kalerkantho

শনিবার । ২৫ মে ২০১৯। ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৯ রমজান ১৪৪০

সম্পত্তি রক্ষায় সপরিবারে আত্মহত্যার হুমকি

ফেসবুক ভিডিও ভাইরাল

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা   

১৮ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সম্পত্তি রক্ষায় সপরিবারে আত্মহত্যার হুমকি

কুমিল্লায় পৈতৃক সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদ চেষ্টার প্রতিবাদে এবং দখলদারদের হাত থেকে জমি রক্ষায় ফেসবুকে ভিডিও আপলোড করে সপরিবারে আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছেন রাজা কামাল নামে এক ব্যক্তি। ‘হেল্পলেস’ শিরোনামে ছয় মিনিট ৫৭ সেকেন্ডের ওই ভিডিও ক্লিপসটি ফেসবুকে আপলোড হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তা ভাইরাল হয়ে যায়। রাজা কামাল কুমিল্লা মহানগরীর দক্ষিণ চর্থা থিরাপুকুর পার এলাকার প্রয়াত ফরিদ উদ্দিন আহমেদের ছেলে।

ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘আমি যে জায়গায় বসে আছি এটা আমার বাপ-দাদার সম্পদ। সিএস/আরএস খতিয়ান ও খাজনা রসিদ আমার নামে থাকা সত্ত্বেও বিএস খতিয়ানে কিছুটা ঝামেলা রয়েছে। এ ব্যাপারে আদালতে মামলা চলছে। তা সত্ত্বেও কিছুদিন পূর্বে আর্মির সার্জেন্ট পরিচয় দিয়ে আমাকে বাড়ি ছাড়ার হুমকি দিয়ে গালমন্দ করে। তিনি বলেন, এখান থেকে আমাকে উঠে যেতে হবে, ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ জায়গা ক্রয় করেছেন। আমার নামে তিনটি মামলা আছে, আমাকে এ বাড়ি থেকে যেকোনো মুহূর্তে চলে যেতে হবে। পরে আমি ক্যান্টনমেন্টে গিয়েছি, সেখান থেকে আমাকে বলেছে, এটা ভুয়া তথ্য। র‌্যাব অফিসে গিয়েছি, সেখান থেকে মামলা করতে বলা হয়েছে, করেছি। কিছুদিন পূর্বে সদর দক্ষিণ থানা ও ইপিজেড ফাঁড়ির পুলিশ আমার বাসায় এসে বলে, আমার নামে মামলা আছে; বাসা ছেড়ে দিতে হবে। না হয় আরো কয়েকটি মামলা দিয়ে আমাকে নিয়ে যাবে। জবাবে আমি বললাম, আমার বাপ-দাদার সম্পদ কেন ছেড়ে যেতে হবে? যদি যেতেই হয়; আমি সুইসাইড করব। পরে তারা আমার জিডির কপিটা নিয়ে চলে যায়। গতকাল (বুধবার) সকালে ইপিজেড ফাঁড়ির ইনচার্জ আমাকে কাগজপত্র নিয়ে সেখানে যেতে বলেন। আমি সকল কাগজপত্র এবং আমার উকিল সাহেবকে নিয়ে যাই। কিন্তু আমার কাগজপত্র না দেখে এক দিনের মধ্যে বাড়ি ছেড়ে দিতে বলে। সেখানে দেখি অন্তত ২০০ জন লোক জড়ো করা হয়েছে। আমি ভয়ে কিছু বলিনি, উকিল সাহেবকে নিয়ে কোনো রকমে ওইখান থেকে বের হয়ে চলে আসি। আমাকে বলা হচ্ছে কিছু টাকার বিনিময়ে বাড়ি ছেড়ে দেন, না হয় আপনাকে বাড়ি থেকে বের করে দেব। পরবর্তী সময়ে অনেকের দ্বারস্থ হয়েছি; কিন্তু কারো কাছ থেকেই সহযোগিতা পাইনি। তাই আমি আপনাদের জানাতে চাই, যদি আমাকে বাড়ি ছাড়তেই হয়—আমি আজকে দেখেন এই বিষের বোতল নিয়ে এসেছি। যদি যেতেই হয়—আমি আমার গর্ভবতী স্ত্রী ও আমার দুই সন্তানকে নিয়ে আত্মহত্যা করব। তবুও এ বাড়ি ছেড়ে আমি যাব না।’

ভিডিওটি ফেসবুকে আপলোড হওয়ার পর শুক্রবার বিকেলে নগরীর চর্থা এলাকায় গিয়ে কথা হয় রাজা কামালের ছোট ভাই ঠিকাদার মোহনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘টমসনব্রিজ এলাকায় আমার বড়-বাবা (পিতামহ) হাজি জৈনুদ্দিন সাহেবের ৩০৬ শতক ভূ-সম্পত্তি ছিল। সেখান থেকে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের হোস্টেলের জন্য ১৫০ শতক ভূমি তিনি বিনা মূল্যে একোয়ার (অধিগ্রহণ) করে দেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে কলেজটির স্থান পরিবর্তন করে শহরে প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় সরকার একোয়ারকৃত সম্পত্তি মূল মালিককে ফিরিয়ে দেয়। তবে কলেজটির তৎকালীন অধ্যক্ষ ড. আখতার হামিদ খান উক্ত সম্পত্তি মূল মালিককে ফিরিয়ে না দিয়ে তা কেটিসিসিএ লিমিটেডের সমবায় সমিতির সদস্যদের বিলিয়ে দেন। এ ছাড়া বাকি ১৫৬ শতক ভূমিও অন্যরা দখল করতে থাকে।’

এ প্রসঙ্গে রাজা কামাল বলেন, ‘জায়গা নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। কিন্তু এর সুরাহার আগেই আমাকে উচ্ছেদের জন্য হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। আমি এখন পুরোপুরি অসহায়। আমি আমার পৈতৃক সম্পত্তি ফেরত চাই।’

কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থানা ওসি মামুনুর রশিদ জানান, ওই জায়গায় ১৪৫ ধারা জারি করে আদালত পুলিশকে রিসিভার নিয়োগ করেছে। এখন এ জায়গা পুলিশের আওতায় থাকবে। কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে আদালতে যাবে।

১৪৫ ধারা জারি হলে ও পুলিশ রিসিভার হলে এক দিনের মধ্যে জায়গার মালিকানায় থেকে বসবাসকারী লোকদের চলে যাওয়ার হুমকি দেওয়া যায় কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি মামুনুর রশিদ বলেন, ‘পুলিশ এখন রিসিভার। আপনি আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলেন।’

আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোখলেছুর রহমান চৌধুরী জানান, পুলিশ যদি ওই জায়গায় বসবাসকারীদের এক দিনের মধ্যে তুলে দেওয়ার হুমকি দিয়ে থাকে তাহলে তারা জঘন্য অপরাধ করেছে। পুলিশের এ ব্যাপারে কোনো ক্ষমতা নেই। দেওয়ানি আদালতে ডিক্রি ছাড়া কাউকে উচ্ছেদ করা যায় না। উচ্ছেদ করতে হলে অনেক নিয়মকানুন আছে।

মন্তব্য