বের কাছে তুলে ধরার প্রত্যয়

রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে ফোক ফেস্টের সমাপনী আয়োজনে গতকাল সংগীত পরিবেশন করে বার্সেলোনার ব্যান্ডদল লাস মিগাস। ছবি : কালের কণ্ঠ

মাটি ও মানুষের মরমি গানকে, তার বাণীকে সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বানে গতকাল শনিবার শেষ হলো লোকসংগীতের মহা আসর ‘ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ফোক ফেস্ট’। জমকালো এ আয়োজনে রাজধানীর বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশসহ সাতটি দেশের ১৭৪ জন শিল্পী অংশ নেন। শেষ রাতের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে ছিলেন পাকিস্তানি সুফি গায়ক শাফকাত আমানাত আলী। এ রাতে দলগত সংগীত পরিবেশন করে স্পেনের মেয়েদের ব্যান্ডদল লাস মিগাস ও বাংলাদেশের নকশীকাঁথা। একক কণ্ঠে গেয়ে শোনান বাংলাদেশের বাউল কবির শাহ্্ ও অর্ণব। সান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ও সান কমিউনিকেশনের আয়োজনে মেরিল নিবেদিত এ আয়োজনে সহযোগিতা করে ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড, গ্রামীণফোন ও রাঁধুনী।

উৎসবের প্রথম ও দ্বিতীয় রজনীর মতো গতকাল শেষ রজনীতেও হাজারো দর্শকের উপস্থিতিতে গোটা স্টেডিয়ামে ছিল উপচে পড়া ভিড়। আয়োজকরা জানান, লোকসংগীত দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক অতুলনীয় সম্পদ। এই সম্পদকে সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সান ফাউন্ডেশনের লক্ষ্য। আয়োজকরা এও আশা করেন, লোকসংগীত উৎসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ ধারার সংগীতের রত্নভাণ্ডার বিশ্বের কাছে পরিচিত হবে। বাড়বে দেশ ও জাতির সুনাম। 

গতকাল সমাপনী দিনের পরিবেশনার শুরুতে ছিল লোকগানের দল নকশীকাঁথার পরিবেশনা। পারকেশনসের সঙ্গে কণ্ঠে ছিলেন সাজেদ ফাতেমী, কাহন, ঢোল ও ডিজ্যাম্ব বাজান বুলবুল, অ্যাকুস্টিক গিটার, রাবাব ও দোতারায় ছিলেন সুমন, বেইজ গিটারে ছিলেন ফয়সাল এবং মেলোডিকা ও অ্যাকোরডিয়ানে ছিলেন রোমেল।

এরপর নেপালি লোকগানের ঢঙে তাঁরা পরিবেশন করেন রাধাকৃষ্ণের প্রেমকাব্য। ‘ও কি বন্ধু কাজল ভ্রমরা’, ‘নয়া বাড়ী লইয়া রে বাইদ্যা লাগাইল বাইঙ্গন’সহ আরো কয়েকটি গান গেয়ে শোনান তারা।

নকশীকাঁথার পর মঞ্চে আসেন বাউলসম্রাট শাহ্্ আবদুল করিমের শিষ্য বাউল কবির শাহ্। শুরুতে পরিবেশন করেন রাধারমণের ধামাইল ‘যে করেছে প্রেম পিরিতি, সেই জানে তার জ্বালা’। এরপর তিনি গেয়ে শোনান ‘কৃষ্ণ আইলো রাধার কুঞ্জে’, ‘তুমি ভাবিয়া দেখ মন’, ‘একদিন তোমার যাইতে হবে’, ‘কোন মিস্ত্রি নাও বানাইলো’ ও ‘তোমার লাগি সাজিয়াছি ফুলের বিছানা’ প্রভৃতি গান।

বার্সেলোনার চার মেয়ের ব্যান্ডদল লাস মিগাস এবারই প্রথম বাংলাদেশে এসেছে। লাস মিগাসের সংগীতকে নির্দিষ্ট কোনো ঘরানায় আখ্যায়িত করা না গেলেও অনেকেই তাদের গানকে মেডিটেরিয়ান ও আত্মার গান বলে থাকেন। চারজনের এ দলের কণ্ঠে ছিলেন বেগো সালাজার, গিটারে মার্তা রোবলস ও আলিশিয়া গ্রিলো এবং ভায়োলিনে ছিলেন রসার লসকস।

বাংলাদেশের শিল্পী হিসেবে এবারের আসরে সব শেষে মঞ্চে আসেন শায়ান চৌধুরী অর্ণব। অর্ণব জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা গান পরিবেশন করেন।

এবারের আসরের সব শেষ পরিবেশনা নিয়ে মঞ্চে আসেন পাকিস্তানের সুফি গানের শিল্পী শাফকাত আমানাত আলী। তাঁর গানের মধ্য দিয়েই শেষ হয় ঢাকা আন্তর্জাতিক লোকসংগীত উৎসবের চতুর্থ আসর।

 

মন্তব্য