kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ মে ২০১৯। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৭ রমজান ১৪৪০

চতুর্থ আন্তর্জাতিক জনগণের স্বাস্থ্য সম্মেলনে বক্তারা

স্বাস্থ্যনীতি ও পরিকল্পনায় উপেক্ষিত সংখ্যালঘু ও আদিবাসী জনগোষ্ঠী

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার (ঢাকা)   

১৮ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চতুর্থ আন্তর্জাতিক জনগণের স্বাস্থ্য সম্মেলন-২০১৮-এর দ্বিতীয় দিনে মূল অধিবেশনের পর পাঁচটি উপ-অধিবেশন এবং সাতটি বিষয়ভিত্তিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। সাভারের খাগান এলাকায় ব্র্যাক-সিডিএম মিলনায়তনে গতকাল শনিবার দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয় বিষয়ভিত্তিক এসব কর্মশালা।

মূল অধিবেশনের বিষয় ছিল ‘স্বাস্থ্যব্যবস্থা ধ্বংস বা বিকশিত করার সামাজিক ও ভৌত শর্তসমূহ’। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন পিএইচএমের সাবেক গ্লোবাল কো-অর্ডিনেটর ড. রবি নারায়ণ। এতে বক্তব্য দেন ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য আন্দোলনের কর্মী সাথাহ ওদেহ, অস্ট্রেলিয়ার ফ্লাইন্ডারস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফ্রান বাউম এবং মানবাধিকারকর্মী শিরিন হক। বক্তারা বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়ন ও অবনয়নের পেছনে সামাজিক ও ভৌত অবস্থার প্রভাব সম্পর্কে আলোকপাত করেন। ফিলিস্তিনের জনগণের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় দুর্বল অভিগম্যতার উদহারণ দিয়ে সাথাহ ওদেহ বলেন, ‘জনগণের স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়নে আর্থসামাজিক অবস্থার ভূমিকা ৪০ শতাংশ, বায়োলজিক্যাল ভূমিকা ১০ শতাংশ, ক্লিনিক্যাল প্রভাব ১০ শতাংশ এবং স্বাস্থ্য বিষয়ে সহযোগিতার ভূমিকা ৩০ শতাংশ।’ তিনি বলেন, ১৯৪৮ সাল থেকে ফিলিস্তিনের ওপর ইসরায়েলের দখলদারি এবং অধিকৃত অঞ্চলে দেয়াল তুলে ফিলিস্তিনিদের অবরুদ্ধ করে রাখায় তাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে। ৪০ শতাংশেরও বেশি ফিলিস্তিনি রোগী ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী কর্তৃক নিরাপত্তা পারমিট না পাওয়ায় উন্নত চিকিৎসাসুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে থাকে।

শ্রেণি, বর্ণ এবং জাত-পাতভিত্তিক সংখ্যালঘুদের স্বার্থে স্বাস্থ্যব্যবস্থার পুনর্গঠনবিষয়ক উপ-অধিবেশনে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতের স্বাস্থ্য আন্দোলন সংগঠন জনস্বাস্থ্য অভিযানের কো-অর্ডিনেটর এনবি সরোজিনি, বেনিনের স্বাস্থ্য আন্দোলনের কর্মী প্যাকোম টোমেটিসি এবং বাংলাদেশের দলিত মানবাধিকারকর্মী তামান্না সিং বাড়াইক। এতে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন। অধিবেশনে বক্তারা বলেন, বিশ্বব্যাপী দ্রুত উন্নয়নের মডেলে সংখ্যালঘু, আদিবাসীদের স্বার্থ একদিকে যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় নীতি ও পরিকল্পনায় এসব জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য উন্নয়নের বিষয়টি বাদ পড়ে যাচ্ছে। চা বাগানের উদাহরণ দিয়ে তামান্না সিং বাড়াইক বলেন, বাংলাদেশে চা জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যব্যবস্থা হতদরিদ্রদের চেয়েও খারাপ। প্রতিটি বাগানে কম্পানি কর্তৃক হাসপাতাল থাকলেও তাতে আধুনিক স্বাস্থ্যসেবার কোনো ব্যবস্থা নেই। সব ধরনের অসুখের জন্য একই ওষুধ প্রদান করা হয়ে থাকে। আবার দৈনিক ৮৫ টাকা বেতনের একজন চা কর্মীর পক্ষে বাগানের বাইরে বেসরকারি হাসপাতালেও চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ নেই। ‘জেন্ডার অ্যান্ড হেলথ’ শীর্ষক উপ-অধিবেশনে লাডা ভেইগান্ড ক্রোয়েশিয়ার নারী প্রজনন স্বাস্থ্যের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ক্রোয়েশিয়ায় গাইনোকোলজিক্যাল চিকিৎসার ব্যাপক বেসরকারীকরণের ফলে সন্তান প্রসবব্যবস্থা খুবই ব্যয়বহুল। এ ছাড়া স্বাস্থ্যব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত চিকিৎসক-কর্মকর্তাদের রোগীদের অবস্থাকে প্রাধান্য না দেওয়া এবং উদাসীনতার কারণে প্রসবকালীন নারীরা যথাযথ চিকিৎসা পায় না। ক্রোয়েশিয়ায় প্রতি তিনজনের একজন নারী স্বাস্থ্য খাতে দুর্বল ব্যবস্থার কারণে সন্তান নিতে আগ্রহী হয় না। অন্য বক্তারা নারী প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ে সারা পৃথিবীর চিত্র একই বলে মত দেন। তাঁরা কোনো ব্যক্তিগত ঘটনা মোকাবেলার চেয়ে পুরো পদ্ধতি পরিবর্তনের জন্য সরকারকে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান।

মন্তব্য